‘খুব শিগগিরই দেশেই তৈরি হবে ওয়ালটনের স্মার্টফোন’

0

স্মার্টফোনের বাজারে ওয়ালটন প্রবেশ করেছে খুব বেশিদিন হয়নি। ২০১২ সালের অক্টোবরে স্মার্টফোনের বাজারে আসার পর অল্প সময়েই একটি ভালো অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে দেশীয় এই ব্র্যান্ডটি। গুণগত মানের পাশাপাশি তুলনামূলক কমদামের কারণেই শক্ত অবস্থান গড়তে সক্ষম হয়েছে ওয়ালটন। বর্তমান বাজারে ওয়ালটনের অবস্থা, ফোনের শেয়ার, বিক্রয়োত্তর সেবা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে টেকজুম ডটটিভির সঙ্গে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ইঞ্জিঃ আরিফুল হক রায়হান। তিনি গত পাঁচ বছর যাবৎ কর্মরত রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটিতে। তাঁর সাক্ষাতকার নিয়েছেন মিরাজুল ইসলাম জীবন

কেমন আছেন। বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?
আরিফুল হক রায়হান: এইতো ভালো আছি। যেহেতু কাজ করছি মোবাইল ব্র‌্যান্ড ওয়ালটনের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে সেহেতু নতুন ফিচারফোন, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এগুলো নিয়েই বেশিক্ষণ থাকতে হয়। এছাড়াও ফোনের ওয়েব কনটেন্ট প্রিপারেশন থেকে শুরু করে বিজনেজ কমিউনিকেশনসহ যত ধরনের টুলস ও সফটওয়‌্যার দরকার হয়, এ কাজগুলোও দেখতে হয়। এভাবেই কেটে যাচ্ছে দিনের অধিকাংশ সময়।

দেশীয় ব্র‌্যান্ড হিসেবে স্মার্টফোনের বাজারে ওয়ালটনের অবস্থান সম্পর্কে বলুন।
আরিফুল হক রায়হান: সাধারণত আমরা যেহেতু  রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করি। সেই সুবাধে মার্কেট সম্পর্কে একটু বেশিই জানা থাকে। বর্তমানে নিজেদের মার্কেট জরিপের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সার্ভে রিপোর্টও আমরা গ্রহণ করি। সেখান থেকে পজেটিভ নেগেটিভ যাই আসুক না কেন বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে থাকি। সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সার্ভে প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী ওয়ালটন প্রাইম ক্যাটাগরি ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে দেশীয় ব্র‌্যান্ড হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। এ জরিপ প্রতি তিন মাস পর পর করে ইন্টারন্যাশনাল ডাটা কর্পোরেশন (আইডিসি)। কোয়ানটিটি ও কাস্টমার সন্তুষ্টির উপর নির্ভর করে এ রিপোর্ট  দেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশের লোকাল ব্র‌্যান্ডগুলির অবস্থা নিয়ে রিপোর্ট করে।

আমি আপনাদের আরো একটি সুখবর দিয়ে রাখি খুব শিগগিরই মেড ইন বাংলাদেশের সিল লাগবে ওয়ালটনের ফোনে। কারণ এখন অ্যাসেম্বলিং হয় চীনে। চলতি বছরেই সব অ্যাসেম্বলিং হবে বাংলাদেশে।

ওয়ালটনের স্মার্টফোনের মার্কেট শেয়ারের কী অবস্থা।
আরিফুল হক রায়হানঃ বর্তমানে ওয়ালটন শুধু স্মার্টফোনই নয়, ফিচার ফোন, ট্যাবলেট নিয়েও বাজারে প্রতিদন্দ্বিতা করছে।  বাংলাদেশের বাজারে তিন ধরনের স্মার্টফোন আছে। প্রথমত, ইকোনমিক বা এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন,যার দাম ৩,০০০ টাকা থেকে ৭,০০০ টাকার ভেতর। দ্বিতীয়ত মিড লেভেলের ফোন, যার দাম ৭,০০০ হাজার টাকা থেকে ২০,০০০ টাকার নিচে। এর ভেতর, সাত হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকা মূল‌্যমানের স্মার্টফোনকে ‘লো মিড রেঞ্জ’ আর ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ‌্যের স্মার্টফোনগুলোকে বলে ‘আপার মিড রেঞ্জ’। তৃতীয়ত, প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির ফোন, যার দাম ২০ হাজার টাকার ওপর। এখন ওয়ালটনের সবচেয়ে বেশি মনোযোগ হচ্ছে লো মিড রেঞ্জ থেকে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির ফোনের প্রতি। যার অবস্থান ও শেয়ার বর্তমানে ভালোই রয়েছে।

বিক্রয়োত্তর সেবায় কাস্টমার সন্তুষ্টি কতটুকু অর্জন করতে পেরেছে ওয়ালটনের ফোন?
আরিফুল হক রায়হান: ওয়ালটনের মোবাইল ফোনের বাজারটি খুব বেশি দিনের নয়। আমরা ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ফিচার ফোন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করি। আর স্মার্টফোনের বাজারে ২০১২ সালের অক্টোবর মাসে আমাদের জন্য একটি মাইলফলক বলতে পারি। এ মাসেই আমরা প্রথম ওয়ালটনের প্রিমো সিরিজ লঞ্চ করি। তখন লোকাল ব্র‌্যান্ড বলতে শুধু সিম্ফনিই ছিলো। যদি একটু পেছনের দিকে তাকাই তাহলে শুরুর জার্নিটা খুব একটা ভালো ছিলো না। তখন দেশে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ব্র‌্যান্ড বাজারে অবস্থান করছিল। সেই সাথে অন্য ক্যাটাগরির মধ্যে নকিয়ার ফিচার ফোনের দিক থেকে সেরা। তখন আমাদের মার্কেটে আসা চ্যালেঞ্জ ছিলো। কিন্তু আমরা খুব ভালোভাবে এই চ‌্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পেরেছি। এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের ডেডিকেশন, কোয়ালিটি অব সার্ভিস ও হিউজ রেঞ্জের পণ্য থাকার কারণে। আর দেশের মানুষের প্রয়োজন আমরা বুঝতে পেরেছি। সে অনুযায়ী ওয়ালটন এগিয়ে যাচ্ছে।

এর ধারাবাহিকতায় বাজার সম্প্রসারণ করে আমরা প্রিমো সিরিজ এগিয়ে নেই। একই সঙ্গে প্রতি বছর ফিচার ফোনসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য ব্র‌্যান্ডের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন স্মার্টফোন বাজারে এনেছি।  এর মধ্যে প্রিমো এক্স১, প্রিমো এক্স২, প্রিমো এক্স৩ এবং এক্স থ্রি মিনি যা বাংলাদেশে সবচেয়ে পাতলা ফোন ছিলো তখন। এগুলো ওয়ালটন উপহার দিয়েছে। এসব ফোন বাজারে ছাড়ার পরে দেশীয় ব্র‌্যান্ড হিসেবে অনেক সাড়া পেয়েছি। সঙ্গে গ্রাহকের কিছু চাহিদাও ছিল, যেমন লেটেস্ট আপডেট, ফার্মওয়‌্যার আপডেট । প্রথম দিকে যথেষ্ট ম্যানপাওয়ার বা লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকার কারণে সেই চাহিদা হয়তো পুরোপুরি পূরণ করতে পারি নি। কিন্তু ২০১৪ থেকে ফার্মওয়্যার ওভার দা এয়ার বা ফোটার মাধ্যমে যে আপডেট দেওয়া হয়, তা আমরাই শুরু করি। বাংলাদেশে একমাত্র দেশীয় ব্র‌্যান্ড যারা ওএস সফটওয়ার ওভার দা এয়ার আপডেট দেই। আমরা মানুষের চাহিদা বোঝার চেষ্টা করি। তাদের অভিযোগ গ্রহণ করি। তা পরিবর্তিতে শুধরিয়ে গ্রাহকদের চাহিদা মতো ফোন বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করি। মোটকথা লেটেস্ট টেকনোলজির সাথে ওয়ালটন সব সময়ই থাকে। সেই সাথে দামটাও যাতে কাস্টমারদের নাগালে থাকে সে বিষয়টিও মাথায় রাখে ওয়ালটন। আমাদের টার্গেট দেশের জনগণ যেন একটি মানসম্মত ফোন রিজনেবল দামে তারা পায়, তার ব্যবস্থা করা।

আফটার সেলস সার্ভিস নিয়ে কিছু বলুন? এ বিষয়ে ক্রেতাদের বেশ অভিযোগ পাওয়া যায়।
আরিফুল হক রায়হান: আমি স্বীকার করি শুরুর দিকে আমাদের একটু ঘাটতি ছিলো কিন্তু এগুলো আমরা কাটিয়ে উঠেছি। মাত্র ছয় বছরের মোবাইল বাজারের শুরুর দিকে আমাদের লজিস্টিক ও ম্যানপাওয়ারের সমস্যা ছিলো। বেশি সার্ভিস পয়েন্ট ছিলো না। কিন্তু এখন একজন গ্রাহক ঘরে বসে ফোনটি সার্ভিস সেন্টারের কোন পর্যায়ে আছে, তার ফোনের কি অবস্থা তা জানতে পারছেন। অটোমেশন সফটওয়্যার যা আমাদের ওয়েবসাটের সাথে বিল্টইন করা। যার মাধ্যমে একজন ইউজার তার সার্ভিস সম্বন্ধে জানতে পারে। সেই সাথে সাথে স্যোশাল মিডিয়ায়ও আমরা বেশ অ্যাক্টিভ।
ওয়ালটনবিডির ফেসবুক পেজে যদি কোনো কমেন্ট বা  সাজেশন দেওয়া হয় উইথ ইন ওয়ান অর টু আওয়ারের মধ্যে গ্রাহক তার রিপ্লাই পেয়ে যান।

এছাড়া আমাদের সার্ভিস সেন্টার আরো বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। এখন বর্তমানে দেশব‌্যাপী ওয়ালটনের ৬৫টি সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। তার মধ্যে ১৫ টি শুধু মাত্র সেল ফোনের জন্য। এছাড়াও যেকোনো ধরনের সমস্যা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সলভ করা হয়।

একটি কথা বলে রাখি আমরা অন্যদের থেকে কেন পৃথক। অন্যান্য ব্র‌্যান্ডের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে গেলে দেখবেন শুধু পজেটিভ কমেন্ট। কিন্তু আমাদের পেজে গেলে দেখবেন পজেটিভ নেগেটিভ সব ধরনের কমেন্ট আছে। এবং সেই কমেন্টসগুলো  নিয়ে কিন্তু আমরা কাজ করছি।

এছাড়াও গ্রাহকদের জন্য ওয়ালটন প্রতিনিয়ত বাজারে ছাড়ছে উচ্চ গুণগতমান ও অত্যাধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ নতুন নতুন মডেলের স্মার্টফোন। দেশের সকল ওয়ালটন প্লাজা ও ব্র্যান্ডেট আউটলেটে ০% ইন্টারেস্টে ৬ মাসের ইএমআই সুবিধায় কেনা যায় যেকোনো মডেলের ওয়ালটন স্মার্টফোন। রয়েছে ১২ মাসের কিস্তি সুবিধাও। আইএসও সনদপ্রাপ্ত সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের আওতায় মোবাইল ফোন গ্রাহকদের দেয়া হচ্ছে দ্রুত ও সর্বোত্তম সেবা।

বর্তমানে বেশকিছু স্মার্টফোন ব্র্যান্ড বাজারে রয়েছে। তাই ভবিষ্যত বাজার সম্পর্কে বলুন?
আরিফুল হক রায়হান: আমি মনে করি গুণগত মান বজায় রেখে যদি পণ্য ছাড়া হয় তাতে ভয়ের কিছু নেই। কারণ আমরা জানি আমরা কি ধরনের প্রোডাক্ট বাজারে দিচ্ছি। গ্রাহদের চাহিদা কি। সেক্ষেত্রে অন্যরা কি করছে তা দেখার প্রয়োজন নেই।

বাংলাদেশ ছাড়া কোন কোন দেশে ওয়ালটনের স্মার্টফোন পাওয়া যায়?

আরিফুল হক রায়হানঃ বাংলাদেশ ছাড়াও নেপাল, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, কাতার ও ইউএই-এসব দেশে আমাদের পণ্য বিক্রি হয়। এছাড়াও, নতুন মার্কেট হিসেবে আমরা ভারতের বাজারেও প্রবেশ করার চেষ্টা করছি।

সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
আরিফুল হক রায়হানঃ  আপনাকেও ধন্যবাদ। টেকজুম ডটটিভির জন্য শুভ কামনা রইল।

অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করুন

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন