২০১৭ সালের সেরা ৫টি ল্যাপটপ

0

প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রতিবছরই তাদের সেরা এবং সর্বশেষ ভার্সনের ল্যাপটপটি হাজির করছে আপনার জন্য।কোনোটির ব্যাটারি ব্যাকআপ ভালো, কোনোটির কনফিগারেশন শক্তিশালী আবার কোনোটির ডিসপ্লে বড় বা ছোট। কোনটি আপনার চাহিদা ও প্রয়োজন মেটাবে সেটা জানা জরুরি। তাই ল্যাপটপ কেনার আগে জেনে নিন, এই বছরের সেরা ল্যাপটপগুলো কি কি ফিচার অফার করছে।

আসুস ক্রোমবুক ফ্লিপ
আসুস ক্রোমবুক ফ্লিপ সি৩০২ আপনাকে অর্ধেক দামে আল্টাবুক ব্যবহারের অনুভূতি দেবে। ল্যাপটপটির কি-বোর্ডটি ব্যবহারে আরামদায়ক এবং দেখতে বেশ আকর্ষণীয়। এই ল্যাপটপে রয়েছে ১২.৫ ফুল এইচডি ডিসপ্লে যা ৩৬০ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘোরানো যায়। ফলে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এটাকে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট দুটো হিসেবেই ব্যাবহার করতে পারবেন ৷

ক্রোমবুক ফ্লিপ ল্যাপটপকে ‘প্রিমিয়াম মেটাল’ ডিভাইস হিসেবে ব্যাখা করেছে আসুস। এতে কিবোর্ডের পাশাপাশি রয়েছে ১২৮০–৮০০ পিক্সেলের ১০ দশমিক ১ ইঞ্চির টাচস্ক্রিন ডিসপ্লে, যা দুই দিকে ভাঁজ করা সম্ভব। ফলে একজন ব্যবহারকারী চাইলে এর ডিসপ্লে পেছনের দিকে বাঁকা করে রেখে ট্যাবলেট হিসেবেও ব্যবহার করতে পারবেন। ডিভাইসটিতে ১৬ গিগাবাইট অভ্যন্তরীণ তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ব্যাটারি ১০ ঘণ্টা অবধি ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

মাইক্রোসফট সারফেস প্রো
মাইক্রোসফটের সারফেস প্রো ল্যাপটপটির সবচেয়ে ভালো দিকটি হচ্ছে এর ব্যাটারি লাইফ। মাইক্রোসফটের দাবি, একবার চার্জ দিয়ে টানা ১৩ ঘণ্টা কাজ করা যাবে নতুন এই ল্যাপটপে। আর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৯৯ মার্কিন ডলার।

সারফেস ল্যাপটপের বেশ কয়েকটি মডেল রয়েছে। এই ল্যাপটপগুলোকে মনে করা হচ্ছে অ্যাপলের ম্যাকবুকের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিকল্প। বাজারে এখনো সেভাবে পাওয়া যায় না সারফেস বুক। তবে একটু খোঁজ করলে বাংলাদেশের বাজার থেকেই আপনি সারফেস বুক কিনতে পারবেন ।

স্যামসাং ক্রোমবুক প্রো
স্যামসাং এই বছর স্বল্পমূল্যে অসাধারণ ফিচারের এই ল্যাপটপটি বাজারে ছেড়েছে। মাত্র ০.৫৫ ইঞ্চি পুরু এবং এক কেজির চেয়ে সামান্য বেশি ওজনের ক্রোমবুক প্রো-তে রয়েছে ২৪০০ x ১৬০০ রেজ্যুলুশনের টাচস্ক্রিন এলইডি স্ক্রিন। ক্রোম ওএস অপারেটিং সিস্টেমের এই ল্যাপটপকে ৩৬০ ডিগ্রি কোণে বাঁকানো যায়, ফলে ট্যাব হিসেবেও ব্যবহারে করা যায় ক্রোমবুক প্রো। ল্যাপটপটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৫৪৯ মার্কিন ডলার।

ক্রোমবুক অবশ্য বাংলাদেশের বাজারে তেমন পরিচিত পণ্য নয়। গুগলের বিশেষায়িত অপারেটিং পদ্ধতিতে চলে ক্রোমবুক। মূলত ক্রোম ব্রাউজারের ধারণা থেকেই ক্রোমবুকের অপারেটিং পদ্ধতিটি তৈরি করা হয়েছে। ব্যবসায়িক যোগাযোগ বা গুরুত্বপূর্ণ অফিসিয়াল ডকুমেন্ট নিয়ে যাদের কাজ, ক্রোমবুক হতে পারে তাদের জন্য এক আদর্শ ল্যাপটপ।

ডেল এক্সপিএস ১৩
শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ডেলের এক্সপিএস ১৩’ ল্যাপটপটি অত্যন্ত উপযোগী। ডেল ‘এক্সপিএস ১৩’ ল্যাপটপটি মাত্র ০.৬ ইঞ্চি পুরু। এর ওজন মাত্র ২.৬ পাউন্ড। এর কোয়াড এইচডি পর্দার রেজ্যুলেশন ৩২০০x১৮০০ পিক্সেল। এর পর্দাটিও স্পর্শকাতর। কিন্তু ম্যাকবুক এয়ারের রেজ্যুলেশন মাত্র ১৪৪০x৯০০ যা স্পর্শকাতর নয়। এর প্রসেসরটি ফিফথ জেনারেশন ইন্টেল কোর আই৫। কিন্তু ম্যাকবুক এয়ারে চতুর্থ জেনারেশন চিপ ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাটারিও এয়ারের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। ল্যাপটপটির ব্যাটারি ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দেয়। আর দাম শুরু হয়েছে ৭৯৯.৯৯ মার্কিন ডলার থেকে।

স্যামসাং নোটবুক ৯ প্রো
কোরিয়ান টেক জায়েন্ট স্যামসাং তাদের নানা ইলেক্ট্রনিকস প্রযুক্তির মাঝে ল্যাপটপের সংখ্যা দিন দিন বাড়াছে আর এরই অংশ হিসেবে তারা তাইপে’তে কম্পিউটেক্স ট্রেড শো ২০১৭ এ স্যামসাং নোটবুক ৯ প্রো প্রকাশ করেছে। স্যামসাং নোটবুক ৯ প্রো ডিভাইসটি দুটির স্ক্রিন সাইজের মডেল আছে যার একটি ১৩.৩ ইঞ্চি এবং অন্যটি ১৫ ইঞ্চি। নোটবুক ৯ প্রো ডিভাইসটির অন্যতম ফিচার হল- এস-পেন স্টাইলাস। এই নোটবুক ৯ প্রো ল্যাপটপে আছে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম, ২.৭ গিগাহার্টজ ইন্টেল কোর আই৭ প্রসেসর, ইনটেল এইচডি গ্রাফিক্স ৬২০, ও ৮ জিবি র‍্যাম ও ১৬ জিবি স্টোরেজের এই ল্যাপটপে মাইক্রো এসডি কার্ডের মাধ্যমে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।

যারা গ্রাফিক্সের কাজ করতে চান, এই ল্যাপটপটি তাদের জন্য বেশ উপযোগী। স্যামসাংয়ের এই ল্যাপটপটি একই মূল্যে অ্যাপলের ম্যাকবুক প্রো-এর তুলনায় বেশ শক্তিশালী কনফিগারেশন দিচ্ছে।

 

সুত্রঃ ইন্টারনেট

টেকজুমটিভি/এমআইজে

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন