ফেসবুকে সক্রিয় হওয়ার তাগিদ সচিবদের

0

প্রশাসনিক কাজের সমস্যা সমাধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’ ব্যবহার করবেন সচিবেরা। এ লক্ষ্যে একটি ফেসবুক গ্রুপও খোলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিব সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ইশতিয়াক আহমেদ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঞা এতে সভাপতিত্ব করেন।

অতিরিক্ত সচিব জানান, নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি সচিবদের ফেসবুক গ্রুপে প্রশাসনিক বিভিন্ন সমস্যা ও তা সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করবেন সচিবেরা। তিনি বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়। কিন্তু সময় কম থাকায় সব আলোচনা শেষ করা যায় না। এ জন্য সচিবেরা বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের সমস্যা নিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সেগুলোর সমাধান করতে পারবেন। তিনি জানান, ফেসবুকে সচিবদের নিয়ে যে গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে তার মাধ্যমে তারা কোনো বৈঠকের আগেই আলোচনার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পারবেন। ফলে বৈঠকে সেভাবে আলোচনার দরকার হবে না।

কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের সহায়তায় জাতীয় ই-সার্ভিস সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে এ পদ্ধতি বাস্তবায়নাধীন। সরকারি নথি ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা বাড়াতে এবং নথি নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতেই ফেসবুক ব্যবহার পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রশাসনের সব কর্মকর্তার ফেসবুকে অন্তর্ভুক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে প্রশাসন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। এর ভিত্তিতে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা গ্রুপ ভিত্তিক ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। সভায় নিজেদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন তারা। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে বেতন কতটুকু বাড়তে পারে এ বিষয়ে জানতে চান। উত্তরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, নিশ্চয়ই বাজারদরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সচিবদের বেতন-ভাতা বাড়বে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে যেসব নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেগুলো দ্রুত ও ঠিকমতো বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিতে বলা হয়েছে সচিব সভায়।

অতিরিক্ত সচিব ইশতিয়াক বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে পরিদর্শন করছেন এবং সরকারের সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন মাঠে গিয়ে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো সরজমিন পরিদর্শন করবেন। অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। ডিসিদের মতো সচিব, বিভাগীয় প্রধান, সংস্থা প্রধান এবং মাঠ প্রশাসনে ইউএনওরা গণশুনানি করবেন। তা আরও বাড়াতে সচিব হিসেবে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠিয়ে থাকে।

এসব প্রস্তাব সিস্টেমের মধ্যে থেকে টাইম বাউন্ড অ্যাকশন প্ল্যানের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে। যাতে হ-য-ব-র-ল অবস্থা তৈরি না হয়। এছাড়া, মন্ত্রণালয়ের প্রায়োরিটি প্রকল্পের উপরও জোর দেয়া হয়েছে সচিব সভায়। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুফলভোগীদের ডাটাবেজ তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যেগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে তার গতি আরও বাড়াতে বলা হয়েছে। সচিবদের মধ্যে কেউ কেউ জানান, তাদের পর্যায়ে গণশুনানি, জনবল নিয়োগ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির সুফলভোগীদের ডাটাবেজ তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে।

অতিরিক্ত সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছিল, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির আওতায় সুফলভোগীদের ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে। ওই অনুযায়ী কতটুকু হয়েছে তাও দেখা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে আসা সারসংক্ষেপ সঠিকভাবে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ডেস্ক অফিসারদের কথা মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি জন কর্মচারীর জন্য বছরে ১০০ ঘণ্টা ট্রেনিং থাকা দরকার।

ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এক সঙ্গে ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন। ওই বিষয়টিও সচিব সভায় বলা হয়েছে। এছাড়া, আইএমইডি’র পাশাপাশি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে মনিটরিং জোরদার করার জন্য বলা হয়। সচিব সভায় ৬০ জন সচিব উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১৬ জন সচিব বক্তব্য রাখেন। তারা বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরেন।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন