সাইবার অপরাধ সম্পর্কে দরকার গন-সচেতনতা

0

‘সাইবার অপরাধ’ বলতে, সাধারনত মানুষ কম্পিউটার দ্বারা খুব বড় ধরনের অপরাধকে বোঝে। আসলে ‘সাইবার অপরাধ’ বলতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে অপরাধ করা হয়, তাকেই বোঝানো হয়। সাইবার অপরাধের মাধ্যম বা টাগের্ট উভয়ই হলো কম্পিউটার।

সাইবার অপরাধের মাধ্যমে প্রচুর অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধিত হয়। সাইবার অপরাধ চুরি-ডাকাতির মত একই ধরনের অপরাধ। ইন্টারনেট থেকে কেউ যদি পাসওয়ার্ড চুরি করে কিছু দেখে বা হ্যাক করে তা সম্পূর্ণভাবে অন্যায়। কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তথ্য ফাঁস হলে প্রতিপক্ষ থেকে তারা বিপদে পড়তে পারে। কারো ব্যক্তিগত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করে দিলে সে সার্বিকভাবে বিপদে পড়তে পারে। এছাড়া কেউ যদি দেশের জাতীয় কোনো তথ্য ফাঁস করে দেয়, তার মাধ্যমে দেশ বিপদে পড়তে পারে। প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী এসব অপরাধের মাধ্যমে শত শত ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।

বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে সাইবার অপরাধ, ভাইরাস, হ্যাকিং, মোবাইল ও পিসি সিকিউরিটি নিয়ে কথা বলেছেন এভিজি এন্টিভাইরাস সফটওয়্যারের একমাত্র পরিবেশক মাইক্রোটপ টেকনোলজির জেনারেল ম্যানেজার ‘সোলায়মান আহমেদ জীসান’।

বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের দেশের সরকারী বেসরকারী প্রতিটি প্রতিষ্ঠান যেভাবে ডিজিটাল হচ্ছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর যেভাবে আধুনিকায়ন হচ্ছে, বিদেশী প্রতিষ্ঠান গুলো এসে যায়গা করে নিচ্ছে, নতুন নতুন ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে তাতে করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, মোবাইল কোম্পানী, ব্যাংক-বীমা কোম্পানি অনলাইনের মাধ্যমে জনগণকে সেবা দেয়ার কর্মসূচি চালু করেছে। আমরাও অচিরেই উন্নত বিশ্বের মতো আইসিটি নির্ভর হয়ে যাব। কিন্তু সে অনুযায়ী এর অপব্যবহারের দিকটি নিয়ে আমরা মোটেও সচেতন নই।

সাইবার অ্যাটাক হওয়ার দিক থেকে পৃথিবীর ৪২তম দেশ বাংলাদেশ। এটি আমাদের দেশের জন্য একটি মারাত্বক ব্যাপার। কারণ, যখন বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গভাবে অনলাইন ব্যাংকিং চালু হবে তখন হয়ত এটি লাফিয়ে প্রথম পাচেঁ চলে আসবে। ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হব আমরা। প্রযুক্তি নির্ভর বিশ্বে যেহেতু তথ্য বা অর্থ কাগজের বদলে প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, তাই এ অপরাধের ভয়াবহতা অনেক বেশী। বাংলাদেশেও এখন বিশ্বমানের হ্যাকার আছে যারা আমাদের দেশের প্রশাসনের কারিগরি জ্ঞানের তুলনায় অনেক বেশি আধুিনক ও উন্নত প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন।

এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাইবার অপরাধ ও ভাইরাস এটাক নিয়ে প্রচুর সচেতনতার কার্যক্রম চললেও আমাদের দেশ এখনও অনেক পিছিয়ে আছে। এমনকি বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ দমনের জন্য সংশিষ্ট আইনটি অনেকেরই জানা নেই। সাইবার অপরাধী শনাক্ত করা এবং আইনের হাতে সোপর্দ করা খুবই কঠিন। সাইবার অপরাধ অনেকটা বায়বীয় হওয়ায় এর আলামত সংগ্রহ ও অসম্ভব। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬ (২০১৩ সংশোধিত) আমাদের এ বিষয়ে নিদের্শনা দেয়।

সাইবার অপরাধ থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারের। সাইবার অপরাধ সম্পর্কে গন-সচেতনতা দরকার তাই সরকারের কাজ হলো মানুষকে সচেতন করে গড়ে তোলা। কম্পিউটার ব্যবহারকারীদের কি করা উচিত আর কি করা উচিত না এই বিষয়ে ট্রেনিং দিলে সে ক্ষেত্রে সাইবার অপরাধ অনেক কমে যাবে।
এছাড়া সাইবার অপরাধ থেকে বেচেঁ থাকার সবচেয়ে সহজ উপায় হল খুব ভালমানের এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করা। এবং অবশ্যই সেটা অরিজিনাল পেইড ভার্সন হতে হবে কারন সাইবার ক্রিমিনালরা এখন ফেইক এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার তৈরী করে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ওয়েব সাইটে দিয়ে রাখে আর মানুষের ক্ষতি করে। এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার এখন শুধু ভাইরাস প্রটেকশন সফটওয়্যার নয়, এটি কম্পি­ট প্রটেকশন সিষ্টেম। সাধারন মানুষ এটার সার্বিক ব্যাবহার বুঝতে পারলে সাইবার অপরাধ অনেকাংশই কমে যাবে।

কিন্তু সমস্যা হল আমাদের দেশের অধিক সংখ্যক এন্টিভাইরাস বিক্রেতা কম দামের প্রোডাক্টে বিশ্বাসী আর ক্রেতারা ফ্রি গিফটে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই প্রোডাক্ট, কোয়ালিটি এবং ফিচার সম্পর্কে খুব বেশী সচেতন নন। প্রতিদিনই লক্ষ লক্ষ নতুন ভাইরাস তৈরী হচ্ছে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অরিজিনাল অ্যান্টিভাইরাস / ইন্টারনেট সিকিউরিটি সবদিক থেকেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করার জন্য বেশ নিরাপদ।

সবদিক বিবেচনা করে আমাদেরকে এখনই সাবধান হতে হবে। কারন, অপরাধ মানেই অপরাধ সেটা সাধারন হোক আর সাইবার হোক।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন