পেশা হিসাবে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// ক্যারিয়ার গঠনে অনেকের পছন্দের তালিকায় চলে এসেছে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং। বর্তমানে বিকাশমান আটোমোবাইল শিল্পের বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে প্রচুর দক্ষ অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন। আপনিও ইচ্ছা করলে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করে একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।

কাজের ধরন
অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ রয়েছে-উত্পাদন, সেলস এবং সার্ভিসিং। উত্পাদন ক্ষেত্রের কাজে আবার কয়েকটি ভাগ রয়েছে। যেমন—ডিজাইন, ড্রয়িং ও ক্যালকুলেশন। কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়াররাই মূলত এসব কাজ করে থাকেন। সেলস বিভাগে গাড়ি বিপণন, বিক্রয় ও বিতরণের কাজ করা হয়ে থাকে। এই বিভাগে ভালো করতেও কারিগরি জ্ঞান খুব ভালো থাকতে হয়। গ্রাহকের চাহিদা বুঝে সেই অনুযায়ী গাড়ি বাছাই করে তার ইঞ্জিন ও অন্যান্য বিষয়ে সার্বিক তথ্য গ্রাহককে অবহিত করার দায়িত্ব এই বিভাগের জনবলের। অন্যদিকে সার্ভিসিং বলতে মূলত ওয়ারেন্টি বা সার্ভিস ফির মাধ্যমে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মেরামত ও সার্ভিসিং করার কাজ বুঝানো হয়।

কাজের ক্ষেত্র
অটোমোবাইল শিল্পে কাজের ক্ষেত্র এখন বেশ বিস্তৃত। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে যেভাবে ইঞ্জিনের ব্যবহার বাড়ছে, তাতে দক্ষ কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে ২৫টিরও বেশি গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারা প্রতিনিয়ত বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করছে এবং এই শিল্পকে সমৃদ্ধ হতে সাহায্য করছে। আমাদের দেশে গাড়ি উত্পাদনের সুযোগও সৃষ্টি হচ্ছে। আমাদের দেশে কার সার্ভিস সেন্টারের তুলনায় অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের সংখ্যা বেশ কম। তাই এ সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ অনেক বেশি। এ বিষয়ে পড়ালেখা করে তাই সাধারণতই চাকরির জন্য বসে থাকতে হয় না।

যারা পরিবহন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা করেন, তাদেরও অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনের জন্য অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করে থাকেন। গাড়ি বিক্রির দোকানেও রয়েছে কাজের সুযোগ। আমদানি করা নতুন গাড়ি কিংবা রি-কন্ডিশন গাড়ির ত্রুটি সারাতে কাজ করেন তারা। তাছাড়া এ বিষয়ে পড়ালেখা করে বিদেশে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগও আছে। বিদেশে গাড়ির কারখানা থেকে শুরু করে গাড়ি মেরামতের গ্যারেজে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা প্রচুর।

আয়
সদ্য পাস করা অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষানবিশ ইঞ্জিনিয়ারের পদে যোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানভেদে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন পেতে পারেন। একজন অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারের বেতন সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। এ ছাড়া গাড়ি প্রস্তুতকারী কোম্পানিতে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ন্যূনতম বেতন এক লাখ টাকার বেশিও হতে পারে। মূলত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করবে বেতন।

অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও রয়েছে। এই বিষয়ে পড়ালেখা করে নিজ উদ্যোগে গ্যারেজও প্রতিষ্ঠা করা যায়। সেক্ষেত্রে সব খরচ মিটিয়ে স্থানভেদে মাসে ৫০ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। আর দেশের বাইরে কাজের সুযোগ তো রয়েছেই।

নিজস্ব সার্ভিসিং সেন্টার
অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়াররা চাইলে নিজেরাই প্রতিষ্ঠা করতে পারেন একটি কার সার্ভিস সেন্টার। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ পুঁজি সংগ্রহ করতে পারবেন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকেও। প্রয়োজনীয় শর্তাবলী পূরণ করতে পারলে এ খাতে দেশের প্রায় সব সরকারি-বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ দেবে।

পড়ালেখা
আমাদের দেশে বেশকিছু সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যেখানে অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর পড়ালেখার সুযোগ রয়েছে। আজকাল মেয়েরাও এই বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীকে ন্যূনতম এসএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কোর্স করতে সব মিলিয়ে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন হবে। তবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা করতে খরচ লাগবে প্রায় তিন লাখ টাকা।

যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা-ইন-অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করা যাবে:

১. ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও, ঢাকা-১২০৮।

২. বাংলাদেশে-সুইডেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, কাপ্তাই, রাঙামাটি।

৩. বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ই-৩৯৫, হাতেম খাঁ তমিজউদ্দিন রোড, রাজশাহী।

৪. শ্যামলী আইডিয়াল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ১৬/সি-ডি, ব্লক-ডি, নূরজাহান রোড, মোহাম্মদপুর।

৫. মটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, পল্লবী, মিরপুর-১২, ঢাকা।

৬. চিটাগাং টেকনিক্যাল কলেজ, ১২৯, মুরাদপুর, বিশ্বরোড, চট্টগ্রাম।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন