তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব হিসেবে মো. নজরুল ইসলাম খান বিদায় নিলনে এবং নতুন সচিব হিসেবে শ্যাম সুন্দর শিকদারের আগমন উপলক্ষে রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ বিসিসি ভবনে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।এই অনুষ্ঠানের উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি।

আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামালউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল’র (বিসিসি) নির্বাহী পরিচালক এসএম আশরাফুল ইসলাম, হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস হোসনে আরা বেগম, আইসিটি আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোস্তফা কামাল উদ্দিন, আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব গাজী মিজানুর রহমান, সিসিএ’র (কন্ট্রোলার অফ সার্টিফায়িংক অথরিটি) নিয়ন্ত্রক জি.এম. ফখরুদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, শ্যামসুন্দর সিকদার ১৯৬০ সালে তৎকালীন বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার পূব-মাদারীপুরের নড়িয়া থানার লোনসিং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে এটি শরিয়তপুর জেলার অন্তর্গত। তার পিতার নাম-গিরেদ্রমোহন সিকদার, মাতার নাম-কৃষ্ণদাসী সিকদার। ৬ ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ৩য়। মাটি-জল, খাল-নদী এবং শস্য-শ্যামল প্রকৃতি দেখে দেখে গ্রামীণ পরিবেশে তাঁর কৈশোর কেটেছে।

নিজগ্রাম দক্ষিণ লোনসিংহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর প্রথম পাঠ শুরু। পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত এই স্কুলে অধ্যায়ন। অতঃপর নড়িয়া বিহারী লাল হাই স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করে পরবর্তীতে ফেণী মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হন। ১৯৭৫ সালে ঐ স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাশ করে ফেণী কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৭৭ সালে একই কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি এবং ১৯৭৯ সালে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৮১ সালে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৮ সালে নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে এমবিএ ডিগ্রি প্রাপ্ত হন।

তার প্রথম কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। এরপর ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান। তিনি ১৯৮৪ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৮৬ সালে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান করে মাঠ পর্যায়ে এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৫ সালে উপ-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব হন। এরপর সাভারস্থ পিএটিসিতে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে অধীনে এবং ২০১০ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। সেখানে দায়িত্ব পালন অবস্থায় ২০১২ সালে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং কিছুদিন পর গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে তিনি বিসিকের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন