ফেসবুক মানুষকে অসামাজিক করার জন্য তৈরি

0

অনলাইন ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// ফেসবুকের বিরুদ্ধে মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন ফেসবুকের প্রথম প্রেসিডেন্ট শন পার্কার। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটির বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের দুর্বলতাকে কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলে বলেন, এটা আমাদের শিশুদের মস্তিষ্কে কী ঘটাচ্ছে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। খবর বিজনেস ইনসাইডার।

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক চালু ও উন্নয়নের সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন, এমন প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অনেকে এরই মধ্যে সাইটটির বর্তমান কার্যক্রম ও মানুষের জীবনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২০০৪ সালে ফেসবুকে বিনিয়োগ করেন শন পার্কার এবং ফেসবুক গড়ে তুলতে জাকারবার্গকে সহায়তা করেন। সেসময় তিনি ফেসবুকের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। অবশ্য ২০০৫ সালেই তিনি ফেসবুক ছেড়ে দেন। ২০১০ সালে ফেসবুক তৈরির কাহিনি নিয়ে তৈরি ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ চলচ্চিত্রটিতে শন পার্কারের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন জাস্টিন টিম্বারলেক। তবে এ চলচ্চিত্রটিতে শন পার্কারকে যে ভূমিকায় দেখানো হয়েছে তা পুরোপুরি কাল্পনিক বলেই জানিয়ে আসছেন শন।

এক্সিওসকে দেয়া সাক্ষাত্কারে পার্কার বলেন, ফেসবুকের মতো এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তৈরির পেছনে মূল যে উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা হলো যতটা সম্ভব মানুষের সময় এবং মনোযোগ কেড়ে নেওয়া। প্রতি মুহূর্তেই মস্তিষ্কে ডোপামিনের মতো এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে কেউ পোস্ট বা ছবিতে লাইক বা কমেন্ট করল কিনা, কিংবা কেউ নতুন কিছু পোস্ট করল কিনা। আর এর মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা এখানে কনটেন্ট বাড়িয়ে চলেছে।

পার্কার বলেন: এর উদ্ভাবক আমি নিজে, মার্ক এবং কেভিন সিস্ট্রোম, আমরা সবাই এই ব্যাপারটি ভালোভাবেই বুঝেছিলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা এই কাজটি করেছি।

তবে পার্কারের এসব বক্তব্য নিয়ে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ফেসবুক।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ব্যবহারে মানুষের মধ্যে আসক্তি বাড়ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে। মানুষ দিনকে দিন আরও বোকা হচ্ছে। এই প্রবণতাকে বলা হচ্ছে, কন্টিনিউয়াস পারশিয়াল অ্যাটেনশন। সামাজিক যোগাযোগের অ্যাপ ব্যবহারের ফলে লক্ষ্যে স্থির থাকার ক্ষমতা সীমিত হওয়ার পাশাপাশি মেধা কমার ভয় রয়েছে।

টেকজুম টিভি/এইচএমএস

 

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন