ফেসবুকের পর্নোগ্রাফি, সন্ত্রাস ও সহিংসতা নীতিমালা ফাঁস হলো গার্ডিয়ানে

ফেসবুকের পর্নোগ্রাফি ও সন্ত্রাস নীতিমালা সম্পর্কিত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ নথি সম্প্রতি প্রকাশ হয়ে পড়েছে। নথিগুলো প্রকাশ করেছে  প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।

কী রয়েছে, এসব নীতিমালায়? ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে প্রতিনিয়ত ব্যবহারকারীরা অসংখ্য অনৈতিক ছবি ও কনটেন্ট আপ করেন। এসব ছবি ও পোস্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া, কোন পর্যায়ে পোস্ট ডিলিট করা হবে এসব বিষয় লেখা রয়েছে এতে।

এছাড়া ব্যবহারকারীরা কী পোস্ট করতে পারবেন আর কী পোস্ট করতে পারবেন না;  তা বলা আছে ওইসব নথিতে।

তবে ফেসবুকের মডারেটরদের সূত্রে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সন্ত্রাস ও পর্নোগ্রাফির মতো ভয়াবহ বিষয়বস্তুগুলোতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে নানা কারণে ব্যর্থ হয়েছে ফেসবুক।

ফাঁস হয়ে যাওয়া ডকুমেন্টে মিলেছে শতাধিক ট্রেনিং মডিউল, স্প্রেডশিট এবং ফ্লো চার্ট সম্বলিত নথিপত্র। । ওইসব নথিতে সহিংসতা, ঘৃণাবাদী মন্তব্য, সন্ত্রাসবাদ, পর্ণোগ্রাফি ও বর্ণবাদের মতো বিষয়গুলোর প্রশ্নে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা কী হবে, তা রয়েছে।

ফেসবুকের ওইসব অভ্যন্তরীণ নথিতে মধ্যে খেলায় বাজি ধরা (ম্যাচ ফিক্সিং) আর মানুষের মাংস খাওয়ার মতো ভয়াবহ বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণের নীতিমালাও রয়েছে।
ভুয়া সংবাদ-পর্নোগ্রাফি আর সন্ত্রাসবাদ প্রশ্নে ইউরোপ আর আমেরিকায় ভয়াবহ বিতর্কে জড়িয়ে পড়া ফেসবুকের উন্মোচনকৃত নথিগুলোতে ওই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের অভ্যন্তরীণ মডারেশন নীতিমালা প্রথমবারের মতো জনসম্মুখে এলো।

ফেসবুকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মডারেটরকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বহু ব্যবহারকারীর এই সামাজিক যোগাযোগ তাদের সাইটে পোস্ট করা বিষয়বস্তু মডারেট করতে গিয়ে খুব কমই সময় পান। তারা একটি সিদ্ধান্ত নিতে বড়জোর ১০ সেকেন্ড সময় পান। এছাড়া ক্রমাগত ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এসব কারণে বিষয়বস্তুর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারছে না ফেসবুক।

পর্নোগ্রাফির মতো বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ করা সবচেয়ে কঠিন ও জটিল বলে উঠে এসেছে গার্ডিয়ানের নথিতে। নগ্ন ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে অভিযোগ পেলেই তা ডিলিট করার নিয়ম রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সব ছবি যে ডিলিট করা যাবে, এমন কোনো কথা নেই। যেমন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় নাপাম বোমার আঘাতে আহত এক শিশুর নগ্ন ছবি ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ার পর তা ডিলিট করলেও পরবর্তীতে আবার গ্রহণ করতে বাধ্য হয় ফেসবুক। এক্ষেত্রে তাদের নীতিমালাও সংশোধন করতে হয়।