ফ্রিল্যান্সার ডটকমের সেরা ফ্রিল্যান্সার সালাউদ্দিন ইশাদ
প্রথমে যোগ্য হোন, তারপর কাজে নামুন

0

শাহজালাল রোহান, টেকজুম ডটটিভি// ফ্রিল্যান্সার শব্দটি খুবই পরিচিত তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে। কিন্তু অনেকেই হতে চায় ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনার ও ধৈর্য্যর অভাবে অনেকেই হাল ছেড়ে দেন। আর জড়িয়ে পড়েন হতাশার জীবনে। নতুনদের হাতাশা কাটানো ও সবে মাত্র ফ্রিল্যান্স কাজ শুরু করেছেন তাদের জন্য কিছু করতে চান আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সার সংগঠন ফ্রিল্যান্সার ডটকম-এর দৃষ্টিতে সেরা বাংলাদেশি গ্রাফিক্স ডিজাইনার সালাউদ্দিন ইশাদ।

তিনি বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সার ডটকমের মাধ্যমে জীবনে সফলতা পেয়েছি। শুরু করেছি সেই ২০০৮ সালে কিন্তু সফলতা পেয়েছি ২০১৭ সালে। দীর্ঘ সময়ের পথ চলা সুগম ছিলো না। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার ডটকমে ২৫ মিলিয়ন সদস্য রয়েছে যারা এই সাইট থেকে নিয়মিত কাজ করছেন। আমিও তাদের মধ্যে অন্যতম। পরে সবার থেকে আলাদা করে আমাকে সেরা বাংলাদেশি গ্রাফিক্স ডিজাইনার মনোনিত করায় আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। এতে দেশের ভাবমূর্তিও অনেক বেড়েছে।’

সম্প্রতি পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় নিজের বাসভবনে টেকজুম ডটটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষৎকারে সালাউদ্দিন এসব কথা বলেন।

নিজের জীবনের শুরুর দিকে কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের সূচনা হয় একটি অ্যাড ফার্মে চাকরির মধ্যদিয়ে। সেখানে অন্যের করা কাজ দেখে দেখে কিছু কৌশল আয়ত্ত করি। যদি কোন কিছু জিজ্ঞেস করতাম কিছুই বলতো না। যে যার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতো। তাদের হাত দেখে দেখে আস্তে আস্তে গ্রাফিক্স কাজের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়। এরপর একটি সঙ্গীত প্রডিউসার কোম্পানি সঙ্গীতা মিউজেকে যুক্ত হই। আমার জীবনের অনেক উন্নতি এখান থেকেই শুরু হয়। এখানকার লোকদের কাজ দেখে আমি বুঝতে পারি আমাকে অনেক জানতে হবে।

পরবর্তিতে জানতে পারি ইউটিউব সার্চ করেও অনেক সমাধান পাওয়া যায়। এই শুরু হলো। এরপর আবার ধানমন্ডিতে একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে জয়েন্ট করি। তখন অ্যাডোব ফটোশপ ও ইলাস্ট্রেটর আমার অনেকটা জানা হয়ে যায়। এরপর চিন্তা করি একটা কোর্স করতে হবে। এই শুরু হয় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। এরপর ২০১৩ সালে ক্রিয়েটিভ আইটিতে কোর্স করার জন্য যাই। এরপর যুক্ত হই আউটসোসিং এর কাজে। এরপর সব মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে অ্যাকাউন্ট খুলি। এরপর ক্রিয়েটিভ আইটির স্যারদের পরামর্শ ও নিজের চেষ্টারয় আস্তে আস্তে আমার এই সফলতা আসে।

এক নজরে সালাউদ্দিন ইশাদ

বাংলাদেশের ঢাকার গেন্ডারিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইশাদ সালাউদ্দিন। ২০০৮ সালে মতিঝিল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি, ২০১২ সালে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে এইচএসসি ও একই কলেজ থেকে তিনি পরবর্তীতে বিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

সফলতার পেছনে যাদের অবদান

খুব বড় ফ্যামিলি ছেলে আমি নই। তাই অর্থের জোগান করতেই আমাকে চাকরি করতে হয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত আসার পেছনে অনেক মানুষের অবদান রয়েছে। প্রথমে বলবো আমার বাবা মা। কাকা আবুল কালাম আজাদ, আমার ভাই শাহেদ হাসান। যিনি ঢাকা  ঢাকা-৬ আসনের এমপি কাজী ফিরোজ রশীদ -এর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সেই শুরু থেকেই সে আমাকে সাহয্য সহযোগিতা পরমর্শ দিয়েছে। এছাড়াও আমার কিছু কাছের ফ্রেন্ডদের অবদান সত্যিই ভোলার নয়।

নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পরামর্শ

প্রথমে বলবো আগো যোগ্য হোন, তারপর কাজে নামুন। কারণ যারা নতুন তারা দেখছে সিনিয়রদের সফলতা কিন্তু এখানে আসার পেছনে তাদের যে কতো কষ্ট ও ঘাম ঝড়েছে তারা ফলো করে না। আর একটা চিন্তা নতুনদের মাথায় রাখতে হবে তারা যা করছে তার থেকেও বেটার কিছু করতে হবে। তবে আমি আবারও বলছি ছোট একটা কোর্স করলেই ফ্রিল্যান্সার হওয়া সম্ভব নয়।

ডিজাইনের জ্ঞান একটু ভালো থাকতে হবে। কারণ আন্তর্জাতিক মানের কাজ করতে গেলে তাদের রুচি মতো কাজ করতে হয়। সেখানে দেশি ডিজাইন তাদের পছন্দ হবে না। ভাষার দিকে একটু খেয়াল রাখতে হবে। কারণ ফ্রিল্যান্সিং সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ইংরেজি ভাষা। মোটামুটি দক্ষ থাকতে হবে এ ভাষাতে। কারণ ভালো কাজ করছো কিন্তু তাদের সাথে ভালো কমিউনিকেশন ভালো না হলে পরবর্তিতে আর যোগাযোগ করবে না।

মনে রাখতে হবে কখনো ব্যাড রিভিউ খাওয়া যাবে না। এটা অনেক বড় ইফেক্ট পড়ে। মনে রাখতে হবে যে কোন কাজ শরু করার আগে নিজে দক্ষ হতে হবে। মনে রাখতে হবে যেহেতু তারা টাকা দিয়ে আপনার ডিজাইন নিবে তবে সেরাটাই নিবে।

একটি পেশাদারীত্ব তথ্য (কভার লেটার) এর উপর গুরুত্ব দিতে হবে আপনাকে। প্রজেক্ট দাতারা যখন কোনো কাজের জন্য অফার দিয়ে থাকেন তখন কোনো আগ্রহী যদি সেই কাজটি পেতে চায় তাহলে তাকে প্রথমে সেই কাজটি সম্পর্কে ভালো কারে বুঝতে হবে। কভার লেটার দেওয়ার সময় প্রথম দুই থেকে তিন লাইনের মধ্যে তার ঐ কাজ সম্পর্কে আকর্ষণীয় কিছু প্রশ্ন তুলে ধরতে হবে যাতে তারা বুঝতে পারে যে, আপনি ঐ কাজটির প্রতি আগ্রহী এবং আপনি কাজটি করতে পারবেন। প্রায়ই লক্ষ্য করা যায় কভার লেটারে একই ধাচের লেখা থাকে অর্থাত্ অন্যের দেওয়া একটি কভার লেটার থেকে কপি পেস্ট করে পোস্ট দেয়। এই ধরনের অভ্যাসকে পরিহার করা উচিত। প্রজেক্ট দাতারা এই বিষয়গুলো খুব আমলের সঙ্গে লক্ষ্য করেন।

এরপর প্রজেক্ট দাতাদের মধ্য থেকে হয়তো একজনে আগ্রহী আপনার পূর্বের কাজ সম্পর্কে জানতে চাইবে। এ ক্ষেত্রে আপনার আপডেট করা একটি পোর্টফিলিও জমাদিন অথবা আপনার ফ্রিল্যান্স কাজের একটি লিংক দিন। সেচ্ছায় প্রদান করা এই প্রচেষ্টায় আপনাকে অনেক দূর দিয়ে যেতে পারে আপনাকে।

প্রজেক্ট দাতারা যখন প্রজেক্টের জন্য প্রস্তাব দেন তখন তা হয় পেশাদারিত্ব ও যোগযোগ থেকে। আপনি  প্রকল্পটি গ্রহণ করেন আর না-ই করেন, প্রজেক্টদাতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এ অভ্যাসটি আপনার কাজে দিবে।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা
যেহেতু আইসিটি সেক্টরে বেশি আগ্রহ। তাই এই সেক্টেরেই কিছু করাই আমার লক্ষ্য। ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে কিভাবে আরো বেশি আগানো যায় এ নিয়েই চিন্ত ভাবনা করছি।

অডিও শুনতে এখানে ক্লিক করতে পারেন। 

টেকজুম ডটটিভি/১৪আগস্ট/এসআর

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন