ই-কমার্সে থেকে ভ্যাট শূণ্য করার দাবি

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// ই-কমার্সে মূসক বা ভ্যাট নির্ধারণের ফলে বিকাশমান এ খাতটি হুমকির মুখে পড়বে উল্লেখ করে বেসিস সভাপতি এবং এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক শামীম আহসান ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের স্বার্থে ই-কমার্সকে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে বেসিস সভাপতি শামীম আহসান টেকজুম ডটটিভিকে বলেন, ‘এবারের বাজেট তথ্যপ্রযুক্তির খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তরায়নের স্বার্থে বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাত প্রসঙ্গে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দাবি ছিল। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রত্যাশার বেশ কিছু প্রতিফলনও ঘটেছে। বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তিন হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে সহস্রাধিক কোটি টাকা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।’

তিনি জানান, কাস্টমাইজড সফটওয়্যার আমদানিতে ৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বিদেশি কাস্টমাইজড সফটওয়্যারে শুল্ক আরোপ করায় দেশীয় সফটওয়্যার খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এসব উদ্যোগ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে দারুণ ভূমিকা রাখবে। তবে ই-কমার্সে ভ্যাট যুক্ত করায় আশাহত হয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা।

এ সম্পর্কে বেসিস সভাপতি বলেন, ‘৪ শতাংশ হারে মূসক নির্ধারণের ফলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ই-কমার্স খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।’

ই-কমার্স খাতের সম্ভাবনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ ই-কমার্স খাতে ১০ বছরের জন্য কর অবকাশ সুবিধা দিয়েছে। এসব দেশ ই-কমার্সের সুফলও পেয়েছে। এসব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে ই-কমার্স।

ই-কমার্সে কর আরোপ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে প্রতিবন্ধক হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করে এ খাত থেকে মূসক প্রত্যাহারের দাবি জানান শামীম আহসান।

এ বিষয়ে ই-ক্যাবের সভাপতি রাজিব আহমেদ টেকজুম ডটটিভিকে জানান, ই-ক্যাব থেকে অবশ্যই আমরা এর বিপক্ষে। ই-কমার্স সেক্টর নতুন একটি সেক্টর, বেশির ভাগ উদ্যোক্তা নতুন এবং বয়সে তরুণ, তাই অন্তত ২০২৪ সাল পর্যন্ত কোন রকম ভ্যাট থাকা উচিত নয়।

তিনি বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেনাকাটার উপর ভ্যাট আরোপ না করে, তরুণ উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। ই-কমার্স খাতে ছাড় দিলে হাজার হাজার নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে তা আমাদের নীতিনির্ধারকদের উপলব্ধি করতে হবে।

এ ব্যাপারে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল টেকজুম ডটটিভিকে বলেন, এই প্রথম বাজেটে ই-কমার্স একটি আলাদা খাত হিসাবে বিবেচিত হয়েছে যা ই-কমার্স সেক্টর উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমার মতে আইটি বা পোষাক শিল্পের মত ই-কমার্স খাতের উন্নয়নে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বিকাশের লক্ষে ই-কমার্স খাতকে আগামি কয়েক বছর ভ্যাট মুক্ত রাখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের উপর ভিত্তিকরে খুব শীঘ্রহী একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পেশ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, শপিংমল থেকে পণ্য কিনলে ১.৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়, আর অনলাইন থেকে কিনলে ৪ শতাংশ, তাহলে মানুষ কেন অনলাইন থেকে পণ্য কিনবে! এই ভ্যাটের ফলে যারা অনলাইনে কেটাকাটা করতো বা কিনতে আগ্রহী হচ্ছে আমরা তাদের হারাবো।

ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে কর্মসূচী
ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা এ দাবির পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে ‘ই-কমার্স থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে’ শীর্ষক ক্যাম্পেইন শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে ফেসবুকে অনলাইন কেনাকাটার ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে কিছু সংখ্যাক ইভেন্ট পেজ খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসিস, ই-ক্যাবসহ সংশ্লিষ্টরা ভ্যাট প্রত্যাহারের জোর দাবী জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অনলাইনে বেচাকেনা বা ই-কমার্সকে প্রথমবারের মতো সুনির্দিষ্ট করে ভ্যটের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অনলাইনে বেচাকেনার ওপর চার শতাংশ মূল্য সংযোজন কর প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, অনলাইনে পণ্য এবং সেবার বিক্রয় বা সরবরাহ কার্যক্রম বর্তমানে একটি স্বীকৃত জনপ্রিয় ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর অব্যাহতি না থাকলেও মূসক ব্যবস্থায় এই সেবা খাতের সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বর্তমানে নেই। এ ধরনের কার্যক্রমকে মূসকের আওতায় সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এর ব্যাখ্যা নির্ধারণসহ চার শতাংশ হারে মূসক আরোপের প্রস্তাব করছি।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন