‘স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং হলো খেলতে খেলতে প্রোগ্রামার হবার হাতিয়ার’

0

 

টেকজুম টিভি  ডেস্ক// বেসিস তার অঙ্গ সংগঠন বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম) এর সহায়তায় রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিআইটিএমের ল্যাবে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ‘স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং পরিচিতি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সর্বশেষটিসহ মোট ৭টি ব্যাচের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

এরই মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষিকা, শিশুসহ সেচ্ছাসেবকদের আগ্রহ বাড়ছে। অনেকেই আগ্রহী হয়ে বিআইটিএমের এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন।

ইতোমধ্যেই ৭টি কর্মশালায় ২৩৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। মূলত শিশুদেরকে স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানোর জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তারা যাতে তাদের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারেন  সেজন্য এই কর্মশালার আয়োজন করা। ইতিমধ্যেই এই প্রশিক্ষণের কথা জানতে পেরে অনেক শিশুই, এমনকি মা ও তার সন্তান একইসাথে এই প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার উদাহরণ রয়েছে।

প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানোর কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। এছাড়াও অনেক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সেচ্ছাসেবক অঞ্চলভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু করেছেন।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারস্থ বিআইটিএমের ল্যাবে সপ্তমবারের মতো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। তার সাথে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোস্তাফা জব্বারের ছেলে বিজয় জব্বার। সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই প্রশিক্ষণ চলে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।

এতে অন্তত তিনজন শিশু (পূর্ণতা, মোশাইদ ও মারজান) অংশ নেয়। কর্মশালায় বাংলাদেশ ডিজিটাল এডুকেশন সোসাইটির চেয়ারম্যান ইয়াহিয়া খান রিজন এবং শিশু সাহিত্যিক জসিমউদ্দীন জয় উপস্থিত ছিলেন।

বিডিইএস এর চেয়ারম্যান রিজন জানান, তারা এরই মাঝে একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গড়ে তুলেছেন যারা দেশব্যাপী শিশুদেরকে স্ক্র্যাচ শেখাবেন। ইতোমধ্যেই তার সংগঠনের সদস্যরা স্কুলে স্ক্র্যাচ শেখানোর কাজ হাতে নিয়েছেন বলেও তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ও আগামীর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। আমরা স্নাতক বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীদেরকে প্রোগ্রামিং শেখানোর কথা ভাবি। কিন্তু ওরা বস্তুত শৈশব থেকেই প্রোগ্রামিং এর ধারণা পেতে পারে। আমরা শিশুদের জন্য সেই ব্যবস্থাটিই করতে চাই। শিশুদেরকে প্রোগ্রামিং শেখানোর মাধ্যমেই সেটি সূচনা করতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ‘শিশু-কিশোরদের প্রোগ্রামিং শিক্ষা’ শীর্ষক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং শেখানো হচ্ছে। আমরা ২০১৮ সালের শুরুতে এইসব শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে একটি জাতীয় শিশু প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করব।”

মোস্তাফা জব্বার জানান, তার ছেলে বিজয় তার শৈশবে স্ক্র্যাচ দিয়ে প্রোগ্রামিং ধারণা পায়। সম্ভবত বাংলাদেশের প্রথম দিককার স্ক্র্যাচ ব্যবহারকারীদের মাঝে বিজয় জব্বার একজন। সে এখন বাংলাদেশের শিশুদের জন্য স্ক্র্যাচের ওপর কোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরির কাজ করছে যেগুলো শিশু ও শিক্ষকদের কাছে পৌঁছানো হবে।

অনুষ্ঠানে বিজয় জব্বার স্ক্র্যাচ কেন শিশুদেরকে শেখাতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়ার সময় কেন স্ক্রাচ দিয়ে প্রোগ্রামিং শেখানো শুরু করা হয়েছিলো সেইসব বিষয় তুলে ধরেন। তিনি তার অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন, ‘বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের স্নাতক স্তরের শিক্ষার্থীদেরকে স্ক্র্যাচ দিয়েই প্রাথমিক প্রোগ্রামিং ধারনা প্রদান করে।’ তিনি নিজেও স্নাতক স্তরে স্ক্র্যাচ দিয়ে প্রোগ্রামিং এর সূচনা করেন বলে জানান।

তিনি বলেন, ‘একে কোড লেখার বাইনারি অঙ্কের প্রোগ্রামিং এর সাথে তুলনা করা উচিত নয়। এটি খেলতে খেলতে প্রোগ্রামার হবার হাতিয়ার।’

কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন বিআইটিএম এর প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষক সিরাজুল মামুন এবং তাকে সহায়তা করেছেন মায়া শারমিন।

টেকজুম টিভি/এমআইজে

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন