অনিয়মের শীর্ষে বক্তব্যের সমালোচনায় বিটিআরসি চেয়ারম্যান

0

আর্থিক অনিয়মের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)- বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস।

বিটআরসি’র ১০ বছরের বিপরীতে অপরাপর প্রতিষ্ঠানের এক বছরের নীরিক্ষা প্রতিবেদনের কারণে শীর্ষ অনিয়ম হিসাবে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে এই প্রতিবেনের আপত্তি করে তিনি বলেছেন, প্রতিবেদনে সঠিক চিত্র আসেনি। আর যেভাবে এই বিষয়টিকে দেখানো হয়েছে তা ভুল বার্তা দেবে।

অডিট প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি দেরিতে পাঠানোর কারণে এমনটা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মঙ্গলবার বিটিআরসির কার্যালয়ে এক জরুরী সাংবাদিক সম্মেলনে বিটআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যেই মোবাইল ফোন অপারেটরদের অডিট শুরু হবে। প্রথম দিকে ১/২টি অপারেটর দিয়ে কাজ শুরু হবে। এখন পর্যন্ত এসব অডিট করার জন্য ৭টি অডিট প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এছাড়া আগামী জানুয়ারি থেকে আইসিএক্স মনিটরিং শুরু হবে।

আর্থিক অনিয়মে তৎকালীন ওয়ারিদের শেয়ার হস্তান্তর বিষয়ক দুর্নীতির প্রশ্নে সুনীল কান্তি বোস বলেন, আপাতত দৃষ্টিতে ওয়ারিদের শেয়ার হস্তান্তরে কোন অনিয়ম হয়নি। কিন্তু পরে এটার কাগজপত্র বের হলে হয়তো বোঝা যাবে আসলে কি হয়েছিল। যারা এক্সপার্ট তারা এটা বিশ্লেষণ করে বের করলে জানা যাবে আদৌ সেখানে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না।

ওলোকে নিলাম ছাড়াও আগের চেয়ে কম মূল্যে তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, আইন দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য করা হয় এবং তাদের কল্যাণের প্রয়োজনেই আইনের বাইরেও অনেক কিছু করতে হয়। সে ক্ষেত্রে দেশে গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার জন্য ওয়াইম্যাক্স কোম্পানিগুলোর যে প্রতিশ্রুতি ছিল তা তারা রক্ষা করতে পারেনি বলেই নতুন আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়। কমমূল্যে এই তরঙ্গ বরাদ্দ শুধু ওলোকেই দেয়া হয়নি ম্যাঙ্গকেও এ ব্যাপারে তরঙ্গ দেয়ার জন্য বিটিআরসি থেকে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা নেয়নি বলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানই এই সুযোগ পেয়েছে। বিটিআরসি চেয়ারম্যান দাবি করে বলেন, ওলোকে যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তা বিটিআরসির উদ্যোগে নয় মন্ত্রণালয়ের ইচ্ছায় দেয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে, ওয়ারিদ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানিতে লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম এবং চুক্তিভঙ্গ করা সত্ত্বেও পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত না করা, এয়ারটেলের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের সময় কম হস্তান্তর ফি গ্রহণ এবং স্ট্যাম্প মূল্য নির্ধারিত হারে আদায় না হওয়া, বিভিন্ন টেলিফোন কোম্পানি থেকে স্পেকট্রাম চার্জ আদায় না করা, ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান না করা সত্ত্বেও অনিয়মিতভাবে পিএসটিএন লাইসেন্স প্রদান এবং অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা করা সত্ত্বেও জরিমানা অনাদায় ইত্যাদি বিষয়ে জবাব দেন বিটআরসি চেয়ারম্যান।

প্রসঙ্গত, সোমবার বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় পরিচালিত নিরীক্ষা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ জানান, গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন সরকারি অফিসে ৬ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। আর আর্থিক অনিয়মের শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। প্রতিষ্ঠানটি ২ হাজার ৬২৮ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম করেছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন