ঢাকায় ফ্রিল্যান্সারদের মিলনমেলা

13

অনলাইনে কাজ করে বিদেশী মুদ্রা আয় করতে আউটসোসিংয়ে যুক্ত হচ্ছে অনেক তরুণ। আগে এই পেশায় শিক্ষিত বেকার তরুণদের খুব একটা পদচারনা ছিল না। কিন্তু সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে এখন অনেকেই অনলাইনে ঘরে বসে বিদেশী সমস্যার সমাধান দিয়ে ভালো পরিমাণ অর্থ আয় করছেন। আবার আগে যারা কাজ করতো তাদের মধ্যে সফল ছিল মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিংসহ নানা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ পেয়ে আউটসোর্সিংয়ে সফলদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। বিশেষ করে গ্রামীণ শিক্ষিত তরুণরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছে, আত্মবিশ্বাস অর্জন করছে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে প্রতিবছর অসংখ্য তরুণকে দেওয়া হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং এ বিভিন্ন প্রণোদনা। তাদের মাধ্যমে অনুপ্রাণিতও হচ্ছেন অনেকে।

প্রশিক্ষণ মানুষের সামর্থ বাড়িয়ে দেয় নিজের জীবনের এমন উপলব্ধি বর্ণনা করে মোস্তফা চৌধুরী তামিম বলেন, ‘প্রশিক্ষণ গ্রহনের পর এখন আমি সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, এফিলিয়েট মার্কেটিং এবং গুগল অ্যান্ডসেন্স নিয়ে কাজ করছি। ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আমি প্রথম ৩০ ডলার আয় করেছিলাম সেশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং থেকে। এখন পর্যন্ত ২০০ ডলার আয় করেছি। তথ্য প্রযুক্তি খাত খুব দ্রুত বিকশিত হচ্ছে এবং আশা করছি সামনে আরো অনেক সুযোগ আসবে। আমর স্বপ্ন দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের নিয়ে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে চায়।’

ঢাকার মহাখালি ব্র্যাক ইন সেন্টারে শুক্রবার তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের উদ্যোগে ফ্রিল্যান্সারদের মিলনমেলায় নিজের সাফল্যের অভিজ্ঞতার কথা এভাবেই তুলে ধরলেন তামিমের মতো আরো অনেকেই। বৃহত্তর ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে সফল ১০০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে ‘সাকসেসফুল ট্রেইনি মিট আপ’ শীর্ষক কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

ইন্টারনেটভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং করে অর্থ উপার্জন করছেন মাদারিপুরে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের শিক্ষার্থী শামসুর নাহার সাথী। তিনি বলেন, ‘ঘরে বসে নারীদের  ঝুঁকিহীন কাজ হলো ফ্রিল্যান্সিং। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে এই প্রকল্প থেকে আমরা বেকাররা ঘরে বসে কিভাবে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে বিদেশী মুদ্রা অর্জন করতে পারবো তা শিখছি।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিয়ে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী বলেন, ‘স্বাধীনভাবে উপার্জন করে ভালো থাকার জন্য ফ্রিল্যান্সিং সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। তোমরা বিদেশী মুদ্রা আয় করে ভালো থাকো, দেশকে ভালো রাখো। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ তোমাদের পাশে থাকবে। তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ শুধু প্রশিক্ষণ দিয়েই নয়, মেনটরিংসহ প্রয়োজনীয় সবরকমের সহায়তা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

লার্নিং অ্যান্ড প্রকল্পের পরিচালক মির্জা আলী আশরাফ বলেন, ‘মানবসম্পদ উন্নয়ন হল ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ভিত্তি। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছি। লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং  ডেভেলপমেন্ট প্রল্পের আওতায় ৫৫ হাজার জনকে যথাক্রমে বেসিক আইসিটি, টপ-আপ, ফিউচার লিডার এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং উদ্যোগের সুফল পৌছে গেছে তৃণমূল পর্যন্ত। সেখানে অনেকেই প্রশিক্ষণ পেয়ে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। মানুষের সাফল্যের জন্য প্রয়োজন হয় সুযোগের। মানুষকে যদি সুযোগ তৈরি করে দেওয়া যায় তারা সাফল্যের সিঁড়িবেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে দেশের বেকারত্ব মুছে ফেলা সম্ভব উল্লেখ করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘একটু মেধা খাটালেই ঘরে বসে আয়-রোজগার করা সম্ভব।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ উপার্জনের জন্য মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। অনেকে বিদেশে কায়িক শ্রম দিয়ে দেশে টাকা পাঠায়। অতিরিক্ত শারীরিক শ্রম বিসর্জন দিয়ে এখন আর আয় করতে হবে না। মেধা দিয়ে আয়ের পথ সুগম করতেই লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।