২ কোটি মিনিটের বেশি আন্তর্জাতিক কল বেড়েছে

0

দেশে আসা আন্তর্জাতিক কলের পরিমাণ এখন প্রায় ৮ কোটি মিনিট। সম্প্রতি পরীক্ষামূলকভাবে ছয় মাসের জন্য আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট কমানোর কারণে বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বণিক বার্তা এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে।

পত্রিকাটি বলছে, চলতি মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে গড়ে প্রতিদিন সাড়ে ৫ কোটি আন্তর্জাতিক কল এসেছে; ১৫ সেপ্টেম্বর যার মোট পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৭০ লাখ মিনিট। চলতি মাসের ১৮ তারিখে আন্তর্জাতিক কল এসেছিল ৭ কোটি ৯০ লাখ মিনিট। এর পরের কয়েক দিন একই হারে আন্তর্জাতিক কল এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট ছয় মাসের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে কমিয়ে আনার বিষয়ে নির্দেশনা জারি করে বিটিআরসি।

পাশাপাশি কল আদান-প্রদানসংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের আয়ের ভাগাভাগির অংশও অস্থায়ী ভিত্তিতে পুনর্নির্ধারিত হয়। সংস্থাটির সিস্টেমস অ্যান্ড সার্ভিসেস বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ইনকামিং কল টার্মিনেশনের সর্বনিম্ন রেট ৩ সেন্টের স্থানে দেড় সেন্ট নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া বিটিআরসি, ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ), ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স) ও অ্যাকসেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস (এএনএস) অপারেটরদের আয়ের ভাগাভাগির পুনর্নির্ধারিত অংশ দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৪০, ২০, ১৭ দশমিক ৫ ও ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের ভাগাভাগির অংশ ছিল যথাক্রমে ৫১ দশমিক ৭৫, ১৩ দশমিক ২৫, ১৫ ও ২০ শতাংশ।

বণিক বার্তার কাছে এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কল টার্মিনেশন রেট পরীক্ষামূলকভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। এতে অবৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ আগের তুলনায় কমেছে। পাশাপাশি বৈধ পথে আসা কলের পরিমাণ বেড়েছে। তিনি বলেন, কল টার্মিনেশন হার কমানো হলেও এর মাধ্যমে বৈধ পথে আন্তর্জাতিক কলের পরিমাণ বাড়ায় সরকারের রাজস্ব আয় কমবে না। গত বছরের জুলাইয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কাছে কল টার্মিনেশন হার কমানোর বিষয়ে প্রস্তাব দেয় বিটিআরসি।

অবৈধ পথে আসা আন্তর্জাতিক কলের পরিমাণ হ্রাস করতে কলপ্রতি ৩ সেন্টের পরিবর্তে ১ দশমিক ৫ সেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকারের রাজস্ব ভাগাভাগির অংশ ৫১ দশমিক ৭৫ শতাংশের স্থানে ৪০ শতাংশ নির্ধারণেরও প্রস্তাব দেয়া হয়। বিষয়টির সঙ্গে আর্থিক সংশ্লেষ থাকায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতির জন্য পাঠায়। সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হবে বিবেচনায় এ প্রস্তাবে অসম্মতি জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রণালয়। পরবর্তীতে সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর বিটিআরসি কল টার্মিনেশন রেট কমিয়ে আনার বিষয়ে নির্দেশনা জারি হয়।

বর্তমানে দেশে আইজিডব্লিউ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৯। ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নিলামের মাধ্যমে লাইসেন্স পায় চার প্রতিষ্ঠান। আর ২০১২ সালের এপ্রিলে নতুন ২৫টি প্রতিষ্ঠানকে এ লাইসেন্স দেয় কমিশন। আইজিডব্লিউগুলো আন্তর্জাতিক কল আদান-প্রদান করছে। আর আইজিডব্লিউর মাধ্যমে আসা কল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দিচ্ছে সেলফোন ও ফিক্সড ফোন অপারেটররা। নতুন করে অনেক আইজিডব্লিউ লাইসেন্স দেয়ার পর এ খাতে প্রতিযোগিতা বেড়ে যায়। এতে অনেক প্রতিষ্ঠানই সরকার নির্ধারিত ৩ দশমিক ৪৫ সেন্টের কমে আন্তর্জাতিক কল নিতে শুরু করে। প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২ সেন্টেরও কমে অবৈধভাবে কল আনার চুক্তি করে। এ ধরনের ভারসাম্যহীন প্রতিযোগিতার কারণে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোও ব্যবসায়িকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়ে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন