প্রযুক্তিখাত
একসাথে কাজ করবে এটুআই ও ৪ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

7

তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// জনগণের দোরগোড়ায় সহজে সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং সেবা পদ্ধতি সহজীকরণ নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এবং দেশের ৪ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।

মঙ্গলবার (১ আগষ্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আয়োজনে কার্যালয়স্থ সভাকক্ষে ৪ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এটুআই প্রোগ্রামের পৃথকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার।

এটুআই-এর পক্ষে প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি-এর পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক এম. এম. শহীদুল হাসান, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি-এর পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ মোঃ সালেহ উদ্দিন, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক-এর পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ জামিলুর রেজা চৌধুরী এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ-এর পক্ষে প্রো-উপাচার্য ডঃ চার্লস সি ভিলোনাভা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন।

এ সমঝোতা চুক্তির আওতায় ৪ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম যৌথভাবে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং কৌশল নির্ধারণ করবে যা সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও অধিদপ্তরের সেবাসমূহ জনগণের কাছে সহজে ও দ্রুত পৌছে দিতে সহায়ক ভুমিকা পালন করবে।

এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্ঞানের প্রায়োগিকভাবে ব্যবহার ও সম্প্রসারণ, গবেষণার মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা সমাধানে উদ্ভাবনী প্রকল্প ধারণা তৈরি এবং তা বাস্তবায়নে তাদের অংশগ্রহণ ইত্যাদি নানা ক্ষেত্রে এটুআই এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে এটুআই প্রোগ্রামের অর্জনসমূহ এবং নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন তাদের একাডেমিক কোর্সে অর্ন্তভূক্ত করবে।

যা তাত্ত্বিক জ্ঞানের সাথে ব্যবহারিক জ্ঞানের সমন্বয়ে দেশের সেবা ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ চুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে অনুঘটক ও সহায়ক হিসেবেও কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে এটুআই প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার বলেন, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজ করলে সরকারি সেবার মান যেমনি বৃদ্ধি পাবে, তেমনি জনগণের বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত জনগণের সরকারি সেবা পেতে সময়, খরচ ও যাতায়াত সংখ্যাও কমবে। গবেষণার মাধ্যমে সরকারি সেবাসমূহে উদ্ভাবনকে আরো বেশি উৎসাহিত করা যায় যা সেবা প্রদানকে আরো ত্বরান্বিত, স্বচ্ছ ও উন্নত করবে। আর এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণও বক্তব্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্যে, এটুআই প্রোগ্রামের উদ্যোগে ইতোমধ্যে দেশের স্বনামধন্য ৫ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ৭ টি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং আন্তজার্তিক পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয় ও সিংগাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিংগাপুর-এর সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশ এবং দক্ষতা উন্নয়ন সহ বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জনসমূহ তাদের একাডেমিক কোর্সে অর্ন্তভূক্তকরণ, উদ্ভাবিত ইনোভেশন লার্নিং প্রোগ্রামের উপর মাস্টার্স/ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান এবং তথ্য-প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয়ের উপর অষ্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে ৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, অধ্যাপকগণ, এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

টেকজুম ডটটিভি/২আগস্ট/এসআর