বন্ধুর পোস্ট করা সুন্দরী একটি মেয়ের ছবি বা ভিডিও ফেসবুক টাইমলাইনে আসার পর সে লিংকটিতে ক্লিক করে বিপদে পড়ে গেছেন অনেকেই। লাইক দেওয়া ছবিটির যন্ত্রণায় অস্থির অন্য বন্ধুরা। এ যন্ত্রণার নাম ফেসবুক স্প্যাম। কম্পিউটার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ফেসবুকের পাতাভর্তি বন্ধুদের নানা পোস্ট হয়তো আপনাকে খুশি করছে বা লাইক দিতে বাধ্য করছে। কিন্তু এ পোস্টগুলোর মধ্যে অনেকগুলো দুর্বৃত্তদের নকশা করা ম্যালওয়্যারও হতে পারে। এসব স্প্যাম আপনার ফেসবুক থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করতে পারে বা আপনাকে বেকায়দায় ফেলার মতো অবস্থা তৈরি করতে পারে। যেমন আইডি হ্যাক হওয়া। ফেসবুকে অসংখ্য এরকম পোস্ট রয়েছে যার মধ্যে কোনোটিতে শিশুর জন্য অর্থ সাহায্য চাওয়া হয়েছে, কোনোটিতে অর্থ আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়েছে। সম্প্রতি কম্পিউটার নিরাপত্তা সফটওয়্যার নির্মাতা ইসেটের গবেষকেরা ছয় ধরনের ফেসবুক পোস্ট এড়িয়ে চলার জন্য ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন।

কখনও তারকা গুজব পোস্টে ক্লিক নয় : ফেসবুকে তারকাদের নিয়ে বা সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা সংশ্লিষ্ট গুজব নিয়ে চটকদার খবরের পোস্ট পাওয়া যায়। অনেক সময় এ ধরনের খবরকে ‘ব্রেকিং নিউজ’, ‘গোপন খবর’, ‘গোমর ফাঁস’ ‘তথ্য ফাঁস’ ‘আড়ালের খবর’ ইত্যাদি নামে পরিবেশন করা হয়। ব্রেকিং নিউজ : ব্রেকিং নিউজ হিসেবে ফেসবুকে অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া ও ম্যালওয়্যারভর্তি খবর প্রকাশ করে দুর্বৃত্তরা। ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিশ্লেষকেদের পরামর্শ হচ্ছে, কোনো বিষয়ে তথ্য জানতে গুগলে সার্চ করে দেখা ভালো। ফেসবুকের পোস্ট করা লিংকে ক্লিক করলে তাতে ম্যালওয়্যার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

লাইক চাওয়া পোস্টগুলোতে লাইক নয় : ফেসবুকে চটকদার পোস্ট দিয়ে তাতে অধিকাংশ সময় লাইক চাওয়া হয়। ইসেটের বিশ্লেষকেদের পরামর্শ হচ্ছে, যেপোস্টগুলোতে লাইক চাওয়া হয় সে পোস্টগুলোতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। ফেসবুকের নতুন গ্রাফ সার্চের ফেসবুক অ্যাক্টিভিটি লগ থেকে অজানা বা অচেনা কোনো প্রতিষ্ঠান, পণ্য বা সাইটে আপনি লাইক দিয়েছেন কিনা তা নিশ্চিত করে নিন। এ ধরনের পোস্ট ম্যালওয়্যারের খনি হতে পারে।

খাবারের পরামর্শ বিষয়ক পোস্ট থেকে সাবধান : অনেক সময় ফেসবুক টাইমলাইনে ওজন কমানোর পরামর্শ বিষয়ক পোস্ট এসে ভরে যায়। চমত্কার ও চটকদার ওজন কমানোর পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয় এসব পোস্টে। এ ধরনের পোস্টের মাধ্যমে স্ক্যাম ছড়ায় দুর্বৃত্তরা। অজানা, অচেনা উত্স থেকে আসা এ ধরনের পরামর্শগুলোতে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।

ভুয়া নিউজ সাইটের লিংক : ফেসবুকে অজানা-অচেনা উত্স থেকে নানা গুজব, চটকদার খবর প্রকাশ করা হয়। খবরের যে উত্সগুলো আপনার পরিচিত নয় সে সাইটগুলোর খবরে ক্লিক করলে ম্যালওয়্যার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে। আসল খবরের আদলে সাইবার দুর্বৃত্তরা ফেসবুকে ভুয়া নিউজের লিংক পোস্ট করে তাদের উদ্দেশ্য সফল করে।

ফেসবুকের গিফট কার্ড : আপনি ফেসবুকে লটারি জিতেছেন বা কোনো উপহার জিতেছেন বলে টাইমলাইনে পোস্ট দেখাতে পারে। বিনামূল্যে উপহারের নমুনা দেখিয়ে সে লিংকটিতে ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে আকৃষ্ট করে দুর্বৃত্তরা। বর্তমানে ফেসবুকের দ্রুত ছড়িয়ে পড়া স্ক্যামগুলোর একটি এই গিফট কার্ড স্ক্যাম। এ ধরনের লিংকে ক্লিক করলে ব্যক্তিগত তথ্য চাওয়া হয়। এসব তথ্য দেওয়া হলেও কোনো উপহার পাওয়া যায় না বরং কম্পিউটারে ম্যালওয়্যার ডাউনলোড হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন