আর্জেন্টিনার পাতাগোনিয়ায় নতুন এক প্রজাতির ডাইনোসরের জীবাশ্ম (ফসিল) উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিশালকায় সরোপডের এটিই সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ নমুনা। ড্রেডনোটাস শার্নি নামের ওই ডাইনোসর সম্ভবত প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যায়।

ডাইনোসরটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করার জন্য প্রয়োজনীয় ৭০ শতাংশ গুরুত্বপূর্ণ হাড়গোড় খুঁজে পাওয়া গেছে। ফলে প্রাণীটি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া তেমন কঠিন হবে না বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। অতিকায় প্রাণীটি মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত প্রায় ২৬ মিটার লম্বা এবং এটির ওজন প্রায় ৬০ টন ছিল বলে ইঙ্গিত মিলেছে। আর ড্রেডনোটাস-এর হাড়গুলোর বৃদ্ধি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অব্যাহত থাকত।

পাতাগোনিয়ার যে অঞ্চলে ফসিলটি পাওয়া গেছে, সেখানকার পাথর বিশ্লেষণের তথ্য অনুযায়ী প্রলয়ঙ্করী কোনো বন্যায় অল্প বয়সেই ডাইনোসরটির মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ-সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। ওই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া অঙ্গরাজ্যের ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ কেনেথ ল্যাকোভারা।

তিনি বলেন, প্রকাণ্ড আকৃতির কারণে ডাইনোসরটি সম্ভবত অন্যান্য প্রাণীর কাছে আতঙ্ককর ছিল। এরা আকারে একটা আস্ত বাড়ির সমান এবং ওজনে একপাল হাতির সমান। আর এদের নয় মিটার লম্বা লেজটি ছিল এক শক্তিশালী অস্ত্রের মতো। তাই ড্রেডনোটাসরা সম্ভবত কাউকে ভয় পেত না।

প্রাণীটির নাম দেওয়া হয়েছে ড্রেডনোটাস, যা উনিশ শতকের প্রথম দিকে নৌযুদ্ধে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনকারী একটি প্রকাণ্ড রণতরির নাম। দুর্ভেদ্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ওই জাহাজকে আশপাশ থেকে আক্রমণ করে তেমন ক্ষতি করা সম্ভব হতো না। একইভাবে ড্রেডনোটাসও তৎকালীন পরিবেশে ছিল দুর্জয়। প্রাচীন ইংরেজি ভাষায় শব্দটির অর্থ: কাউকে ভয় করে না।

ড্রেডনোটাস হচ্ছে তথাকথিত টাইটানোসরাস গণভুক্ত ডাইনোসরগুলোর একটি। ভূপৃষ্ঠে এই লম্বা গলাওয়ালা তৃণভোজী প্রাণীরাই ছিল আকারে সবচেয়ে বড়।
এএফপি ও বিবিসি।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন