জেনে নিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ইন্টারনেট ব্রাউজারগুলো

0

আমাদের ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে হলে অবশ্যই ইন্টারনেট ব্রাউজারের প্রয়োজন। আজকে আমরা যে ব্রাউজারগুলো ব্যবহার করছি সেগুলো প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন সুবিধা। ইন্টারনেট ব্রাউজারগুলোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, সুবিধাগুলো এখানে তুলে ধরা হলো। এ লেখায় প্রথমে আলোচনা করা হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্রাউজার নিয়ে, তারপর আলোকপাত করা হয়েছে ডেস্কটপ ইন্টারনেট ব্রাউজারগুলোর ওপর।

কমপিউটার ইন্টারনেট ব্রাউজার
ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার (Internet EXplorer) : আমরা যারা মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করি তারা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের সাথে পরিচিত। এটি হলো বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং অধিক ব্যবহৃত ব্রাউজার। নিরাপত্তা, উন্নত RSS dXW, CSS, AjaX সাপোর্টের জন্য এটি আরও অধিক জনপ্রিয় হয়েছে। এই ব্রাউজারটি সর্বপ্রথম ১৯৯৫ সালে উইন্ডোজ ৯৫-এর জন্য অ্যাড-Ab Plus! For Windows 95-এর সাথে যুক্ত করা হয়। পরে এটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাথে বাই-ডিফল্ট দেয়া হয়। ১৯৯৯ সালে ৯৫ শতাংশ এবং বর্তমানে (জুলাই ২০১২ অনুসারে) ২৮.৬ শতাংশ (সূত্র : w3counter.com) লোক ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করে থাকেন।

ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের নতুন ভার্সনে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো রয়েছে :
• Accelerators – which allow supported web applications to be invoked without eXplicitly navigating to them.
• WebSlices – which allows portions of page to be subscribed to and monitored from a redesigned Favorites Bar.
• InPrivate privacy features.
• SmartScreen phishing filter.

ডাউনলোড : এই লিঙ্কে (http ://windows.microsoft.com/en-US/internet-eXplorer/downloads/ie) ক্লিক করে আপনার অপারেটিং সিস্টেম অনুযায়ী সর্বশেষ ভার্সন ডাউনলোড করে নিন।

গুগল ক্রোম (Google Chrome) :
জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগল কর্তৃক তৈরিকৃত ইন্টারনেট ব্রাউজার হলো গুগল ক্রোম। প্রথম বেটা ভার্সন বের হয় ২ সেপ্টেম্বর ২০০৮ এবং স্ট্যাবল ভার্সন রিলিজ হয় ১১ ডিসেম্বর ২০০৮। ডিসেম্বর ২০১২-এর হিসাব অনুযায়ী এটি ব্যবহারকারীর দিক থেকে দ্বিতীয়। বিশ্বের প্রায় ২৮.৩ শতাংশ লোক গুগল ক্রোম ব্যবহার করে থাকেন। বাংলাসহ পৃথিবীর ৫০টি ভাষায় এটি ব্যবহার করা সম্ভব।

ডাউনলোড : ব্রাউজারটি ডাউনলোড করতে www.google.com/chrome-এ যান।

মজিলা ফায়ারফক্স (Mozilla FirefoX) :
আমরা কমবেশি সবাই মজিলা ফায়ারফক্সের কথা শুনেছি/ব্যবহার করছি। ব্যবহারকারীদের সংখ্যা অনুযায়ী এই ব্রাউজারের অবস্থান এখন তৃতীয়। মজিলা ফায়ারফক্সের প্রথম নাম ছিল ফনিক্স (২৩ সেপ্টেম্বর, ২০০২), কিন্তু ফনিক্স টেকনোলজিসের সাথে কপিরাইট জটিলতার জন্য নাম পরিবর্তন করা হয়। তখন এর নাম হয় Mozilla Firebird (১৭ মে, ২০০৩) । কিন্তু শুধু ফায়ারবার্ড নামে একটি ডাটাবেজ সফটওয়্যার ছিল। তাই ২০০৪ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মজিলা ফায়ারবার্ডের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মজিলা ফায়ারফক্স। তখন থেকে ব্যবহারকারীদের চাহিদা পূরণ করে যাচ্ছে মজিলা ফয়ারফক্স। এই ব্রাউজারের রয়েছে উন্নত সিকিউরিটি, রয়েছে হাজার হাজার অ্যাড-অন ব্যবহারের সুবিধা। ব্যবহারকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সর্বশেষ ভার্সনে অনেক নতুন নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে।

ডাউনলোড : ব্রাউজারটি ডাউনলোড করতে চলে যান মজিলার ওয়েবসাইটে। http://www.mozilla.org/en-US/firefoX/fX/

অপেরা (Opera) :
যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকেন তারা অপেরা মিনি/মোবাইল ব্রাউজারটির সাথে পরিচিত। এই ব্রাউজারটির পিসি ভার্সনের প্রজেক্ট শুরু হয় ১৯৯৪ সালে। নরওয়ের বিখ্যাত টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি টেলেনর এই প্রজেক্ট শুরু করে। পরে ১৯৯৫ সালে এই কোম্পানির শাখা হিসেবে Opera Software ASA প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে ব্রাউজারটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তখন এটি শুধু Microsoft Windows-এ চালানো যেত। পরে ২০০০ সালে আরও কয়েকটি অপারেটিং সিস্টেম এবং মোবাইলের জন্য ব্রাউজার উন্মুক্ত করে। ২০০০ সালেই এটি বিনামূল্যে বাজারে ছাড়া হয়। কিন্তু ব্রাউজারে অ্যাড-ব্যানার থাকত। কিন্তু ২০০৫ সালের অপেরা ৮.৫ অবমুক্ত করার সাথে সাথে এটি সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপনমুক্ত ব্রাউজার এবং বিনামূল্যের ব্রাউজারে পরিণত হয়। অপেরা ব্রাউজারে রয়েছে নিজস্ব অ্যাড-ব্লকিং, ডাউনলোড ম্যানেজার এবং টরেন্ট ক্লায়েন্ট। অর্থাৎ টরেন্ট ডাউনলোড করতে অতিরিক্ত কোনো সফটওয়্যারের প্রয়োজন হবে না।

ডাউনলোড : ব্রাউজারটির সর্বশেষ ভার্সন ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে http://www.opera.com/download/

সাফারি (Safari) :
সাফারি হলো প্রয়াত স্টিভ জবসের প্রতিষ্ঠান অ্যাপল ইঙ্কের তৈরি একটি ইন্টারনেট ব্রাউজার। সাফারি ব্রাউজারটি সর্বপ্রথম ৭ জানুয়ারি ২০০৩ সালে বেটা ভার্সন হিসেবে রিলিজ হয়। Mac OS X v10.3 থেকে সাফারি ব্রাউজার ডিফল্টভাবে দেয়া আছে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজের জন্য ১১ জুন ২০০৭ সালে সাফারি ব্রাউজার রিলিজ করা হয়। এ ছাড়া অ্যাপলের আইফোনের iOS-এর ডিফল্ট ব্রাউজার সাফারি। এটির অবস্থান ব্যবহারকারীদের সংখ্যার ভিত্তিতে চতুর্থ।

ডাউনলোড : সুন্দর এই ব্রাউজারটি আপনার পিসির জন্য ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে www.apple.com/safari/download/

ম্যাক্সথন (MaXthon) :
ম্যাক্সথন হলো বিনামূল্যে পাওয়া যায় এমন আরেকটি ব্রাউজার। এটি শুধু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার করা যায়। ব্রাউজারটি প্রথম ২০০৩ সালে অবমুক্ত করা হয়। এটি মূলত ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। ব্রাউজারটি পিসি ওয়ার্ল্ডের সেরা ১০০ পণ্যের তালিকায় ২০১১ সালে স্থান করে নিয়েছে। ব্রাউজারটি অবমুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশের প্রায় ১৩০,০০০,০০০ মানুষ ব্যবহার করেছেন। ম্যাক্সথন দাবি করে যে গুগল ক্রোম ব্রাউজার থেকে তাদের ব্রাউজার শতকরা ২০০ ভাগ দ্রুতগতির। তাই আপনারা একবার ডাউনলোড করে ব্যবহার দেখতে পারেন।

ডাউনলোড : গ্রাফিক্যালি সুন্দর ও দ্রুতগতির এই ব্রাউজারটি আপনারা এখান থেকে www.maXthon.com ডাউনলোড করতে পারবেন।

সিমাঙ্কি (SeaMonkey) :
সিমাঙ্কি হলো একের ভেতর তিন। কারণ এটি একই সাথে ব্রাউজার, মেইল অর্গানাইজার এবং এইচটিএমএল এডিটর। সিমাঙ্কি একটি ওপেনসোর্স ফ্রি সফটওয়্যার। এটি আগে মজিলা অ্যাপ্লিকেশন স্যুটের সাথে ছিল, কিন্তু পরে আলাদা অ্যাপ্লিকেশনে পরিণত করা হয়। তাই এর সোর্সকোড এবং মজিলার সোর্সকোড একই। সিমাঙ্কি আসলে একটি কোডনেম ছিল। নেটস্কেপ এবং মজিলা ফাউন্ডেশন সিমাঙ্কি কোডনেমটি Netscape Communicator 5 (যা কখনো রিলিজ হয়নি)-এর জন্য ব্যবহার করত। সিমাঙ্কির প্রথম আলফা ভার্সন রিলিজ হয় ১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৫ সালে এবং প্রথম স্ট্যাবল ভার্সন রিলিজ হয় ৩০ জানুয়ারি ২০০৬ সালে।

ডাউনলোড : দারুণ এই ইন্টারনেট স্যুটটি ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে http://www.seamonkey-project.org/

কে-মেলন (K-Meleon) :
কে-মেলন হলো খুবই হালকা ও ইউজার ফ্রেন্ডলি ওয়েব ব্রাউজার। এই ব্রাউজারটি মজিলা তৈরি করে Gecko layout engine-এর সাহায্যে। ব্রাউজারটি খুবই কম রিসোর্স ব্যবহার করে, তাই এটি অনেক দ্রুত। এ ছাড়া যেকোনো ইউজার ব্রাউজারটির মেনু কাস্টোমাইজ করতে পারবেন। এ ছাড়া ব্রাউজারটির জন্য থিমও পাওয়া যায়। এই ব্রাউজারটি বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং শুধু মাইক্রোসফট উইন্ডোজ (Win32)-এ ব্যবহার করা যায়। ব্রাউজারটির প্রথম ভার্সন রিলিজ হয় ২১ আগস্ট ২০০০ সালে এবং সর্বশেষ স্ট্যাবল ভার্সন রিলিজ হয় ৫ মার্চ ২০১০ সালে।

ডাউনলোড : হালকা এই ব্রাউজারটি ডাউনলোড করতে পারেন এখান থেকে http://kmeleon.sourceforge.net/download.php

অ্যাভান্ট ব্রাউজার :
অ্যাভান্ট ব্রাউজার হলো একটি ফ্রিওয়্যার ব্রাউজার, যা মূলত ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই এটি শুধু মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে চলে। এই ব্রাউজারের প্রোগ্রামার হলেন অ্যান্ডারসন চে। তিনি মূলত অপেরা ব্রাউজারের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ব্রাউজারটি তৈরি করেন। তাই তিনি এই ব্রাউজারের নাম দিয়েছিলেন IEOpera। কিন্তু ট্রেডমার্ক জটিলতার কারণে তাকে ব্রাউজারের নাম পরিবর্তন করতে হয়।

এর সর্বশেষ ভার্সনে Built-in Download Manager, Advertise. Pop-up Blocker আছে। বর্তমানে ব্রাউজারটির Lite (শুধু IE ইঞ্জিন) এবং Ultimate (IE/FirefoX/Chrome ইঞ্জিন) এই দুটি ভার্সন আছে।

ডাউনলোড : ব্রাউজারটি ডাউনলোড করতে চলে যান এই লিঙ্কে avantbrowser.com/download.aspX?uil=en-us

আরও ব্রাউজার : এ ছাড়া ইন্টারনেট ঘাঁটলে আপনি আরও অনেক ব্রাউজার খুঁজে পাবেন। যেমন-Comodo Dragon, Flock, Netscape ইত্যাদি।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন