‘উদ্ভাবনী প্রযুক্তি দিয়ে  তরুণরাই দূর করবে সমাজের সমস্যা’

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি//  দেশে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হলো শান্তির জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ভিত্তিক সমাধান প্রতিযোগিতা।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্রেনিউর ল্যাবের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘টেক ফর পিস’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা সমাজে শান্তির জন্য প্রযুক্তি-ভিত্তিক প্রকল্প উপস্থাপন করে।

রাজধানীর ধানমন্ডির এডয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের দেশীয় পরিচালক কেটি ক্রোক।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সুশান্ত কুমার সাহা এবং স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ নিজামী।

আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তিবান্ধব তরুণদের সমাজের শান্তি প্রতিষ্ঠাকল্পে অন্তুর্ভুক্তির জন্য ‘টেক ফর পিস’ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যেখানে তরুণরা তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাজের সমস্যা দূরীকরণে অবদান রাখবেন।

প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনাইটেড আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শীক্ষার্থীদের ১৪ টি দল। সেরা তিন দলের স্বীকৃতি পায় বুয়েটের ‘টিম স্ট্রেরাডিয়ান, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘টিম আরএমএস’ এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশ নেয়া ‘টিম নো ক্রাইম’। প্রতিটি বিজয়ী দল তাদের প্রকল্প উন্নয়নে দুই লক্ষ টাকা সমমানের ‘প্রযুক্তি পরিচর্যা সেবা’ পাবেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

পাশাপাশি, ইউআইইউ থেকে টিম টেসার‍্যাক্ট এবং বুয়েটের ‘টিম স্কয়ার’কেও অপেক্ষমান বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের দেশীয় পরিচালক কেটি ক্রোক বলেন, ‘সকল অংশগ্রহনকারী দলকে আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি যারা তাদের উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতার সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেবে।’

সুশান্ত কুমার সাহা তার বক্তব্যে দেশের প্রযুক্তি ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিতে তরুণদের উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে আইডিয়া নামক প্রকল্প চালু করেছি। মোবাইল সফটওয়ার উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে রয়েছে বিশেষ প্রকল্প। আর যারা উচ্চ শিক্ষায় প্রযুক্তিকে নিয়ে গবেষণা করতে আগ্রহী তাদের জন্য শিক্ষাসহায়তা অনুদান রয়েছে আমাদের মন্ত্রণালয়ে।’

প্রেনিউর ল্যাবের প্রধান নির্বাহী আরিফ নিজামী বলেন, ‘আমাদের দেশে অধিকাংশ প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া প্রকল্পগুলো আয়োজন শেষে হারিয়ে যায়। আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে বিশেষ পরিচর্যা কার্যক্রমের (ইনকিউবেশন) মাধ্যেম বিজয়ী প্রকল্পগুলোকে সামাজিক সমস্যা দূরীকরণে প্রতিষ্ঠিত করা।’

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, ইউআইইউর কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সালেকুল ইসলাম, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের স্নাতক পর্যায় সমন্বয়ক আন নাজিয়াত রাসেল, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানভীর আহমেদ, ডেল আমেরিকার পরিচালক মোহাম্মদ মাহদী উজ জামান, গুগল ডেভেলপার গ্রুপ বাংলার ব্যবস্থাপক জাবেদ সুলতান পিয়াস, জাংশন প্রকল্পের ব্যবসায় উন্নয়ন প্রধান হাসিব রশীদ এবং বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনিস্টিটিউটের গবেষনা উপপরিচালক তানিম নওশাদ প্রমুখ।

অনূষ্ঠানের শুরুতে ১৪ টি দলের প্রতিযোগিরা শান্তির জন্য প্রযুক্তি মুলমন্ত্রে তাদের প্রকল্প উপস্থাপন করেন।

টেকজুমটিভি/এমআইজে

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন