অ্যান্টি-ভাইরাস কেনায় সতর্কতা

0

হয়তো ভাবছেন একটি অ্যান্টিভাইরাস কেনার সময় কোন কোন বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। আসলে বেশিরভাগ ক্রেতাই বিষয়টি ঠিক জানেন না। এর ফলে এরা ভাইরাস আক্রমণসহ অন্যান্য নানা সমস্যার মুখোমুখি হন।

বিভিন্ন ধরনের হুমকি থেকে আপনি কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন যা প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে আপনার কমপিউটারকে আক্রমণ করার জন্য টার্গেট করে আছে। এমন অবস্থায় আপনার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম কেনা। একটি অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম কেনার আগে আপনাকে কী কী বিষয় জানতে হবে?

অ্যান্টিভাইরাস কেনার ক্ষেত্রে এই দিকনির্দেশনাটি আপনার জন্য যথেষ্ট সহায়ক হবে। আপনার কমপিউটারের জন্য সবচেয়ে উপযোগী একটি অ্যান্টিভাইরাস ও অন্যান্য সফটওয়্যার খুঁজতে পারেন।

দাম
এটি বলার অপেক্ষা রাখে না, অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কেনার ক্ষেত্রে সবার আগে লক্ষ করার বিষয় হলো সফটওয়্যারটির দাম। আপনি বেশি দামে সব ভার্সন ও ফিচারসহ একটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কিনতে পারেন। কিছু সফটওয়্যার বিনামূল্যেও পাওয়া যায়। আবার কোনো কোনোটির দাম শত শত ডলার পর্যমত্ম হয়ে থাকে। কমপিউটারকে নিরাপদ রাখার জন্য সবসময় খুব দামি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কেনার দরকার হবে, এমনটি নয়। আপনি একটি যৌক্তিক দাম বা অবস্থাভেদে বিনামূল্যের সফটওয়্যারও অনায়াসে ব্যবহার করতে পারেন।

ই-মেইল স্ক্যানিং
সবচেয়ে উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের প্রধান একটি ফিচার হলো ই-মেইল স্ক্যানিং। এটি এমন একটি বিষয়, যা আপনার কমপিউটার হার্ডড্রাইভের ডাটা মুছে ফেলা থেকে রক্ষা করতে পারে বা ব্যক্তিগত ডাটা উঁকিঝুঁকি মারা চোখের (স্পায়িং আইজ) অমত্মরালে রাখতে পারে। স্প্যামগুলো লিঙ্ক আকারে বা অ্যাটাচড ফাইল বা ফোল্ডার আকারে এসে আপনার কমপিউটারে আক্রমণ করতে পারে। যখন এ ধরনের একটি হুমকি পাওয়া যায়, তখন আপনার মেসেজটি ওপেন বা মেসেজ লিঙ্কে ক্লিক করার আগেই ‘অ্যান্টিভাইরাস ই-মেইল স্ক্যান’ আপনাকে সতর্ক করতে পারে।

ডাউনলোড প্রোটেকশন
এ তালিকার অত্যমত্ম গুরম্নত্বপূর্ণ একটি ফিচার হলো ডাউনলোড প্রোটেকশন। ফাইলগুলো অত্যমত্ম বিপজ্জনক উপাদান বহন করতে পারে। তাই আপনাকে এমন একটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার বেছে নিতে হবে, যাতে ফাইল ডাউনলোড স্ক্যানিং সুবিধা থাকে।

স্পাইওয়্যার/ম্যালওয়্যার স্ক্যান
উন্নতমানের অ্যান্টিভাইরাস টুল শুধু ভাইরাসের খোঁজে বা ভাইরাস আক্রমণ থেকে আপনার কমপিউটারকে রক্ষাই করবে না, বরং এটি স্পাইওয়্যার ও ম্যালওয়্যারের দিকেও অত্যমত্ম সতর্ক দৃষ্টি রাখে। এগুলো হলো ভাইরাসগুলোর নিকৃষ্ট সহযোগী, যা কমপিউটারের ক্ষতি করতে পারে ও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে। সাধারণ ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময়ও এ ধরনের ফাইল ও প্রোগ্রামগুলো আপনার কমপিউটারে চলে আসতে পারে এবং অত্যমত্ম সংগোপনে পেছন থেকে কমপিউটার সিস্টেমে গ-গোল পাকাতে পারে। একটি স্ক্যানার এ ধরনের গোপনীয় হুমকি থেকে আপনার সিস্টেমকে রক্ষা করতে পারে।

স্পিড বা গতি
লক্ষ করুন, আপনার কমপিউটার স্ক্যান করতে কতটা সময় নেয়। যেসব প্রোগ্রাম ‘কুইক স্ক্যান’ বা ‘স্পিডি স্ক্যান’ সুবিধা দেবে সেগুলো নিঃসন্দেহে ভালো অ্যান্টিভাইরাস। যার ফলে আপনি মুহূর্তের নোটিসে রান করিয়ে আপনার সিস্টেম চেক করতে পারবেন। এগুলো তাদের জন্য খুবই উপকারী যারা কমপিউটারে খুব বেশি সময় ব্যয় করেন না। যদিও কুইক স্ক্যান ব্যাপকভাবে আপনার সিস্টেমকে স্ক্যান করবে না, কিন্তু সিস্টেমের অবস্থা সম্পর্কে মোটামুটি চলনসই একটি ধারণা দেবে।

মানানসই বা কম্প্যাটিবিলিটি
আরও একটি গুরম্নত্বপূর্ণ বিষয়ে লক্ষ রাখতে হবে, তাহলো আপনি যে অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারটি কিনছেন তা আপনার কমপিউটারের সাথে মানানসই কি না। যারা সাধারণত অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার কিনতে অভ্যসত্ম নন, খুব সহজেই এ বিষয়টি তাদের নজর এড়িয়ে যেতে পারে। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীদের জন্য বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ উইন্ডোজের বিভিন্ন ভার্সনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যায়। যদিও ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারকারীরা অনেক সময় কিছুটা কম্প্যাটিবিলিটি নিয়েও চলতে পারেন। অপারেটিং সিস্টেমের জন্য উপযুক্ত অ্যান্টিভাইরাস না কিনলে আপনার টাকা অযথা গচ্ছা যাবে এবং এটি আপনার কমপিউটারকে যথাযথভাবে স্ক্যান করতে ও রক্ষা করতে পারবে না।

প্রাইভেসি পলিসি
আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, কিছু বড় বড় অ্যান্টিভাইরাস ও কমপিউটার সিকিউরিটি প্রোগ্রাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত তথ্যভার গড়ে তুলেছে। আপনাকে সতর্ক হতে হবে এ ব্যাপারে যে, আপনি কাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছেন। আপনাকে অবশ্যই অ্যান্টিভাইরাস কেনার আগে নির্মাতা কোম্পানির প্রাইভেসি পলিসি ভালো করে পড়ে দেখতে হবে। এ ব্যাপারে আপনি কোম্পানিকে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারেন বা আপনার আইনজীবীকেও জিজ্ঞাসা করতে পারেন, আপনার ডাটা শেয়ার বা বিক্রি করা হবে কি না এবং হলে তা কীভাবে ও কতটুকু হবে, কার কাছে হবে ইত্যাদি।

ফ্রি ট্রায়াল
আপনি এমন একটি অ্যান্টিভাইরাস কিনতে পারেন, যা আপনাকে ফ্রি ট্রায়ালের সুবিধা দেবে। এর ফলে আপনি অ্যান্টিভাইরাসটির সুবিধা-অসুবিধাগুলো ও আপনার জন্য উপযোগী কি না তা বুঝতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায়, ফ্রি ট্রায়ালে সবগুলো ফিচার ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এ ধরনের অ্যান্টিভাইরাসকে আদর্শ বলা যাবে না। তাই এমন একটি অ্যান্টিভাইরাসের খোঁজ করুন, যাতে যা কিছু আছে তার সবকিছুই এক নজরে দেখা যায়। কারণ অনেক সময় পণ্যের স্বচ্ছতা টাকার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

রিয়েল টাইম তথ্য
এটি খুবই উপকারী হতে পারে যদি অ্যান্টিভাইরাসটিতে রিয়েল টাইম স্ক্যানিংয়ের তথ্য পাওয়া যায়, যখনই আপনার দরকার হবে ঠিক তখনই। কিছু অ্যান্টিভাইরাস প্রোগ্রাম ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করতে পারে ও স্ক্যান করার সময় বিরতি দিতে পারে বা নির্দিষ্ট সময়ে অ্যান্টিভাইরাসটি বন্ধ রাখা বা অন করার সুবিধা আছে। এ ব্যবস্থা ওই সব ব্যবহারকারীর জন্য খুবই সুবিধাজনক হয়ে থাকে, যারা নিয়মিতভাবে ব্রাউজ করে, ই-মেইল চেক করে বা ফাইলগুলো ডাউনলোড করে থাকে। এটি আপনার প্রতিদিন, প্রতি ঘণ্টায় সফটওয়্যারটি বুটিং হওয়ার সময় বাঁচাতে পারে।

পেমেন্ট শর্তাবলী
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষ করতে হবে। তা হলো অ্যান্টিভাইরাসটির পেমেন্টের শর্তাবলী কেমন। কিছু অ্যান্টিভাইরাসের দাম এককালীন পরিশোধ করতে হয়। কিছু মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিশোধ করতে হয়। আপনাকেই বেছে নিতে হবে, কোন প্যাকেজটি আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন