ত্রিমাত্রিক ম্যাপিংয়ের সহায়তা দেবে বুয়েটের ছাত্রদের বানানো রোবট

0

২০১২ সালে ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড প্রজেক্ট শোতে ত্রিমাত্রিক ম্যাপিং  এর একটা দারুন রোবট চোখে পড়ার পর ইমেইজ প্রসেসিং নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বেড়ে যায় বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগে অধ্যয়নরত আমিনুল হক খালেদ, মেহেদি হাসান, আশিক আকিফ এবং আব্দুল মুহাইমিনুন রহমান; এই চার শিক্ষার্থীর।

তখন এই ধরণের একটি রোবোট বানানোর সাহস করতে পারছিলনা তারা, কেননা সবেমাত্র ‘মাইক্রোকন্ট্রোলার’ নামক জিনিসটার সাথে পরিচিত হচ্ছিল। তবে ৩য় বর্ষে পদার্পণ করার পর তারা রোবট বানাবে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ভাবামাত্রই কোমর বেধে নেমে পরা। ক্যাড (CAD) ডিজাইনে পারদর্শী খালেদ রোবটের ডিজাইন, মোবাইল এপ্লিকেশনে দক্ষ আকিফ, ইলেক্ট্রনিক্সে দক্ষ মেহেদি কাঠামো দাড় করিয়ে কাজ শুরু করে দেন।

এই চার জন তরুণ একাধিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করেছেন এবং পুরস্কারও পেয়েছেন। ‘উন্মাদ’ নামের এই দলের বানানো রোবটটার নাম ছিল ‘অ্যান অ্যান্ড্রয়েড কন্ট্রোলড মোবাইল রোবট ফর লাইভ ইস্ট্রিমিং এন্ড স্টিরিও ভিশন উইথ রোবোটিক আর্ম’ (An Android Controlled Mobile Robot for Live Streaming and Stereo Vision with Robotic Arm)।

unmadteamএই রোবটের আলাদা আলাদা মূল ৩টি ফিচার নিয়ে প্রচুর কাজ হচ্ছে। এর মূল কাজ হলো কোন জায়গায় গিয়ে এর একটা ত্রিমাত্রিক ম্যাপ তৈরি করা। অর্থাৎ রোবটটি কোন স্থানে গিয়ে সেই স্থানের প্রতিটা পয়েন্টে যেসকল বস্তু রয়েছে সেগুলোর অবস্থান (আপেক্ষিক) একটা ত্রিমাত্রিক লেখচিত্রে (ম্যাপিং) দেখানোর চেষ্টা করবে। একই সাথে এটা সারভেইলেন্স রোবটের মতও কাজ করবে, মানে দূর থেকে ছবিগুলো ওয়াইফাই কানেকশনের মাধ্যমে সার্ভার কম্পিউটারে পাঠাবে।

রোবটটাকে ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য তারা একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানিয়েছেন যা মোবাইলের অ্যাকসেলেরোমিটার এর সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এই রোবটে চোখ হিসেবে মোবাইলের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে, মোবাইল এর ওয়াইফাই কিংবা ব্লুটুথ ব্যবহার করা এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল।

ওয়েবক্যাম ব্যবহার করলে বেশি ভালো হতো তবে এতে জটিলতা বাড়ত। ইমেজ প্রসেসিং এর জন্য ম্যাটল্যাব  প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেছেন তারা।

ত্রিমাত্রিক ম্যাপিং মূলত সিভিল ইনজিনিয়ারদের সারভেইং এ বেশী কাজে লাগে। অর্থাৎ কোন স্থানের উঁচু-নিচু অংশগুলো খুঁজে বের করা যায়। এছাড়াও কোন বস্তু বহনের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহার করা যাবে।

তারা মনে করেন, রোবোটিক্স নিয়ে এদেশে ভালোই কাজ হচ্ছে। তবে লাইন ফলোয়ার, গ্রিড সল্ভার, ড্রোন নিয়েই বেশি কাজ হচ্ছে। তাদের মতে রোবটিক্স নিয়ে আরও সৃজনশীল কাজ হওয়া উচিত, যার মাধ্যমে সমাজ এবং দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন