অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্লু হোয়েল গেম ঢুকিয়ে দেওয়ার খবরটি মিথ্যা

0

দেশের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনে অনলাইন গেম ব্লু হোয়েল ঢুকিয়ে দেওয়া হবে বলে অপপ্রচার ছড়িয়ে মোবাইল ফোন এক ঘণ্টা বন্ধ রাখাতে হবে এমন একটি গুজব ছড়িয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান (বিটিআরসি) বরাত দিয়ে এই অপপ্রচার ছড়াচ্ছে একটি চক্র।

তবে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বিটিআরসি। মোবাইল ফোনে পাঠানো এসএমএসে বলা হচ্ছে, ১৩ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে রাত ১০টা এই ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সকল অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ব্লু হোয়েল গেম ঢুকিয়ে দেওয়া হবে।

গেমটি ফোনের সকল ব্যক্তিগত তথ্য, ফেসবুক, টুইটার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ সহ সব কিছু ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই শুক্রবার রাত ৯ থেকে ১০টা পর্যন্ত ফোন বন্ধ রাখুন। আর দেশের সেবায় এটি বেশি বেশি ফরোয়ার্ড করুন। বিটআরসি বরাত দিয়ে এসএমএস বার্তাটি বেশি বেশি ফরোয়ার্ড করার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।

এ কারণে শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সবার ফোন বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে ওই এসএমএস-এ। বিটআরসি বরাত দিয়ে এসএমএস বার্তাটি বেশি বেশি ফরোয়ার্ড করার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিটিআরসি জানিয়েছে, এমন কোনো প্রচারণা বিটআরসির নেই। একটি অসাধু চক্র এই মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে বলেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

২১ বছর বয়সী রুশ ছাত্র ফিলিপ বুদেইকিন ২০১৩ সালে প্রথম ব্লু হোয়েল গেমটি তৈরি করেন। তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল মনোবিজ্ঞান। এই গেম ২০১৬ সাল থেকে ছড়াতে থাকে। গেমটির মূল লক্ষ্য দুর্বলচিত্তের মানুষ, বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা। চলতি বছর পর্যন্ত রাশিয়া, ভারতসহ ব্লু হোয়েল খেলে বেশ কিছু আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে খবর এসেছে। ইউটিউবের অনেক ভিডিওতেও এগুলোর কিছু নমুনা পাওয়া গেলেও তার বেশির ভাগই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।

ব্লু হোয়েল অন্য গেমগুলোর মতো ইন্টারঅ্যাকটিভ নয়। এই গেমে খেলোয়াড়ের কাছে লিখিত বার্তায় গেম প্রশাসকের নির্দেশনা আসে। সেখানে একটা একটা করে কাজের নির্দেশ বা চ্যালেঞ্জ থাকে। সে কাজটা করার পর ছবি তুলে বা ভিডিও করে গেম প্রশাসককে পাঠাতে হয়। এভাবে ৫০তম ধাপ বা ৫০তম দিনে সবশেষ নির্দেশটি আসে। এই নির্দেশ হলো আত্মহত্যা করার।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন