বছরের পর বছর ধরে বিশ্লেষণ করে গুগল জানিয়েছে, কারা আসলে কোম্পানিতে সাফল্য লাভ করে। অবাক করা ফলাফল পেয়েছে গুগল। তারা দেখেছে, জিপিএ, নামিদামি বা অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ব্রেইন টিজার ইন্টারভিউ এসব আসলে কোম্পানিতে কে ভালো করবে, আর কে খারাপ করবে-এর পিছনে কোন ভূমিকা রাখে না। কারনগুলো ইন্টাররেস্টিং। গুগলের পিপল অপারেশন হেড ল্যাজলো বোক এসব নিয়ে কথা বলেছেন নিউইয়র্ক টাইমস-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে।
সেরা প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটদের “মেধাবৃত্তিক নম্রতা” তেমন থাকে না

মেগান ম্যাকআরডেল সম্প্রতি গবেষণা করে দেখিয়েছেন, কেন লেখকরা গড়িমসি করে। তার কথা হল, এইসব লেখকরা আসলে ইংরেজি ক্লাসে অনেক “এ” পেয়ে এসেছে!এই একই কারনের কথা বলছে গুগল। সফল গ্রাজুয়েটরা শেখে যে, তাদের সবসময় মেধার উপর নির্ভর করতে হবে। এর ফলাফলও তারা পায়- গাদা গাদা “এ”। ব্যর্থতা কী সেটা তারা বুঝতে শেখে না।

ফলে, ব্যর্থতা হতে শেখার মানসিকতা নষ্ট হয়ে যায় তাদের। আর এই কারনে সৃষ্টি হয় এক ধরনের মানসিক বৈকল্যের।গুগল আসলে এমন লোক খুঁজে যারা কিছুটা পিছিয়ে আসতে পারে এবং যাদের অন্যের কাছ থেকে শেখার মানসিকতা আছে। ল্যাজলো বোক বলেন, এটা আসলে “মেধাবৃত্তিক নম্রতা”। আর, নম্রতা ছাড়া আসলে শেখা সম্ভব নয়। বোক আরও বলেন, সফল মেধাবীরা আসলে খুব কম ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়, ফলে তারা জানে না যে কীভাবে ব্যর্থতা থেকে শিখতে হয়।প্রিয় পাঠক, আপনি হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, আমরা যাদের “ভালো এবং মেধাবী” গ্র্যাজুয়েট জানি, তারা কর্মক্ষেত্রে সাধারণত কেমন প্রতিক্রিয়া দেখায়। শুনুন সেটা বোকের মুখ থেকেই।

বোক বলেন, তারা সমস্যার মূলে সাধারণত যায় না। আর কোন প্রজেক্ট যদি সাফলতা পায় তাহলে বলে এটা তার কারনে হয়েছে, সে হচ্ছে জিনিয়াস। আর যদি প্রজেক্ট সমস্যার মধ্যে পড়ে তবে অজুহাত খোঁজে- বলে অন্যের কারণে সমস্যা হয়েছে অথবা আমি তেমন রিসোর্স পায়নি, মার্কেট আসলে এই জায়গায় নেই…।কিন্তু আমরা দেখলাম এই গুগলে যারা সফল হয়েছে এবং আমরা যেমন মানুষ খুঁজি তারা আসলে গুগলে অনরকম একটা অবস্থায় থাকে। তারা ভয়ানক যুক্তিবাদী। নিজের দৃষ্টিকোণে অটুট থাকে। কিন্তু যখন বলবেন, দেখো এখানে নতুন একটা ব্যাপার। তারা সেটা দেখে। এবং যদি আসলেই ভালো হয় এবং তার চিন্তা থেকে উন্নতর কিছু হয়, তাহলে আনন্দের সাথেই বলবে, বেশ, এটাই পরিবর্তন আনবে, তুমিই আসলে ঠিক ছিলে।
যেসব মানুষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সফল হয়, তারা ব্যতিক্রমী
মেধাবী মানুষ আসলে অনেক জায়গায় আছে। কিন্তু কিছু মানবসম্পদ ম্যানেজার লোক বাছাইয়ের জন্য নামকরা কলেজের উপর নির্ভর করে। তারা আসলে গা বাঁচানোর জন্যই এটা করে থাকে। কারন, এক্ষেত্রে অনেক মেধাবী তাদের মূল্যায়নের মধ্যে আসে না।বোক বলেছেন, আপনি দেখবেন, যেসব মানুষ স্কুলে যাওয়া ছাড়াই পৃথিবীতে তাদের নিজেদের পথ খুঁজে নেয়, তারা আসলে ব্যতিক্রমী মানুষ। এসব মানুষকে খুঁজে বের করার জন্য আমাদের সবকিছু করা উচিৎ। অনেক স্কুল আছে তারা যা বলে সেটা আসলে শেখায় না। ফলে যা শেখানো উচিৎ সেটা না শিখিয়ে বরং টন টন ঋণের বোঝা তৈরি করে। এটাকে আপনি বলতে পারেন, “প্রলম্বিত কৈশোর”।

শেখার সক্ষমতা আইকিউয়ের চেয়ে মূল্যবান
একাডেমীর শিক্ষায় ভালো করা অর্থ এই নয় যে, চাকুরীক্ষেত্রেও ভালো করা। কলেজ হল, একটি “কৃত্রিম পরিবেশ”। যেখানে শুধু একই রকম শিক্ষা দেয়া হয়। ফলে একই জিনিস কয়েকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা লোপ পায়। তাই, আইকিউ থেকে মূল্যবান হল শেখার-সক্ষমতা।বোক বলেছেন, প্রতিটা চাকুরীর জন্য আমরা যা খুঁজি তাহল, বোধশক্তি, চিন্তন ক্ষমতা আর স্মরণশক্তির সমন্বয়।

কোনভাবেই তা আইকিউ নয়। আপনার ব্যস্ততার মাঝে কাজ সেরে ফেলার সক্ষমতা অবশ্যই থাকতে হবে। আমরা এমন লোক খুঁজি যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিসদৃশ তথ্যগুলো এক করতে পারে। আমরা মুলত “কাঠামোগত আচরণভিত্তিক ইন্টারভিউ” নিয়ে থাকি, এতে আমরা নিশ্চিত হই চাকুরী প্রার্থী আসলে কতোখানি উৎপাদনশীল।বোক আরও বলেন, “কাঠামোগত আচরণভিত্তিক ইন্টারভিউ”য়ের সাথে প্রথাগত ইন্টারভিউয়ের পার্থক্য অনেক। যেমন, প্রথাগত ইন্টারভিউয়ে হয়ত আপনাকে জিজ্ঞেস করতে পারে একটা টেনিস কোর্টে কতোগুলো বল ধরে।

কিন্তু কাঠামোগত আচরণভিত্তিক ইন্টারভিউয়ে হয়তো জানতে চায়, অতীতের কোন নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকাটা আসলে কী ছিল। কাঠামোগত আচরণভিত্তিক ইন্টারভিউ গুগলের নিজস্ব নেতৃত্বের সংজ্ঞা অনুযায়ী মানানসই প্রার্থী খুঁজে বের করে। এটা কোন স্কুলে ক্লাব পরিচালনা করার মতো নয়। বোক বলেন, কিন্তু এটা এমন এক সক্ষমতা, যার ফলে প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসবেন এবং নেতৃত্ব দিবেন।

 

সূএ:qz.com

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন