পিসি মাদারবোর্ড পরিচিতি

0

মতিউল ইসলাম হিল্লোল// মাদারবোর্ড বা মেইনবোর্ড হল কম্পিউটারের ভেতরে অবস্থিত সার্কিট বোর্ড যাতে সিস্টেম এর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ডিভাইস পরষ্পরের সাথে সংযুক্ত থাকে এবং নতুন ডিভাইস সংযুক্ত করার ব্যাবস্থা থাকে। কম্পিউটিং এর ভাষায় এই ডিভাইসগুলোকে বলা হয় পেরিফেরালস (Peripherals)। প্রযুক্তির উত্তোরোত্তর উন্নতির কারণে মাদারবোর্ড এর নিঁখুত সংজ্ঞা দেওয়া সম্ভব নয় কারণ প্রতিদিনই নতুন নতুন পেরিফেরালস মাদারবোর্ডে যুক্ত হচ্ছে। যখন থেকে কম্পিউটার এর সুচনা, তখন আজকের মাদারবোর্ড এর মত কোন কিছু ছিলনা। একেবারে প্রথমদিকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশগুলো একত্রে লাগানোর জন্য ‘ব্যাকপ্লেইন’ নামক ব্যাবস্থা রাখা হয়েছিল। এটা আসলে একটা পিসিবি বোর্ড যাতে অনেকগুলো কানেক্টর থাকত (আজকের মাদারবোর্ড এ যেমন কয়েকটা পিসিআই পোর্ট থাকে), এই কানেক্টরগুলোতে বিভিন্ন প্রসেসিং ডিভাইস, স্টোরেজ ডিভাইস ইত্যাদি লাগানো যেত। অর্থাৎ সবগুলো আলাদাভাবে যুক্ত থাকত এবং তাদের একত্রিত করতে ব্যাকপ্লেইন ব্যাবহৃত হত। এর সাথে ‘সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার’ অর্থাৎ প্রসেসিং অংশটুকু লাগালেই তা পরিপুর্ণ কম্পিউটার হয়ে যেত। নিচের ছবিটাতে ব্যাকপ্লেইন আর সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটার অংশটুকু দেখানো হল। ব্যাকপ্লেইন এর সুবিধা ছিল যে কানেক্টর যতক্ষণ ভালো থাকত ততক্ষণ ইচ্ছামত ডিভাইস লাগানো বা খোলা যেত। এতে তারের কোনো ঝামেলা ছিলনা। আর কোন অংশ নষ্ট হলে সেইটুকু পরিবর্তন করলেই হত। তবে এর সীমাবদ্ধতা যা তা হল ব্যাকপ্লেইনের মাধ্যমে তত্বীয়ভাবে অসংখ্য ডিভাইস কানেক্ট করানো সম্ভব। কিন্তু সকল প্রসেসর, ইনপুট আউটপুট ডিভাইস ইত্যাদি এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। এই কারণে ১৯৮০ সালের পর থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক পোর্ট ও ডিভাইস নিয়ে মাদারবোর্ড নামক ধারণা চলে আসে। পিসিবি বোর্ড তখন থেকে সহজলভ্য হওয়ার কারণে সার্কিট বোর্ডে আবশ্যক পেরিফেরাল যুক্ত করে মাদারবোর্ড তৈরি করা শুরু হয়। একেবারেই শুরুর দিকে যেসব কোম্পানি মাদারবোর্ড তৈরী করত তাদের মাঝে Micronics, Mylex, AMI, DTK, Orchid Technology, Elitegroup ইত্যাদি পরিচিত ছিল। এরা প্রায় সকলেই জাপানের তাইওয়ানের কোম্পানি ছিল। কিন্তু পরে অ্যাপেল আর আইবিএম এর দাপটে এরা টিকতে পারেনি, কারণ অ্যাপেল আর আইবিএম তাদের মাদারবোর্ড এ অনেক বেশি সুবিধা দেওয়া শুরু করে। ১৯৯৭ এ ইনটেল প্রসেসর তৈরীর পাশাপাশি মাদারবোর্ড তৈরীতে হাত দেয়।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন