বাংলাদেশের অর্থনীতির চতুর্থ চালিকাশক্তি হবে ই-কমার্স: রাজিব আহমেদ

2

বাংলাদেশে ই-কমার্স সেক্টরকে উন্নয়নের লক্ষ নিয়ে কাজ করছে ই-কমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)। ই-ক্যাবের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে ই-কমার্সকে বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। ই-ক্যাবে নিয়ে টেকজুম ডটটিভি’র মুখোমুখি হয়েছিলেন ই-ক্যাব-এর সভাপতি রাজিব আহমেদ। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে ই-কমার্স নিয়ে তার চিন্তাভাবনা এবং ই-ক্যাবের কার্যক্রম এবং বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার মাহাবুব মাসফিক ও স্টাফ রিপোর্টার মিরাজুল ইসলাম জীবন।

টেকজুম ডটটিভি: বাংলাদেশে ই-কমার্স এগিয়ে নিতে ইক্যাবের বর্তমান কর্মকান্ডসমূহ সর্ম্পকে জানতে চাই।
রাজিব আহমেদ: বাংলাদেশে ই-কমার্সকে এগিয়ে নেবার জন্যে আমরা সাতটি বিষয়কে টার্গেট করেছি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- অনলাইন শপ, ই-সার্ভিস, ই-পেমেন্ট এবং ট্রানজ্যাকশন, ই-সিক্যুরিটি, ই-কমার্স পলিসি, সার্ভিস ডেলিভারি, ই-কমার্স সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ, গবেষণা, এবং প্রডাক্ট কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট। এ সাতটি ক্ষেত্রেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

টেকজুম ডটটিভি: সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনাদের কি কি রয়েছে? এর মধ্যে ফেসবুকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? পেজ এবং গ্রুপে কত মেম্বার?
রাজিব আহমেদ: ফেসবুক বর্তমানে বাংলাদেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। ফেসবুকে ই-ক্যাব পেইজ, ই-ক্যাব গ্রুপ এবং ই-ক্যাব ক্লাব চালু করেছি আমরা। এর মধ্যে ই-ক্যাব গ্রুপটাই প্রধান। এখন পর্যন্ত এ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ১১০০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে এ গ্রুপটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।এটি সকলের জন্যে উন্মুক্ত।
ফেইসবুক গ্রুপ: www.facebook.com/groups/eeCAB/

টেকজুম ডটটিভি: ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কারা কারা আপনাদের অভিনন্দন ও স্বীকৃতি দিয়েছে?
রাজিব আহমেদ: ইতিমধ্যে এফবিসিসিআই, বেসিস, বিসিএস, বাক্য, সিটিও ফোরাম আমাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

 

টেকজুম ডটটিভি: ট্রেড লাইসেন্সে ই-কমার্স খাত অন্তর্ভূক্তির পক্রিয়া কতখানি এগিয়েছে?
রাজিব আহমেদ: আমরা বাণিজ্য মন্ত্রী, বাণিজ্য সচিব এবং ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনের সাথে সাক্ষাৎ করে এ ব্যাপারে কথা বলেছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। হয়তো কিছুটা সময় লাগবে।

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাবের বর্তমান পর্যন্ত কতগুলো ইকমার্স প্রতিষ্ঠান, ডেলিভারি প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠান সদস্য হয়েছে?
রাজিব আহমেদ: এ পর্যন্ত ১৮৬ টি প্রতিষ্ঠান ই-ক্যাব এর সদস্য হয়েছে।

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাব এর সদস্য হতে একটি প্রতিষ্ঠানের কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন?
রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাব সদস্য পদ প্রাপ্তির জন্যে একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দিতে হবে। প্রথমে ৩০০০ টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে এককালীন রেজিস্ট্রেশন ফি-১০০০ টাকা এবং বার্ষিক সদস্য চাঁদা-২০০০ টাকা। সদস্যদের প্রতি বছর ২০০০টাকা দিয়ে সদস্য পূনঃবহাল করতে হবে।

টেকজুম ডটটিভি: নতুনদের কিভাবে সহায়তা করছে ই-ক্যাব? তাদের জন্য কি পরামর্শ দিবেন?
রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাবে আমার প্রথম থেকেই স্বপ্ন ছিল নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যে পথ তৈরি করে দেয়া। যেসব তরুণ-তরুণীরা ই-কমার্স ব্যবসায় আসতে ইচ্ছুক তারা যাতে হুজুগে পড়ে এখানে না আসে এবং ই-কমার্স সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য সহজে পেতে পারে সেজন্যে আমরা ই-ক্যাব ব্লগ চালু করেছি। এ ব্লগে ই-কমার্স সংক্রান্ত ২৩০টির বেশি আর্টিকেল রয়েছে। বাংলাদেশের আর কোন ওয়েবসাইটে ই-কমার্স সম্পর্কে এত বিস্তারিত তথ্য নেই। যে কেউ এ আর্টিকেলগুলো বিনামূল্যে পড়তে পারবে।

এছাড়াও ই-ক্যাব ফেইসবুক গ্রুপ আছে যেখানে ই-ক্যাব এর সদস্য বা অন্যান্য যে কেউ ই-কমার্স সম্পর্কে তাদের, চিন্তা-ভাবনা, সমস্যার কথা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারে। বর্তমানে এ গ্রুপে ১১০০০ সদস্য আছে।

এর পাশাপাশি আমরা প্রতি রাতে স্কাইপে আড্ডা দেই। ই-ক্যাব সদস্য এবং বাইরের যে কেউ এতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। এখানে যারা ব্যবসা করছেন তারা নতুনদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন এবং এটিও বিনামূল্যে।

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাব এর ম্যানেজমেন্ট প্যানেলে কে বা কারা রয়েছেন?
রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাব এর যাবতীয় কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী পরিষদ রয়েছে। এছাড়াও ই-ক্যাব কার্যালয়ের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনার জন্যে নির্বাহী পরিচালক রয়েছেন। এছাড়াও আমাদের দিক-নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদানের জন্যে একটি উপদেষ্টা কাউন্সিল আছে। ই-কমার্সের সাথে ব্যাঙ্ক, মোবাইল সহ অন্যান্য বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি সংযুক্ত আছে। এসব ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করার জন্যে আমরা ২৫টি স্ট্যান্ডিং কমিটি গঠন করেছি।

টেকজুম ডটটিভি: প্রতিষ্ঠান হিসাবে ই-ক্যাব এর ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির বিষয়ে একটু জানতে চাই।
রাজিব আহমেদ: গত মাসের প্রথম সপ্তাহে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ট্রেড অর্গ্যানাইজেশন (টি/ও) হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত হই। অ্যাসোসিয়েশন শুরু হবার আট মাসের মধ্যে আমরা লাইসেন্স পেয়েছি। এটা আমাদের জন্যে বিরাট অর্জন। তবে এ অর্জনের পিছনে অনেকের অবদান রয়েছে। ই-ক্যাব সদস্যরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। এছাড়াও আমাদের উপদেষ্টাবৃন্দ আমাদের দিক-নির্দেশনা দিয়ে এবং নানা ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন।

Razib Ahmed_techzoom.tv

টেকজুম ডটটিভি: সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে কি কি ধরনের প্রোগামের আয়োজন করা হচ্ছে? ইতিমধ্যে কোথায় কোথায় করা হয়েছে এবং আগামীর পরিকল্পনা কি কি?
রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাব এর সদস্য প্রতিষ্ঠান গুলো যাতে তাদের বিভিন্ন সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে এ জন্যে আমরা বিভিন্ন কর্মশালার আয়োজন করেছি যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ লোকেরা ই-ক্যাব সদস্যদের মূল্যবান পরামর্শ প্রদান করেছেন।
যেমন- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো কিভাবে ফেসবুকে ভালভাবে মার্কেটিং করতে পারে তার জন্যে ফেসবুক মার্কেটিং এর উপরে কর্মশালার আয়োজন করেছি। এছাড়াও সৃজনশীল মার্কেটিং এর উপরে আমরা কর্মশালার আয়োজন করেছি। আমরা প্রতিমাসেই কোন না কোন বিষয়ের উপরে কর্মশালা করছি।
আমরা আমাদের সদস্যদের সমস্যা ও তা সমাধানে কি কি করা যায় এ নিয়ে তাদের সাথে এখন আলোচনা করছি। আমরা ই-ক্যাব জোনাল মিটিং শুরু করেছি। এ পর্যন্ত আমরা দুইটি জোনাল মিটিং করেছি উত্তরা এবং ধানমণ্ডিতে। আরো জোনাল মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও নিয়মিত ভাবে কর্মশালা, প্রকাশনা, গবেষণার কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।
যেহেতু এটি একটি নতুন অ্যাসোসিয়েশন এবং অনেকেই অনেককে চেনে না তাই আমরা প্রতিমাসে একবার আড্ডা দেই।

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাব এর থিম সং নিয়ে কিছু বলুন। এর উদ্দেশ্য কি?
রাজিব আহমেদ: ই-কমার্স একটি নতুন বিষয় এবং অনেকেই এ নিয়ে তেমন একটা জানে না। তাই যদি আমাদের একটি থিম সং থাকে তাহলে ই-কমার্স এবং ই-ক্যাব নিয়ে অনেকেই জানতে পারবে। ই-ক্যাব এর মধ্যেই গীতিকার, সুরকার ও গায়ক আমরা পেয়েছি। আমরা মনে করি যে, ই-ক্যাব এর ভেতর সংস্কৃতি চর্চা এবং খেলাধূলার মতো বিনোদনের ব্যবস্থা থাকা উচিত। এতে করে ই-ক্যাব এর সদস্যরা যেমন আনন্দ পাবে ঠিক তেমনি আমাদের সম্পর্কেও সবাই জানতে পারবে।

টেকজুম ডটটিভি: বাংলাদেশে ইকমার্সে কি কি ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে মনে করে ই-ক্যাব?
রাজিব আহমেদ: বর্তমানে ই-কমার্স বলে আলাদা কোন সেক্টর নেই। এটাকে আলাদা সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। বর্তমানে ট্রেড লাইসেন্সে “ই-কমার্স” বলে আলাদা কোন ক্যাটেগরি নেই। আমরা এটাকে আলাদা সেক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্যে কাজ করে যাচ্ছি।
বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসার সিংহভাগ ঢাকা শহর কেন্দ্রিক। ঢাকার বাইরে জেলা উপজেলাতে ই-কমার্স সাইট নেই। ই-কমার্সকে গ্রামে ছড়িয়ে দেয়াটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্যে অনলাইনে লেনদেন এখনো বাংলাদেশে জনপ্রিয় নয়। ক্যাশ অন ডেলিভারি হচ্ছে ই-কমার্সে সবচেয়ে জনপ্রিয় লেনদেন মাধ্যম। কিন্তু এটি ই-কমার্সের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বিশাল সমস্যার সৃষ্টি করবে। ক্যাশ-অন-ডেলিভারি থেকে আমাদের ক্রেতাকে বের করে আনতে হবে।
গ্রাহক হয়রানি একটি বড় সমস্যা। গ্রাহকের বিশ্বাস তৈরি না করতে পারলে ই-কমার্স সামনে এগিয়ে যাবে না। গ্রাহকদের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বাংলাদেশে ইন্টারনেট এখনো সহজলভ্য নয় বিশেষত ঢাকার বাইরে। ই-কমার্সকে ছড়িয়ে দিতে হলে আমাদের অবশ্যই ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করতে হবে।
এ মুহুর্তে ই-কমার্স ব্যবসায় সবচেয়ে বড় বাঁধা নিশ্চিন্তে পণ্য ডেলিভারী দেওয়া। সমগ্র দেশব্যাপী শতভাগ ই-কমার্সবান্ধব ডেলিভারী প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশে নেই। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি হচ্ছে না এবং ফোন ধরলে কুরিয়ার সার্ভিসের লোকজন ফোন ধরছেন না। ফলে কাস্টমার অসন্তুষ্ট হচ্ছেন এবং বিশ্বাস হারাচ্ছেন।

টেকজুম ডটটিভি: সভাপতি হিসাবে ই-ক্যাবকে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কি?
রাজিব আহমেদ: ই-ক্যাব থেকে আমার চাওয়ার বা পাবার কিছু ছিল না এখনো নেই। আমার শুধু একটাই স্বপ্ন ছিল- বাংলাদেশে ব্যতিক্রম ধর্মী কিছু একটা হবে ই-ক্যাব। অনেকেই ই-ক্যাবকে আপন মনে করেন, আমাকে আপন মনে করেন এটাই আমার সবচেয়ে বড় পাওয়া, এতটুকুই আমার চাওয়া ছিল।
আমার নিজের কোন স্বার্থ বা উদ্দেশ্য ছিল না, এখনো নেই। তবে আমার কিছু স্বপ্ন ছিল এবং এখনো আছে যার জন্য আমি এতটা কষ্ট করেছি।
১। ই-ক্যাব সব সময় যেন নতুন উদ্যোক্তাদের সাহায্য করে- যেভাবে এবং যতভাবে সম্ভব। যে কোন ব্যবসায়ে নামার পর প্রথম কয়েকটা মাস বা অন্তত ১ টা বছর খুব স্ট্রাগল করতে হয়। তাই ব্যবসায়ে ঝড়ে পরা বাংলাদেশে খুব স্বাভাবিক বিষয়। সামান্য সমস্যাও অনেক বড় মনে হয়।
২। ই-ক্যাব যেন সব সময় তরুণদের প্লাটফর্ম হিসেবে থাকে। ছোট কোম্পানি গুলোর স্বার্থ যেন উপেক্ষিত না হয়।
৩। নারী উদ্যোক্তারা যেন সাহায্য পায়।
৪। ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তাদের যেন কখনো অবহেলা না করা হয়।
৫। শিক্ষা, তথ্য ও প্রশিক্ষণ এর দিকে যাতে নজর দেয়া হয়। ই-ক্যাব ফেসবুক গ্রুপ, ব্লগ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এগুলো করা যেতে পারে।
৬। ই-ক্যাব গবেষণার দিকে নজর দেবে।

টেকজুম ডটটিভি: বাংলাদেশে ই-কমার্সকে কোন পর্যায়ে নিতে চান?
রাজিব আহমেদ: বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির তিনটি প্রধান স্তম্ভ হচ্ছে- কৃষি, তৈরি পোশাক খাত, এবং রেমিটেন্স। আমরা চাই, ই-কমার্সকে বাংলাদেশের অর্থনীতির এরকম চতুর্থ আরেকটি খাত হিসেবে গড়ে তুলতে। বাংলাদেশে ই-কমার্সের সেরকম সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক দিক-নির্দেশনা, পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সেক্টরে যেমন অনেক নতুন ব্যবসার সৃষ্টি হবে তেমনি অনেক নতুন চাকুরির সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন