এখন ভক্তরা চাই অটোগ্রাফের বদলে সেলফি!

0

ফিচার ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// এক সময় প্রিয় তারকার উপস্থিতিতে ভক্তরা তক্কে তক্কে থাকতেন কখনও অটোগ্রাফ নেবেন। এমন দৃশ্য এখনো দেখা যায়। তবে এই চিত্রের খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর অটোগ্রাফ নয়; চাই সেলফি।

প্রযুক্তির এই যুগে অটোগ্রাফ নেওয়ার রেওয়াজ অনেকটাই ফিকে। দিনকে দিন এর জায়গা দখল করে নিচ্ছে ‘ফেসবুক প্রজন্মের’ সেলফি সংস্কৃতি। এ নিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়ায় সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একটা সময় ছিল যখন বিখ্যাত কারো অটোগ্রাফ নিয়ে সেটা সংগ্রহে রাখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হত। এখন অটোগ্রাফের বদলে সেলফিই হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়। আর এর মাধ্যমে খুব সহজে প্রিয় ব্যক্তিটির সঙ্গে নিজের ছবি তোলাটাও বেশি অর্থবহ মনে করছেন অনেকে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেলফি অনেকটা আত্মতৃপ্তির বিষয়ে পরিণত হয়েছে। ধরুন কোনো অনুষ্ঠান কিংবা পার্টিতে দেখা হয়ে গেল নামী কোনো তারকার সঙ্গে। মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখতে ওই তারকার কাছ থেকে অটোগ্রাফ না নিয়ে তাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে একটা সেলফি তুলতেই বেশি আগ্রহী অনেকেই।

হাতের মুঠোয় থাকা স্মার্টফোন, মোবাইল, ট্যাব কিংবা ক্যামেরা দিয়ে নিজের ছবি নিজে তোলা মানেই ‘সেলফি’। সেই ছবির ফ্রেমে আপনি নিজে ছাড়া অন্যরাও থাকতে পারেন। সেলফি এতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে প্রতি মুহূর্তে হাজারো সেলফি ‘আপ’ করা হচ্ছে। এমনকি ব্রিটেনের রানি পর্যন্ত সেলফি তোলেন। মেসি-নেইমার থেকে শুরু করে হাল আমলের এমন অনেক মহা তারকাই আছেন যাদের সেলফি খুব জনপ্রিয়।

আছেন মুদ্রার উল্টো পিঠের মানুষজনও। তাঁরা এটিকে একধরনের রোগ বলেও সমালোচনা করছেন! মজার বিষয় হচ্ছে ২০১৩ সালে অক্সফোর্ড অভিধানের বর্ষসেরা শব্দ নির্বাচিত হয়েছে সেলফি।

সেলফির কিছু শিষ্টাচার
সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটে ছবি পোস্ট করার বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছু শিষ্টাচার মেনে চলার পরামর্শ দেন।

১. নিজের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার পর তাতে যে মন্তব্য বা লাইক আসে তা নিয়ে নিজের সম্পর্কে ধারণা তৈরি করা মোটেও ঠিক নয়। নিজের আত্মবিশ্বাস ও অতি আত্মবিশ্বাসের মধ্যে অবশ্যই সীমারেখা থাকতে হবে।

২. ছবি পোস্ট করার সময় সচেতন হয়ে ছবি নির্বাচন করে পোস্ট করা উচিত। ছবি পোস্ট করার পর বন্ধুদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশায় দিনে একাধিকবার ছবি পোস্ট করার অভ্যাস না দাঁড়িয়ে যায় সে বিষয়ে সচেতন থাকা।

৩. সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এসব সাইটের ছবি খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের আশঙ্কাও থাকে। তাই সামাজিক যোগাযোগের সাইটে প্রাইভেসি বা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয়গুলো অবশ্যই খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন