আইফোনের জীবণ বৃত্তান্ত

0

মোবাইল ফোনের ডিজাইন সম্পর্কে মানুষের প্রথাগত ধারণা পাল্টে দেন স্টিভ জবস। হ্যান্ডসেটের জগতে বিপ্লব আসে বলা চলে তথ্যপ্রযুক্তির অলিখিত এ সম্রাটের হাত ধরে। ২০০৭ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে নতুন এক মোবাইল ফোন নিয়ে আসে অ্যাপল। শুরু হয় স্মার্টফোনের যুগ।

অ্যাপল যার নামকরণ করে আইফোন। সেই থেকে শুরু আইফোনের জয়জয়াকার। অ্যাপলকেও আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দিনের পর দিন জনপ্রিয়তার শীর্ষ রয়েছে ফোনটি।

চমক জাগানো এ উদ্ভাবনের পর সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এতটুকু আবেদন কমেনি আইফোনের। বরং নতুন মডেল বা নতুন উদ্ভাবনের কল্যাণে নতুন মাহাত্ম পেয়েছে এ অ্যাপল পণ্য।

প্রতিবার নতুন কিছু উপহার দেবে টেক জায়ান্টটি এমন প্রত্যাশা থাকে সকলের। নতুন কিছুর অপেক্ষায় থাকে পুরো বিশ্ব। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার নতুন আইফোন নিয়ে দুনিয়ার সামনে হাজির হন টিম কুক।

আইফোনের ইতিহাস
আইফোন নির্মাণের জন্য অ্যাপল ২০০৫ সাল থেকে কাজ শুরু করে। স্টিভ জবস স্পর্শের মাধ্যমে ফোন চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে কাজে নেমে পড়েন। টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির মোবাইল ডিভাইস আনার মাধ্যমে হ্যান্ডসেটের বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলার স্বপ্নের সেই শুরু।

জবস বিশেষজ্ঞদের ট্যাবলেট পিসি ও মোবাইল ফোনের মধ্যেকার পার্থক্যের দিকে নজর দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেন। ৩০ মাসের চুক্তিতে অ্যাপল টেলিকম কোম্পানি এটিএ্যান্ডটির সঙ্গে যৌথভাবে আইফোন নির্মাণ শুরু করে। দীর্ঘ ২ বছরের বেশি সময়ের প্রচেষ্টা নিয়ে ২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি সানফ্রান্সিসকোতে প্রথম আইফোন হাতে হাজির হন কিংবদন্তী জবস।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আইফোন বিক্রি শুরু হয় ওই বছরের ২৯ জুন। নতুন এ উদ্ভাবনের চমক ও বিক্রির জনপ্রিয়তা দেখে সংবাদ মাধ্যম আইফোনকে জেসাস ফোন নামে ডাকা শুরু করে। ওই বছর নভেম্বর থেকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানিতে আইফোন বিক্রি শুরু হয়।

সেই যে যাত্রা শুরু তা বিরামহীন গতিতে এগিয়ে চলছে আর অ্যাপল দিনকে দিন বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অ্যাপল ১০টি মডেল বাজারে এনেছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে এলো আইফোন ৬ এবং আইফোন ৬ প্লাস।

এবার দেখে নেওয়া যাক আইফোনের সংস্করণগুলো কেমন ছিল।

প্রথম আইফোন
২০০৭ সালের মোবাইল বাজারে যখন বেশিরভাগ মোবাইলে ব্যবহার করা হত বাটন, সেসময় অ্যাপল নিয়ে আসে টাচস্ক্রিনভিত্তিক মোবাইল ফোন। আইফোন নামের ফোনটি যেন সবাইকে জাদু করে। হ্যান্ডসেটটির আরেকটি বিশেষ ফিচার ছিল ‘ভিজুয়্যাল ভয়েস মেইল’।

এটিই ছিল প্রথম ভয়েস মেইল সেবা, যেখানে ভয়েস মেইলের লিস্ট থেকে বাছাই করে শোনা যেত মেইলটি।

আইফোন ৩জি
প্রথম বছরের ব্যাপক সফলতা পাওয়ায় আইফোন নিয়ে অ্যাপলের নতুন ভাবনা ডানা মেলতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ও বাণিজ্যিক সফলতার উদ্ভাসিত হয়ে ২০০৮ সালে বাজারে আসে আইফোন ৩জি।

দ্বিতীয় প্রজন্মের পর একেবারে ৩জিতে প্রবেশ করে অ্যাপল। এ কারণে আইফোন ২ আনার পরিবর্তে আইফোন ৩জি নিয়ে হাজির হয় জায়ান্টটি। এটির অপারেটিং সিস্টেম ছিল আইফোন ২.০।

এতে প্রথমবারের মত অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ইনস্টল করার সুযোগ নিয়ে আসে।

আইফোন ৩জিএস
আরও নতুন করে আইফোনকে সাজাতে এগিয়ে চলে জবসের কাজকর্ম। এ কারণে দ্বিতীয় মডেল আনার পর খুব দ্রুততম সময়ে এতে পরিবর্তন আনেন তিনি। একবছরের মধ্যে আইফোন ৩জি-র চেয়ে দ্বিগুণ গতির আইফোন ৩জিএস বাজারে আসে ২০০৯ সালে।

সেটটিতে আরও ছিল অটোফোকাস ক্যামেরা, ভিডিও রেকর্ডিং ও ভয়েস কন্ট্রোল ফিচার।

আইফোন ৪
২০১০ সালের জুনে আসে স্লিম ডিজাইনের আইফোন ৪ আবারও নতুন চমক নিয়ে হাজির হয় অ্যাপল। প্রথমবারের মতো এ ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেটের সাহায্যে ভিডিও কল করার পদ্ধতি আবিষ্কার করে সবাইকে অবাক করে দেয় টেক জায়ান্টটি।

এ ছাড়াও এতে ছিল ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও রেটিনা ডিসপ্লে। যার ফলে ছবির মান ভালো হতে থাকে। ক্যামেরার কারণে নতুন করে অনেক ব্যবহারকারী প্রেমে পড়ে যায় আইফোনের।

আইফোন ৪এস
মোবাইল ফোনকে জিজ্ঞেস করা হলে তা সঙ্গে সঙ্গে উওর দেবে? পথ দেখিয়ে দেব? এমনটা কেউ ভাবেনি কখনও। তবে ভেবেছিল অ্যাপল। এরই সূত্র ধরে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেয় স্মার্ট ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সফটওয়্যার সিরির সাথে।

এ স্মার্ট ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট সফটওয়্যারই ছিল আইফোন ৪এস এর প্রধান ফিচার।

একইসঙ্গে ১০৮০ পিক্সেলের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ডিং ক্যামেরাও ছিল হ্যান্ডসেটটির জনপ্রিয়তা পাবার কারণ।

আইফোন ৫
হালকা এবং আকষীর্ন ডিজাইনের জন্য ২০১৩ সালে বাজারে আনা হয় আইফোন এটি আগের মডেলগুলোর চেয়ে দ্রত গতির প্রসেসর নিয়ে আরও আরও হালকা, স্লিমভাবে তৈরি করা হয়।

অ্যাপলের মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ফিল শিলারের মতে, অ্যাপলের তৈরি কনজিউমার ইলেক্ট্রনিক পণ্যের মধ্যে আইফোন ৫-ই সবচেয়ে সুন্দর ডিভাইস।”

আইফোন ৫সি
নীল, হলুদ, গোলাপি, সবুজ ও সাদা এ পাঁচ রংয়ে আইফোন ৫সি বাজারে আসে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। এটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ছিল বর্ধিত ব্যাটারি লাইফ এবং নতুন ফেইসটাইম ক্যামেরা।

আইফোন ৫এস
অ্যাপলের সবচেয়ে দুরদর্শী স্মার্টফোন এটি- আইফোন ৫এস বাজারে আনার সময় এমন ঘোষণাই দিয়েছিল অ্যাপল। এ৭ চিপের মাধ্যমে ৬৪-বিট ডেস্কটপ কম্পিউটারের অভিজ্ঞতা ব্যবহারকারীদের হাতের মুঠোয় এনে দেয় হ্যান্ডসেটটি।

এ ছাড়া হ্যান্ডসেটটির ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলক সিস্টেম ও অ্যাপ পারচেজ অথরাইজিং সিস্টেম মুগ্ধ করে ব্যবহারকারীদের।

আইফোন ৬
২০১৪ সালে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বড় আকারের ডিসপ্লের স্মার্টফোনগুলো। তাই জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ৪.৭ ইঞ্চি ডিসপ্লের স্মার্টফোন আনার ঘোষণা দেন বর্তমান সিইও টিম কুক।

এতে অপারেটিং সিস্টেমে হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আইওএস ৮। ৬৪বিট অ্যাপল এ৮ চিপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আগের আইফোন সংস্করণ থেকে ১৩ ভাগ ছোট, কিন্তু ২০ গুণ বেশি কার্যকরী। এর গ্রাফিক্সও চেয়ে ৫০ শতাংশ উন্নত।

আইফোন ৬ প্লাস
স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট সিরিজের বড় আকৃতির স্মার্টফোনগুলোর সাথে পাল্লা দিতে আইফোন ৬ প্লাস নামে ৫.৫ ইঞ্চির আরেকটি আইফোনের কথাও জানানো হয় একই সময়। এটির কনফিগারেশন আইফোন ৬ এর মতই। শুধু পার্থক্য ডিসপ্লেতে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন