মহাসড়কে বসলো ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা

0

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নিবিঘ্ন যাতায়াতের লক্ষ্যে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার, সাভার বাসস্ট্যান্ড, নবীনগর, ধামরাই এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, বাইপাইল, কবীরপুর ও চন্দ্রায় আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তাহীন মহাসড়ককে আরো নিরাপদ করতেই নিবিড়ভাবে এ ধরনের নজরদারীর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বুধবার দুপুর থেকে।

সুইচ টিপে ঢাকা জেলা পুলিশের উদ্যোগে আশুলিয়ার বাইপাইল পুলিশ বক্সে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার। উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নিবিঘ্ন যাতায়াতের লক্ষ্যে ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও কুমিল্লা জেলার সড়ক-মহাসড়কগুলোর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং এর লক্ষ্যে এ সকল সড়ক-মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ইন্টারনেট প্রোটকল (আইপি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যখন মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যায়, পথচারীর সংখ্যা বেড়ে যায়, ঠিক সেই মুহূর্তে আমরা প্রযুক্তি নিভর হওয়ার চেষ্টা করছি। কারণ প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমরা আমাদের প্রতিবন্ধকতাগুলো অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারব।

পুলিশের মহাপরিদর্শক আরো বলেন, আইপি ক্যামেরায় কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত তদারকির ব্যবস্থা যেখানে ইন্টারনেট প্রোটকল (আইপি) ব্যাজ প্রতিটি সিগনাল ক্যামেরা একই স্থান থেকে পৃথকভাবে আইডেন্টিফাই করা সম্ভব হবে। যার মাধ্যমে সকল সড়ক-মহাসড়কের যানজটসহ বিভিন্ন প্রকার নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা এবং সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা পূর্বক পরবর্তী স্থানকে সতর্ক করা যাবে। এটি অ্যানালগ ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশনের বিকল্প এবং ইন্টারনেট ভিত্তিক ডিজিটাল ক্যামেরা যা সাধারণত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হয়। যার মাধ্যমে এক স্থান থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থিত ক্যামেরাসমূহকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করে ইমেইজ রেকডিং এবং মনিটরিং করা সম্ভব। ফলে সড়কে নিরাপত্তার পাশাপাশি কেউ জ্বালাও পোড়াওয়ের কিংবা গাড়ি ভাংচুরের মতো ফৌজদারী অপরাধ করে পালাতে পারবে না। তাকে ধরা পড়তেই হবে। আইনের আওতায় আসতে হবে। সতিনি জানান, তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে এভাবে কেন্দ্রিয়ভাবে সড়ক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় অপরাধ প্রবণতা অনেক কমে আসবে। মানুষ স্বস্তিতে সড়ক ব্যবহার করতে পারবে। পর্যায়ক্রমে গোটা সড়ক নেটওয়ার্কে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ঢাকা জেলার উত্তরাঞ্চলের ৪টি প্রবেশ দ্বারসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি পয়েন্টে ইন্টারনেট প্রোটোকল ক্যামেরা (আইপি) বসানো আছে। পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরার সংখ্যা ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। ঈদ ও পূজায় ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও বছর জুড়েই তা চলবে। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার মতোই নিবির পর্যবেক্ষণে থাকা এসব ক্যামেরার বৈশিষ্ট হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেখানেই থাকুন না কেন অফিসে বসে কিংবা চলন্ত অবস্থায় মোবাইল ফোনেই দেখতে পাবেন সড়কের পরিস্থিতি।

প্রসঙ্গত, কমিউনিটি পুলিশের অংশ হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠির সহায়তায় এ কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হাবিবুর রহমান। তিনি জানান, ঢাকা আরিচা মহাসড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। পরীক্ষামূলকভাবে এ উদ্যোগে আমরা সাড়া পাচ্ছি। আইজিপি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করায় এ কার্যক্রম আরো গতি লাভ করবে বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগের সম্প্রাসারণ করতে ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের প্রবেশ সীমানা অর্থাৎ ঢাকা জেলার শেষ সীমানা ধামরাইয়ের বারোবাড়িয়ায় ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে।

একটি নির্দিষ্ট সাইটে ঢুকে নির্দিষ্ট পাসওয়ার্ড দিয়ে থানা, পুলিশ বক্স কিংবা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সবখানেই স্থাপিত মনিটরে দেখা যাবে সড়কের হাল। আর এই কার্যাক্রমের নিয়ন্ত্রণ করা হবে কেন্দ্রিয়ভাবেই।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন