এজলাস ছাড়াই চলছে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি: তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলে গেছে। অপরাধ তালিকায় যুক্ত হয়েছে সাইবার ক্রাইম। এ অপরাধ সংঘটিত হয় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। অর্থাৎ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে অন্যকে হয়রানি, ব্ল্যাকমেইল করা। ক্রমবর্ধনশীল এ অপরাধ রোধে দেশে গঠিত হয়েছে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এ ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব এজলাস হয়নি।

এছাড়া মামলার নথি সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বসার স্থান না থাকাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এ ট্রাইব্যুনাল। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও এই আদালতে এ পর্যন্ত রায় হয়েছে তিনটি মামলার, কার্যক্রম চলেছে ২২টির। তদন্তাধীন মামলা শতাধিক।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর আদালত ভবনের বিশেষ জজ আদালত ১-এর এজলাস ভাগাভাগি করে চলে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম। বিশেষ জজ আদালত ১-এর কার্যক্রম শেষ হলে সেখানে বিচারকার্য পরিচালনার সুযোগ পান সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এটিএম শামসুল ইসলাম। এছাড়া এ আদালতের পেশকার বসেন অন্য একটি আদালতের অনুলিপি শাখায়। আর রাষ্ট্রপরে একমাত্র আইনজীবীর বসারও কোনো জায়গা নেই। মামলার নথি সংরক্ষণের স্থান না থাকায় বিচারকের খাসকামরায় রাখতে হয়। এদিকে আদালতের নিজস্ব স্থান না থাকায় এজলাস খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েন বিচারপ্রার্থীরা।
সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে শাস্তি হয়েছে ফরিদপুরের নগরকান্দার শাহিন শেখের (২৫)। তার অপরাধ পাশের বাড়ির এক নারীর নগ্ন ছবি মোবাইল ফোনে ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা। এ কাজে তার সহযোগী ছিল মান্দার শেখ ও হায়দার মোল্লা। কিন্তু ওই নারী শাহিনের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় মোবাইলে ধারণকৃত ছবি ব্লু টুথের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় শাহিন। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি আশ্রয় নেয় সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ট্রাইব্যুনাল শাহিনকে ৭ বছরের কারাদ- ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। অন্যদিকে খালাস পায় তার দুই সহযোগী। এ জাতীয় অপরাধ ও হয়রানি ঠেকাতেই বাংলাদেশ সরকার ২০০৬ সালে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন প্রণয়ন করে।

আইনের ৬৮ ধারা অনুসারে ২০১৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। এ পর্যন্ত এ ট্রাইব্যুনাল বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তি করার মামলাসহ তিনটি মামলার রায় দিয়েছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় ফাঁসের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী-পুত্রসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। শিগগির এই ট্রাইব্যুনালে ওই মামলার কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া তদন্তাধীন আছে স্কাইপ কেলেঙ্কারির মামলায় দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাসহ শতাধিক মামলা।

এ বিষয়ে সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপরে আইনজীবী নজরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, এই ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব কোনো এজলাস নেই। তিনি বলেন, আমাদের মামলা নিষ্পত্তির হার ভালো। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলার তদন্তে খুব বেশি সময় নেয়। এ জন্য মামলা নিষ্পত্তিতে সময় বেশি লাগে। দিন দিন সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে মামলা বাড়বে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, এজলাসসহ নিজস্ব প্রয়োজনীয় জায়গা থাকলে মামলা নিষ্পত্তির গতি আরও বাড়বে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন