বাংলাদেশী ব্র্যান্ড ওয়ালটন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে।গত বৃহষ্পতিবার নেপালের বাজারে মোবাইলসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানিতে যাওয়া ওয়াল্টন নেপালের প্রধান দুটি পত্রিকায় ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন ছেপে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। কাঠমান্ডু থেকে প্রকাশিত সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক কান্তিপুর ও কাঠমান্ডু পোস্ট-এর প্রথম ও দ্বিতীয় পাতার পুরোটা জুড়েই ছিল শুধু ওয়ালটনের বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি দেখা যাবে এই ঠিকানায়।

প্রথম পাতায় ওয়ালটন এবং নেপালে ওয়ালটনের সোল ডিস্ট্রিবিউটর রিডা ইনকরপোরেটেড প্রাইভেট লিমিটেডের লোগো ও ঠিকানা ছাপা হয়েছে। লেখা হয়েছে ‘গ্লোবাল ব্র্যান্ড অ্যাক্সিলেন্স’ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত ওয়ালটন। দ্বিতীয় পাতায় ওয়ালটনের বিভিন্ন পণ্যের সম্ভার। জ্যাকেট পেজ নামের ওই বিজ্ঞাপন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে নেপালজুড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে তা ছড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ-ভারতসহ সর্বত্র।যারা ওয়ালটন সম্পর্কে জানেন, তারা অবাক, এত বড় বিজ্ঞাপন ছেপেছে! নিশ্চয় এখানে তাদের ব্যবসা অনেক ভালো। যারা জানতেন না তারা খোঁজখবর নিয়ে দেখেছেন, এটি বাংলাদেশের ব্র্যান্ড। সেই সঙ্গে জেনেছেন মেড ইন বাংলাদেশ খ্যাত ওয়ালটনের পণ্যমান অনেক উন্নত, দামেও সাশ্রয়ী।

এদিকে নিউ বানেশ্বরে রিডা ইনকরপোরেটেড প্রাইভেট লিমিটেডের অফিসে সকাল থেকেই ছিল অসংখ্য মানুষের ভিড়। রিডার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সরফরাজ আনসারি জানান, বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের অনেক ব্যবসায়ী এসেছেন ওয়ালটনের ডিস্ট্রিবিউটর থেকে। নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে অনেকেই ফোন করে ডিলার বা পরিবেশক হতে চেয়েছেন। তিনি আরো জানান, এই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নেপালি ক্রেতাদের মধ্যে ওয়ালটন সম্পর্কে বড় এবং ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে সম্প্রতি ওয়ালটনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাশ্রয়ী মূল্য হওয়ায় ওয়ালটনের সামনে নেপালের বাজারে আধিপত্য বিস্তারের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সেই প্রবল সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মোবাইলসহ অন্য পণ্য বিপণনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ওয়ালটন। বর্তমানে নেপালের বাজারে রপ্তানি হচ্ছে ওয়ালটনের ফ্রিজ, টেলিভিশন এবং এয়ারকন্ডিশনার।

নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি খান মো. মইনুল হোসেনের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী এলজি এবং স্যামসাং ব্র্যান্ডের পণ্যের চেয়ে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের পণ্যমূল্য খুবই কম। আবার মানের দিকে থেকে ওয়ালটন খুবই ভাল। সব মিলিয়ে ওয়ালটনের সামনে সুযোগ রয়েছে এখাতে নেপালের বাজারে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের। বিনা শুল্কে নেপালে পণ্য প্রবেশের ব্যাপারে খুব শিগগিরই নেপালের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে। সেখানে আমরা ইলেকট্রনিক্স ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছি। সেটি কার্যকর হলে নেপালে ওয়ালটন পণ্যের দাম আরও কমে যাবে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন