বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ আইন- ২০১৫ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ আইন-২০১৫ এর খসড়ারও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ সভায় এই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয়া হয়।
২০১০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গাজিপুর সফরকালে ঐ জেলায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগের শিক্ষা ও গবেষণাধর্মী ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

এরপর ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি এবং ৫ মার্চ শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দুটি সভায় ডিজিটাল ইউনিভার্সিটির ধারনা ও এই খসড়া আইন নিয়ে আলোচনা পর্যালোচনা করা হয়। সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি অনুমোদন দেয়।

চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আইন মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়।

সোমবার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া খসড়া আইনটি আইন মন্ত্রণালয়ের পুনঃভেটিং শেষে সরাসরি সংসদে চলে যাবে।
ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি আইন প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার টেকশহরডটকমকে জানান, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাবনা পেশ করি। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে অবশেষে তা বাস্তবায়নের একটি বড় পথ অতিক্রম করল।

তিনি জানান, গাজীপুর জেলার গোয়াল বাথান মৌজার ৫০ একর জায়গায় এটি স্থাপিত হবে। এলাকাটি কালৈয়াকৈর হাইটেক পার্ক সীমানায় রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রকল্প ব্যয় হবে ৩৭২ কোটি টাকা। ২ তলা ভবন, ছাত্রাবাস, আাবসিক স্থাপনাসহ নানান অবকাঠামো তৈরি হবে এতে। তবে এখন আইন অনুমোদন হওয়ায় বাজেটসহ পূর্ব প্রস্তাব পুনরায় পর্যালোচনা করার কথা রয়েছে।

এছাড়া বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল টেকনোলজি, বায়োটেকনোলজি, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট, অ্যাডভান্সড টেকনোলজি নিয়েও পাঠদান ও গবেষণা হবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছাড়াও গবেষকরা সম্পূর্ণ আবাসন সুবিধা এবং বৃত্তি ও ভাতা পাবেন।যেসব বাংলাদেশি বিদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তারাও এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ পাবেন।

এতে বলা হয়েছে, বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি দেশি-বিদেশি শিক্ষক-গবেষকদের আকৃষ্ট করতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন কাঠামো থাকবে।

পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তিনজন শিক্ষাবিদ নিয়ে উপাচার্য প্যানেল করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব পাঠাবে। তাদের মধ্য থেকে চার বছরের জন্য একজনকে উপাচার্য নিয়োগ করবেন রাষ্ট্রপতি।

আইনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে যে পদ্ধতিতে অপসারণ করা যায় জিডিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্কে সেভাবে অপসারণ করা যাবে না ।

আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের সর্বনিম্ন পদ হবে পিএইচডি অথবা সমমান ডিগ্রীধারীর সহকারী অধ্যাপক।

বিশেষায়িত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকর্ম দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে এবং বাংলাদেশের জাতীয় জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে অবদান রাখবে বলেও খসড়ায় বলা হয়েছে।

শিক্ষা গবেষণায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংযোগ স্থাপন করা হবে উল্লেখ করে খসড়ায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা সম্পন্ন।

ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মোস্তাফা জব্বার জানান, ২০০৯ সালে ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষে বিজ্ঞান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের সাথে আলোচনা করা হয়। এরপর ২৭ আগস্ট বর্তমান রূপসী বাংলা হোটেলে ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন যুগ্ম সচিব নিয়াজ ও কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সমঝোতা চুক্তি হয় ।

কিন্তু আইনী বাধার কারণে পিপিপিতে বিষটি আর এগোয়নি উল্লেখ করে এই সদস্য বলেন, এখন সরকার নিজে দায়িত্ব নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয় বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।আমরা আশাকরছি ঠিক সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়টির দৃশ্যমান রূপ দেখতে পাবো।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন