শখেরবসে তৈরি করেছি ই-ক্যাব মোবাইল অ্যাপ: জুয়েল রানা

0

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করে সকলের নজর কেড়েছেন জুয়েল রানা। জুয়েল রানা তিতুমীর কলেজে ইংরেজিতে অনার্স প্রথম বর্ষের একজন ছাত্র।

ই-ক্যাবের মোবাইল অ্যাপটি নিয়ে টেকজুম ডটটিভি’র মুখোমুখি হয়েছিলেন অ্যাপ ডেভেলোপার জুয়েল রানা। সাক্ষাৎকারে তিনি ই-ক্যাবের সাথে পরিচয় এবং প্রতিষ্ঠানটির জন্য অ্যাপ তৈরির পেছনের কথাগুলো তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সিনিয়র রিপোর্টার মাহাবুব মাসফিক।

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাব ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানে পরিনত হচ্ছে। এ প্রতিষ্ঠানের অ্যাপ তৈরি করতে পেরে আপনার কেমন লাগছে?

জুয়েল রানা: ই-ক্যাবের জন্য এ ধরনের একটি মহত্বপূর্ণ কাজ করতে পেরে আমার অনেক আনন্দ লাগছে। সবচেয়ে বেশি অবাক হয়েছি যে, এই অ্যাপটি তৈরি করার পর ই-ক্যাব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফিডব্যাক দেখে, তাদের উল্লাস দেখে আনন্দে আমার চোখ জলে ভিজে গিয়েছে।

 

টেকজুম ডটটিভি: মোবাইল অ্যাপটি কি আপনার আগ্রহেই তৈরি করেছেন? নাকি এতে অন্য কারো উৎসাহ ছিল?

জুয়েল রানা: অ্যাপটি তৈরি করার বিষয়ে একদিন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট রাজীব আহমেদের সাথে কথা বলি। তার আগ্রহ আর অনুপ্রেরণা দেখে আমার আগ্রহ বহুগুনে বেড়ে যায়। এছাড়া ই-ক্যাবের গ্রুপে তার বিভিন্ন লেখা পড়ে ই-ক্যাবের প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায় আমার, সেথেকেই অনুপ্রানিত হয়েছি এবং ই-ক্যাবের জন্য মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন বানানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করি।

 

টেকজুম ডটটিভি: ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশকে (ই-ক্যাব) চিনলেন কিভাবে?

জুয়েল রানা: ফেসবুকের মাধ্যমে আমি ই-ক্যাব গ্রুপের সন্ধান পাই, গ্রুপের মেম্বার হই এবং গ্রুপের সকল আপডেট আমি বেশ মনোযোগ সহকারে পড়তাম। এখানের সবাই ব্যবসায়ী। সবার আলাপচারিতা আমার বেশ ভালো লাগতো।

 

টেকজুম ডটটিভি: আপনি কি একজন প্রফেশনাল অ্যাপ ডেভেলোপার?

জুয়েল রানা: আমি কোন প্রফেশনাল অ্যাপ ডেভেলোপার নই। আমি আসলে একজন শখেরবসে অ্যাপ ডেভেলোপার। শখের বসে অ্যাপ ডেভেলোপ করার চেষ্টা করি।

 

টেকজুম ডটটিভি: প্রফেশনাল অ্যাপ ডেভেলোপার হওয়ার ইচ্ছা আছে কি?

জুয়েল রানা: একজন প্রফেশনাল অ্যাপ ডেভেলোপার হিসাবে ক্যারিয়ার গড়ার ইচ্ছা আমার নেই। তবে অ্যাপ তৈরির ইচ্ছা আমার প্রবল। আর সে ইচ্ছা থেকেই নতুন নতুন হয়তো আরও কিছু অ্যাপ তৈরি করে ফেলব। হা হা হা

 

টেকজুম ডটটিভি: অ্যাপ তৈরির প্রাথমিক শিক্ষা কিভাবে পেয়েছেন?

জুয়েল রানা: আসল কথা বলতে কি, অ্যাপ তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা বলতে যা বোষায় তাও আমার নেই। কিন্তু আমার আগ্রহই আমাকে এগিয়ে নিয়েছে এ পথে। এবিষয়ে শিক্ষা গ্রহন করার জন্য গুগল ও ইউটিউব ভিজিট করতাম। সেখান থেকেই শিক্ষা গ্রহন করেছি।

 

টেকজুম ডটটিভি: ই-ক্যাব নিয়ে আপনার ধারনা?

জুয়েল রানা: বাংলাদেশে ই-কমার্স একটি নতুন ধরনের ব্যবসা। ই-কমার্সে আগ্রহ এদেশে এখনও তেমন বাড়েনি। অন্যদিকে এব্যবসায় বিশ্বাসের বিষয়টি জড়িত বিধায় অনেকে ইকমার্স সাইট থেকে কিনতে চায় না। আমরা যদি ই-কমার্সের উপর বিশ্বাস বাড়াতে পারি তবে ধীরে ধীরে বাংলাদেশে ই-কমার্স জনপ্রিয় হবে এবং ধীরে ধীরে এ বাজারকে মানুষ সাধারন বাজারের মতো ব্যবহার করবে। আর এক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছে ই-ক্যাব। আমি মনে করি, একদিন বাংলাদেশে ই-কমার্স আর ই-ক্যাব দুটোই জনপ্রিয় হবে।

 

টেকজুম ডটটিভি: আপনার গ্রামের বাড়ি এবং বর্তমানে আপনি পড়ালেখার পাশাপাশি আর কি করছেন?

জুয়েল রানা: গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার শ্যামপুকুরে। রাজধানীর মহাখালীতে একটি দোকানে অপারেটরের হিসাবে কাজ করে লেখাপড়ার খরচ চালাচ্ছি।

টেকজুম ডটটিভি: আপনার ভবিষৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

জুয়েল রানা: আমি আমাদের গ্রামের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা। ভবিষ্যতে আইটি নিয়ে ভালো কিছু করা আমার স্বপ্ন। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ওয়ার্ক এবং স্টাডি প্রতিষ্ঠান গড়ার কাজ করব। এজন্য আমি সকলের নিকট দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেছি।

 

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন