ভবিষৎ নেতৃত্ব ও মেধা পাচার রোধ

তাসনিম জাহান তণ্বী// নেতৃত্ব হল এমন এক সামাজিক প্রভাবের প্রক্রিয়া যার সাহায্যে মানুষ কোনও একটি সর্বজনীন কাজ সম্পন্ন করার জন্য অন্যান্য মানুষের সহায়তা ও সমর্থন লাভ করতে পারে। নেতৃত্ব মানুষের জন্য  একটি পথ খুলে দেওয়া যাতে তারা কোনও অসাধারণ ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে নিজেদের অবদান রাখতে পারে। যে কোনও পরিস্থিতিতে যে ব্যক্তি ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং কোনও সংস্থা বা সমাজের প্রত্যাশা পূরণকারী হিসেবে স্বীকৃতি পান, তিনিই কার্যকর নেতা।বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছরই অসংখ্য শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই পড়াশোনা শেষ করে সেখানে চাকরিতে ঢুকে পরবর্তী সময়ে সেখানকার স্থায়ী নাগরিক হয়ে যান।

এতে করে বাংলাদেশ প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মেধাবী শিক্ষার্থী হারাচ্ছে। সহজ কথায় বলতে গেলে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অনেক মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে।সাধারণত যুদ্ধ, সুযোগ সুবিধার অভাব, রাজনৈতিক অস্থিরতা বা জীবন যাপনের ঝুঁকির এড়াতে মেধা পাচার ঘটে থাকে। মেধা পাচারের কারণে একটি দেশ তার সবচেয়ে মেধাবী, জ্ঞানী, দক্ষ ও যোগ্য নাগরিককে হারায়।এর ফলে বাংলাদেশ অপূরণীয় ক্ষতির শিকার হচ্ছে এবং দেশ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। অপরদিকে দেশের নেতৃত্ চলে যাচ্ছে অযোগ্য  মানুষের হাতে৷এছাড়া দেশের বড়বড় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলোর নেতৃত্ প্রদানে বিদেশী নাগরিকদের নিয়োগ দিয়ে থাকে৷আর এভাবে দেশের মেধার অবমূল্যায়ন ঘটছে৷মেধাকে জাতির কল্যাণে প্রয়োগ করতে হবে।

আমাদের দেশ থেকে প্রতিবছর উচ্চশিক্ষার জন্য অনেক মেধাবী ছাত্র ইউরোপ-আমেরিকায় পাড়ি জমাচ্ছে। তাদের অনেকেই আর দেশে ফেরে না। এভাবে চলতে থাকলে দেশ এক সময় মেধাশূন্য হয়ে পড়বে। মেধা পাচার উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্যে হুমকি। দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, সম্পদের অভাব ইত্যাদি কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মানুষ দরিদ্রতার শিকার হচ্ছে। মেধা পাচার তাদের জন্যে ডেকে আনছে সমূহ সর্বনাশ। স্বদেশে পছন্দনীয় কাজের সুযোগ না থাকাসহ অন্যান্য সীমাবদ্ধতা মেধা পাচারের জন্যে দায়ী। বাংলাদেশও এ সমস্যার প্রত্যক্ষ শিকার। স্বাধীনতার পরে কয়েক লাখ দক্ষ মানুষ দেশ ত্যাগ করেছে বিদেশের রঙিন সম্ভাবনার হাতছানিতে। গত দু’দশকে বাংলাদেশে সরকারি খাতে মেধাবীদের নিয়োগ শ্লথ হয়ে পড়েছে।

এ সময়ে মেধা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতগুলো সফলতা দেখালেও তা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদি হওয়া যাচ্ছে না। কারণ নানা প্রতিবন্ধকতায় বেসরকারি খাতও কাঙ্ক্ষিতভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারছে না। মেধা পাচার রোধে সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোতে মেধাবীদের ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি ডাক্তার ও প্রকৌশলীসহ প্রশিক্ষিত জনশক্তিকে যাতে দেশে ধরে রাখা যায় কিংবা সাময়িকভাবে আরও প্রশিক্ষণ লাভ কিংবা অন্য কারণে কেউ বিদেশ গেলেও পরবর্তী সময়ে যাতে দেশে ফিরে আসতে আগ্রহী হয়, সরকারি এবং বেসরকারি খাতকে এমন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্বই বেশি। দেশে যাতে বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় সে ব্যাপারে উত্সাহ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের৷আর তাহলেই নিজেরা নিজেদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবো৷

লেখক: তাসনিম জাহান তণ্বী
শিক্ষার্থী, ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়