জাতীয় পে-কমিশনের রিপোর্টে আইডিইবি'র নিন্দা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি: পে স্কেলের ধাপ ২০টি করার সুপারিশ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পে-কমিশনের সুপারিশে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকার টাইমস্কেল/সিলেকশন গ্রেড না দেয়ার ঘোষনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনীয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি)।
এছাড়া বেতন গ্রেড ২০টি করার ঘোষণা দেয়ায় আইডিইবি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মাসিক সভায় গভীর উদ্বোগ প্রকাশ করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে।

আইডিইবি’র সভাপতি প্রকৌশলী এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব শামসুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বেতন স্কেল বিষয়ে নিম্মোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পে-কমিশনের সুপারিশ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।

১. প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস করার জন্য জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে মাত্র ১০টি গ্রেডে বেতন কাঠামো ঘোষণা করেছিলেন, যা ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। বর্তমানে জাতির জনকের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় বেতন ও চাকরি কমিশন বর্তমান বেতন স্কেল ২০টির পরিবর্তে ১৬টি করার সুপারিশ করেছে। প্রজাতন্ত্রের সর্বস্তরের কর্মচারীদের মধ্যে বেতন বৈশম্য কমিয়ে আনার লক্ষ্যে উক্ত সুপারিশই সঠিক ও যথার্থ ছিল। উক্ত সুপারিশকে উপেক্ষা করে বেতন স্কেলের ধাপ ২০টি করার সিদ্ধান্ত জাতির জনক এর বৈষম্য হ্রাস করার ইচ্ছার পরিপন্থী বলে আইডিইবি এ সভা থেকে দৃঢ় মত প্রকাশ।

২. সভায় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারসহ সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান টাইমস্কেল/ সিলেকশন গ্রেড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

৩. যে সকল পদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫ বৎসরেও পদোন্নতি হচ্ছে না- তাদেরকে টাইম বাউন্ড / টাইমবার পদোন্নতি প্রদানের ঘোষণা করে পদোন্নতিবিহীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধির ব্যবস্থা

৪. বেতন স্কেলের ধাপ পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৫/১৬টি করা এবং ৫ বছর পর পরবর্তী পে কমিশনে এ ধাপ ১০ এ নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া।

৫. দেশের শিল্প কারখানা, উন্নয়ন-উৎপাদন ব্যবস্থা ও ইঞ্জিনিয়ারিং কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত দক্ষ শ্রমিকসহ সর্বস্তরের কারিগরি পেশাজীবীদের দক্ষতার মূল্যায়ন করে বিশেষ বেতন /ইনসেন্টিভ প্রদানের ব্যবস্থা রাখা।

৬. প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হুয়াইট কালারিজম মনোভাব পরিহান করে বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আইডিইবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বেতন কাঠামো সুপারিশ সংশোধন করার অনুরোধ জানান। অন্যথায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হবে তা কোন ভাবেই রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর হবে না।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন