‘বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি’র কর্মসংস্থানে সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান’

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,  টেকজুম ডটটিভি// গত চার বছরে আমাদের চাকরির মেলার পরিসর বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ‘২০১৭ সালে আয়োজিত চাকরি মেলায় ১১৫ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে আমরা চাকরি দিতে পেরেছি। আগামী বছরে আরো বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হবে।’

বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে সবাইকে একযোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর আগার গাঁওস্থ আইসিটি টাওয়ারে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের মর্যাদাপূর্ণ জীবিকা ও কর্মসংস্থান চাকুরি মেলা ২০১৮ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

চতুর্থবারের মতো ‘চাকরি মেলা ২০১৮’ এর আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং সিএসআইডি।

পলক বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী সারাবিশ্বের প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ নানাভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষ শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার। আমাদের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে যদি এই দেড় কোটি মানুষকে মূল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে না পারি তাহলে আমরা কীভাবে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হবো, কীভাবে আমরা উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবো?’

তিনি বলেন, ‘আর সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আমাদের প্রত্যেকটা প্রজেক্টে যেমন দেশের ২৮টা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে সাধারণ মানুষের সাথে যেন একজন করে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের সমানভাবে সুযোগ থাকে। আর তারা যেন ভালভাবে কাজ করতে পারেন সে অনুসারে প্রত্যেকটা পার্কে প্রয়োজনীয় ডিজাইন করা হয়েছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগে শুধু আমাদের দেশে নয়, সারাবিশ্বে এক ধরণের অপপ্রচার ছিল, মনে করা হতো কেউ যদি জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়, বাক বা শ্রবণ প্রতিবন্ধি হয়, এমন কি দৈহিক কোন ক্রটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে সেই দোষটা সেই মানুষটার না। এটা তো তাঁর ব্যক্তিগত কোনো দোষ নয়। একটা সময় ছিল যখন সমাজে এসব সন্তানদের সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখা হতো। বাবা-মারা তাদের সন্তানদের জন্য লজ্জায় মুখ দেখাতো না। সন্তানদেরকে লুকিয়ে রাখতো। আজ সেই দিনের অবসান হয়েছে ‘

এখন সবাইকে এটা মেনে নিতে হবে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধিদের দায়টা তাঁদের না। তাঁদের মধ্যে যে দক্ষতা আছে, সম্ভাবনা আছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে সবাইকে একযোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

মেলার আয়োজনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশের নারী-পুরুষ, নবীন-প্রবীণ বিশেষভাবে সক্ষম সকলের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল আমরা পৌঁছে দিতে চাই। এর জন্যই প্রতিবারের মতো এবারও আমরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য ‘চাকরি মেলা ২০১৮’ এর আয়োজন করেছি। এই চাকরি মেলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যারা বিশেষভাবে সক্ষম তাদের জন্য আইসিটি সেক্টরে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। আমরা গতবছরে প্রায় ১১৫ জনেরও বেশি বিশেষভাবে সক্ষম তরুণ-তরুণীকে চাকরির ব্যবস্থা করেছিলাম। আমরা আশা করছি, আরও বেশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো।’

দেশে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোই মূলত চাকরির ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সদস্যভুক্ত প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং বা বাক্য, অ্যাকসেঞ্চার, মাই আউটসোর্সিং, ডিজকন, সাইবার ক্যাফে অনার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বেশ কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। এক্সিম ব্যাংকও চাকরি দিয়েছে কয়েকজনকে।

টেকজুমটিভি/এমআইজে

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন