কারা পাচ্ছেন বিজ্ঞানে নোবেল?

0

অনলাইন ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// ব্যথা বা যন্ত্রণার জন্য দায়ী বিভিন্ন আণবিক প্রক্রিয়া, জৈব উপায়ে তৈরি আলোক নিঃসরণকারী ডায়োড (এলইডি) এবং বস্তুর নতুন একটি কোয়ান্টাম অবস্থা আবিষ্কারের মতো বিষয়গুলো চলতি বছর বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদ ও তথ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান থমসন রয়টার্স এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছে।

থমসন রয়টার্সের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অ্যান্ড সায়েন্স (আইপিঅ্যান্ডএস) শাখা গত বৃহস্পতিবার বিজ্ঞানের তিনটি বিভাগে (চিকিৎসাবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন) এবারের সম্ভাব্য নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। ২০০২ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৫ জনের নোবেলপ্রাপ্তির ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যদ্বাণী নির্ভুল হয়েছে।

আইপিঅ্যান্ডএসের বিশ্লেষকেরা এ বছর চিকিৎসাবিদ্যা ও পদার্থবিদ্যায় সাতজন এবং রসায়নে আটজন সম্ভাব্য নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণা করেছেন। নোবেল কমিটি বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ তিনজনকে পুরস্কার দিয়ে থাকে।

চিকিৎসাবিদ্যায় এ বছরের নোবেল বিজয়ীর নাম আগামী ৬ অক্টোবর স্টকহোমে ঘোষণা করা হবে। থমসন রয়টার্সের বিশ্লেষকদের মতে, বিজ্ঞানের এ শাখায় এবার কয়েক দশকের পুরোনো গবেষণাকর্মও নোবেল কমিটির স্বীকৃতি পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোয় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষক ডেভিড জুলিয়াস এবার সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন। তিনি নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে তীক্ষ্ণ অণুর কোষীয় গ্রহীতা (রিসেপটর) আবিষ্কার করেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, তাপ এবং ক্যাপসাইসিন নামের একটি যৌগ এই রিসেপটরকে সক্রিয় করে এবং সেই আণবিক প্রক্রিয়ার প্রভাবেই মানুষ ব্যথা অনুভব করে।

চিকিৎসাবিদ্যায় সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকায় রয়েছেন আরও তিন বিজ্ঞানী—যুক্তরাষ্ট্রের কোল্ড স্প্রিং হারবার ল্যাবরেটরির মাইকেল উইগলার, রকফেলার ইউনিভার্সিটির রবার্ট রয়েডার এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলির রবার্ট জিয়ান। শারীরিক গঠন ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ন্ত্রণকারী জিনগত বৈশিষ্ট্যের ধারক ডিএনএ পর্যায়ে মানুষের মধ্যে ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে মিল রয়েছে বলে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা বাতিল করে দিয়েছেন তাঁরা।
পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে আগামী ৭ অক্টোবর। বিজ্ঞানের এ শাখায় সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় রয়েছেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি অ্যারামকোর গবেষক চার্লস ক্রেসগে। তিনি ১৯৯২ সালে আণবিক চালনি বা ছাঁকনি আবিষ্কার করেছেন। এটি শিল্পোৎপাদনে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

রসায়নে সম্ভাব্য নোবেলজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানী চিং তাং এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির স্টিভ ভ্যান স্লাইক। তাঁরা জৈব এলইডি আবিষ্কার করেছেন, যা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন