স্মার্টওয়াচ কেনার পূর্বে যে বিষয়গুলো খেয়াল করবেন

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// বর্তমান স্মার্টওয়াচগুলো সুন্দর ও আকর্ষণীয়। শুধু সময় দেখানো ছাড়াও এটি আরও অনেক কাজ করতে পারে যা হয়তো আপনার ধারনার বাইরে। বিভিন্ন এপ ধারণ করা, স্মার্টফোনের নোটিফিকেশনগুলো প্রদর্শন করা, হৃদস্পন্দন মাপাসহ আরও অনেক কাজ করতে সক্ষম এই স্মার্টওয়াচগুলো। তবে কোন স্মার্টওয়াচটি ভাল তা অবশ্যই যাচাই করে কিনতে হবে। এক্ষেত্রে নিচের বিবেচ্য বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

স্মার্টফোনের সাথে যোগাযোগ দক্ষতা
স্মার্টফোনের সাথে স্মার্টওয়াচের যোগাযোগ করার ক্ষমতা অবশ্যই থাকা উচিত। কারণ এতে করে স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেই আপনি ফোন কল, বার্তা পাঠানো, গান স্ট্রিমিং, অ্যাপস ডাউনলোডসহ ইন্টারনেট ভিত্তিক যেকোনো কাজ করতে পারবেন। আপনার স্মার্টফোন আপনার থেকে দূরে থাকলেও কোন সমস্যা নেই।

ব্যাটারি লাইফ
আফসোসের বিষয় হল স্মার্টওয়াচে চার্জ বেশি সময় থাকেনা। ভাল মানের অ্যাপল এবং অ্যানড্রয়েড ভিত্তিক স্মার্টওয়াচগুলো একবার চার্জ করলে একদিন বা ২৪ ঘন্টা চার্জ থাকে। তাই প্রতি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে একে চার্জে বসিয়ে শুতে হবে আপনাকে।

মূল্য
স্মার্টওয়াচগুলোর দাম অনেক বেশি হতে পারে। তারমানে এইনা যে সুলভ মূল্যে আপনি ভাল স্মার্টওয়াচ পাবেন না। অ্যাপল এর সিরামিক নির্মিত স্মার্টওয়াচগুলো বেশ মূল্যবান যার বিনিময়ে কয়েকটা আইফোন কেনা যাবে। তাই আপনি যদি এই প্রথম কোন স্মার্টওয়াচ কিনতে যান তবে স্বল্পমূল্যের একটা কিনে যাচাই করে নেয়াই ভাল। কারণ আপনার স্মার্টওয়াচ ব্যবহারের অভিজ্ঞতা খারাপও হতে পারে।

সৌন্দর্য
আপনার স্মার্টওয়াচটি যেন দেখতে আকর্ষণীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। মনে রাখবেন আপনি এটিকে সারা জীবনের জন্য কিনছেন না। যেহেতু এটি একটি ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট এটি নষ্ট হয়েও যেতে পারে। আবার সব সময় একই ডিজাইনের ঘড়ি পড়তে আপনার ভাল নাও লাগতে পারে। স্মার্টওয়াচের ডিজাইন নিয়মিত পরিবর্তিত হয়। তাই যেহেতু আপনি এটি হাতে পড়বেন তাই এর সৌন্দর্যের দিকেও খেয়াল রাখুন।

ডিভাইসের সাথে সামঞ্জস্যতা
স্মার্ট ওয়াচ কেনার পূর্বে সবার আগে জানতে হবে তা আপনার স্মার্টফোনের সাথে সামঞ্জস্যতা বিধান করতে পারবে কিনা। যদিও বর্তমানে প্রায় সব স্মার্টওয়াচই অ্যানড্রয়েডগুলোর সাথে সুসামঞ্জস্য করে তৈরি করা হয়। যাতে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন সহজ হয়। যে স্মার্টওয়াচগুলো অ্যানড্রয়েড ভার্সনে কাজ করে তাদের প্রায় সবাই আইফোনেও কাজ করে। তবে ‘অ্যাপল’ কর্তৃক তৈরিকৃত স্মার্টওয়াচ কেবল আইফোনে ব্যবহার করা যায়। তবে আমাদের বাছাইকৃত এমন কোন স্মার্টওয়াচ নেই যা ব্ল্যাকবেরি কিংবা উইন্ডোজ মোবাইলে কাজ করে।

অ্যাপস
সাধারণ ঘড়ি আর স্মার্টওয়াচের মধ্যে একটি প্রধান পার্থক্য হল স্মার্টওয়াচে অনেক ধরণের অ্যাপস ব্যবহৃত হয়। স্মার্টওয়াচগুলো উবার থেকে শুরু করে সাধারণ ক্যালকুলেটর পর্যন্ত সব ধরণের এপ এর সমাবেশ করতে পারে নিজের মধ্যে। তাই এপ ব্যবহারের বিষয়টি মাথায় রেখে স্মার্ট ওয়াচ কেনা উচিত। তবে এপ এর বিষয়টি বিবেচনা করলে সবচেয়ে ভাল হয় ‘অ্যাপল’ প্রকাশিত স্মার্টওয়াচগুলো ব্যবহার করলে । কেননা সর্বাধুনিক ও সর্বাধিক সংখ্যক অ্যাপ অ্যাপল স্মার্টওয়াচেই পাওয়া যাবে।

ফিটনেস
স্মার্টওয়াচের আরেকটি দারুণ ব্যবহার হল ফিটনেস ট্র্যাকার হিসেবে এর ব্যবহার। বেশির ভাগ স্মার্টওয়াচই হাঁটাচলার পদক্ষেপ হিসাব করতে পারে। তবে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- ‘অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ৩’ কিংবা ‘নিক+’ সংস্করণ ২টিতে বিল্ট-ইন জিপিএস এর ব্যবহার হয়েছে। যা আপনার দৌড়ানোর গতি, হৃদস্পন্দন প্রভৃতি মাপতে সক্ষম।

 

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন