মডার্ন কম্পিউটিং ডিভাইজ স্মার্টফোন । বাজারে আজকাল এতোবেশি ফোন বেড় হচ্ছে, এতে একজন সাধারন ইউজারের নিজের জন্য সঠিক ফোনটি যাচায় করা খুবই মুশকিলের কাজ। তারপরেও আজকের দিনে আমরা অনেকটাই বুঝতে এবং জানতে শিখেছি। স্মার্টফোন কেনার আগে আমরা রিভিউ দেখে নেই, স্পেসিফিকেশন দেখে নেই এবং অনেকেরই একটি ফোনের সাথে আরেকটি ফোনের তুলনা করার মতো জ্ঞান রয়েছে।

প্রসেসর

স্মার্টফোনের প্রধান প্রাণ হচ্ছে প্রসেসর। প্রসেসরের উপর আপনার ফোনটি কতটা ভালো বা মন্দ হবে তার অধিকাংশ ব্যাপার গুলোই নির্ভর করে। হাই বাজেটের স্মার্টফোন কেনার চিন্তা থাকলে বাজারে সবচাইতে লেটেস্ট প্রসেসরের দিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ। মনে রাখবেন যতো লেটেস্ট প্রসেসর ততো ভালো পারফর্মেন্স দেবে এবং কম পাওয়ার ক্ষয় করবে। বর্তমানে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮২১, ৮২০, ৮১০, ৬৫২, ৬৫০; স্যামসাং এর এক্সিনস ৮৮৯০, মিডিয়াটেক হেইলো এক্স২০, এক্স২৫ ইত্যাদি খুব ভালো মানের প্রসেসর। মিড বাজেটের ফোন গুলোর ক্ষেত্রেও যতো নতুন প্রসেসর দেখতে পাওয়া যাবে ততোই ভালো। এখন ১৫-২০ হাজার টাকার ফোন গুলোতেই লেটেস্ট প্রসেসর দেখতে পাওয়া যায়। লো বাজেটের ফোন গুলোতে সাধারনত স্ন্যাপড্রাগন ৪১০, বা স্প্রেডট্র্যামের প্রসেসর দেখতে পাওয়া যায়। বেশি কোরের প্রসেসরকে ঠিকঠাক মতো পারফর্মেন্স দেখানোর জন্য প্রয়োজন বেশি র‍্যাম এবং সাথে বেশি ব্যাটারি লাইফ। অর্থাৎ আপনার ফোনের প্রসেসরে কোর বেশি থাকলে র‍্যাম ও বেশি থাকা প্রয়োজনীয় এবং ফোনের ব্যাটারিও বেশি খরচ হবে।

র‍্যাম
ফোনের র‍্যাম এমন একটি যন্ত্রাংশ যেটি ফোনের যেকোনো প্রসেস এবং অ্যাপস রান করাতে প্রসেসরকে সাহায্য করে। কম্পিউটারের র‍্যাম আর স্মার্টফোনের র‍্যাম একই ভাবে এবং একই ভুমিকায় কাজ করে। আজকের দিনে যেকোনো ফোনে ২ জিবি র‍্যাম থাকাটা আবশ্যক। কেনোনা নতুন অপারেটিং সিস্টেম এবং নতুন অ্যাপস গুলোকে রান করাতে একটু বেশি র‍্যাম প্রয়োজনীয়। আবার ফোনে ২ জিবি র‍্যাম থাকলেই যে আপনি ২ জিবিই ব্যবহার করতে পারবেন তেমনটা কিন্তু নয়। অপারেটিং সিস্টেম এবং ফোনের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ প্রসেস সবসময়ই অর্ধেক বা তার বেশি র‍্যাম দখল করে রাখে। হতে পারে ২ জিবি র‍্যামের ফোনে ৮০০ এম্বি-১জিবি অপারেটিং সিস্টেম নিজেই রিজার্ভ করে রেখেছে। আজকের দিনে ১৫-২০ হাজার টাকার বাজেট ফোনেই ৩-৪ জিবি র‍্যাম দেখতে পাওয়া যায় এবং বাজারে ৬-৮ জিবি র‍্যামের পর্যন্ত ফোন রয়েছে। আপাতত আপনার ফোনে ২ জিবি র‍্যাম হলেই কাজ চলে যাবে তবে ৩-৪ জিবি র‍্যাম থাকলে ফোনটিকে আরো ১-২ বছর বেশি ইউজ করতে পারবেন। ৬-৮ জিবি র‍্যামের প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে নেই। আপনার ফোন একদম লো বাজেটের হলেও সেখানে অন্তত ১ জিবি র‍্যাম থাকা আবশ্যক। ৩-৪ হাজার টাকার ফোনেও এখন ১ জিবি র‍্যাম থাকে। তবে ৫১২ এম্বি র‍্যামের ফোন কেনা একেবারেই বোকামি।

অ্যান্ড্রয়েড ওএস
ফোন কেনার সময় সবচাইতে লেটেস্ট অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ করায় উত্তম। যদি লেটেস্ট সম্ভব না হয় তবে এক ধাপ পুরাতন অপারেটিং সিস্টেম পছন্দ করতে পারেন। যেমন বর্তমানের সবচাইতে লেটেস্ট হলো অ্যান্ড্রয়েড ৭.০, যদিও মাত্র কতিপয় মডেলের ফোনে এই ওএস রয়েছে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ বা মার্সম্যালো বর্তমান সময়ের সর্বউত্তম পছন্দ হওয়া উচিৎ। ললিপপ বা কিটক্যাট এখনকার দিনে একেবারে ব্যাকডেট। দেখুন লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম থাকার অনেক ফায়দা রয়েছে। একে তো বর্তমানে প্রায় সকল অ্যাপস ডেভেলপাররা শুধু লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেমকে টার্গেট করেই তাদের অ্যাপস গুলো আপডেট করছে বা নতুন অ্যাপস তৈরি করছে আর দ্বিতীয়ত নতুন অপারেটিং সিস্টেম একটু বেশি নিরাপদ হয়ে থাকে। হ্যাকাররা কোন অপারেটিং সিস্টেমের দুর্বলতা খুঁজে বেড় করার জন্য একটু সময়ের প্রয়োজন পড়ে, এতে লেটেস্ট অপারেটিং সিস্টেম ব্যাবহারে হয়তো হ্যাকাররা এখনো কোন ত্রুটি খুঁজে পাই নি। এখনকার সদ্য রিলিজ হওয়া যেকোনো ফোনেই প্রায় অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি লো বাজেটের ফোন গুলোতেও অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

 

অপারেটিং সিস্টেম
অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার টিপস বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে মূলত তিন ধরনের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়; অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ ফোন, এবং আইওএস। সাধারনত নোকিয়া এবং মাইক্রোসফটের ফোন গুলো উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলে তবে আজকাল অনেক চাইনিজ ফোন ব্র্যান্ডেও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যায়। আইওএস শুধু মাত্র অ্যাপেল আইফোনের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন কারণ এটি অ্যাপেলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম এবং সম্ভবত অ্যাপেল কোম্পানি চান না যে, তার অপারেটিং সিস্টেম অন্য কোন কোম্পানি ব্যবহার করুক। আর অ্যান্ড্রয়েড সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই, নামীদামী কোম্পানি গুলো থেকে শুরু করে নামবিহীন ফোন গুলোতেও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়।

 

অপারেটিং সিস্টেম
অ্যান্ড্রয়েড ফোন কেনার টিপস বর্তমান স্মার্টফোন বাজারে মূলত তিন ধরনের প্রধান অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়; অ্যান্ড্রয়েড, উইন্ডোজ ফোন, এবং আইওএস। সাধারনত নোকিয়া এবং মাইক্রোসফটের ফোন গুলো উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেমে চলে তবে আজকাল অনেক চাইনিজ ফোন ব্র্যান্ডেও উইন্ডোজ ফোন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে দেখতে পাওয়া যায়। আইওএস শুধু মাত্র অ্যাপেল আইফোনের ক্ষেত্রে দেখতে পাবেন কারণ এটি অ্যাপেলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম এবং সম্ভবত অ্যাপেল কোম্পানি চান না যে, তার অপারেটিং সিস্টেম অন্য কোন কোম্পানি ব্যবহার করুক। আর অ্যান্ড্রয়েড সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই, নামীদামী কোম্পানি গুলো থেকে শুরু করে নামবিহীন ফোন গুলোতেও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম দেখতে পাওয়া যায়।

ফোনের জন্য কোন অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করবেন? এই সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে আপনার বাজেট, আপনার পছন্দ এবং আপনার ব্যাবহারের উপর। তবে ফোনের জন্য অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বেস্ট হবে। তবে আপনি যদি অ্যান্ড্রয়েড চালাতে চালাতে বিরক্ত হয়ে থাকেন বা অ্যান্ড্রয়েডের উপর ঘৃণা করেন, তবে উইন্ডোজ ফোন ইউজ করে দেখতে পারেন। উইন্ডোজ ফোনে সম্পূর্ণ আলাদা ইউজার ইন্টারফেস দেখতে পাবেন (উইন্ডোজ পিসি ইউজারদের কাছে সুবিধা জনক মনে হতে পারে), যেটি আপনার মন কারতে পারে।

জিপিইউ
স্মার্টফোনে সিপিইউ বা প্রসেসরের পাশাপাশি আরেকটি টার্ম রয়েছে সেটি হচ্ছে জিপিইউ বা গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। প্রসেসর ফোনের অভ্যন্তরীণ সকল বিষয় গুলোকে হ্যান্ডেল করলেও ফোনের গ্রাফিক্স, গেমিং পারফর্মেন্স, ফ্রেম পার সেকেন্ড ইত্যাদি জিনিষ গুলোকে জিপিইউ ম্যানেজ করে থাকে। তাই ভালো প্রসেসরের পাশাপাশি ভালো জিপিইউ থাকাটা প্রয়োজনীয়। লক্ষ্য করে দেখবেন, আপনার ফোনে জেনো লেটেস্ট জিপিইউ লাগানো থাকে। ভালো বাজেট এবং মিড বাজেটের ফোন গুলোতে জিপিইউ এর উপর বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজনীয়—কেনোনা পিসির মতো আপনি স্মার্টফোনে পরে ডেডিকেটেড জিপিইউ লাগাতে পারবেন না। যারা ফোনে গেমিং করতে ভালো বাসেন তাদের ফোনের ভালো জিপিইউ থাকা একদম ফরজ (আবশ্যক)। লো বাজেটের ফোনে জিপিইউ নিয়ে তেমন চিন্তা না করলেও হবে, তবে যতো লেটেস্ট জিপিইউ থাকে ততোই ভালো। তাছাড়া জিপিইউ নিয়ে আরো জানতে এই আর্টিকেলটি পড়তে পারেন।

ক্যামেরা
এখন স্মার্টফোনে ৫ মেগাপিক্সেল থেকে শুরু করে ২০ মেগাপিক্সেল এবং তার উপরের পর্যন্ত ক্যামেরা দেখতে পাওয়া যায়। যদিও কোন ক্যামেরার মেগাপিক্সেলই সর্বশেষ বিষয় নয়। ক্যামেরা ভালো বা খারাপ হওয়ার পেছনে ক্যামেরা সেন্সর, ইমেজ প্রসেসর, অ্যাপারচার, লেন্স ইত্যাদি বিষয়ে বিশেষ লক্ষ্য রাখা প্রয়োজনীয়। ক্যামেরা সেন্সর, ইমেজ প্রসেসর, অ্যাপারচার, লেন্স এবং মেগাপিক্সেলের গুরুত্ব নিয়ে আলাদা দুটি পোস্ট রয়েছে, যেটা পড়ে নেওয়া আবশ্যক।

 

ব্যাটারি
সঠিক কনফিগারেশন অনুসারে সঠিক ক্ষমতার ব্যাটারি থাকাটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। স্মার্টফোনে বর্তমানে ৪ হাজার থেকে শুরু করে ৬ হাজার এমএএইচ পর্যন্ত ব্যাটারি রয়েছে। ফোনের প্রসেসর শক্তিশালি হলে এবং প্রসেসরে কোর বেশি থাকলে অবশ্যই বেশি ব্যাটারি থাকা প্রয়োজনীয়। সর্বনিম্ন ফোনে সাড়ে ৩ হাজার এমএএইচ এর ব্যাটারি থাকতেই হবে তবে ৪ হাজার বা সাড়ে ৪ হাজার এমএএইচ হলে ভালো হয় এবং এর চেয়ে বেশি হলে তো কথায় নাই।

অনেকে সময় রিমুভেবল এবং নন রিমুভেবল ব্যাটারি নিয়ে চিন্তা করেন। ফোনের সবকিছুই ভালো লাগলো কিন্তু নন রিমুভেবল ব্যাটারি হওয়ার কারণে অনেকেই ফোনটি কেনা থেকে বিরত থাকেন। এটি মূলত ঘটে থাকে কিছু প্রচলিত এবং মনগড়া ভুল ধারণার কারণে। অনেকে মনে করেন নন রিমুভেবল ব্যাটারির ফোন হ্যাং হয়ে গেলে সমস্যা হয়ে যেতে পারে আবার অনেকে মনে করেন ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে বা কোন সমস্যা হলে বুঝি আর পরিবর্তনই করা যাবে না। আসলে এই দুইটিই ভুল ধারণা। প্রিমিয়াম ফিল পাওয়ার জন্য নন রিমুভেবল ব্যাটারিই সর্বউত্তম।

টেকজুম ডটটিভি/২৭আগস্ট/এমআইজে

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন