নিজেদের মধ্যে মামলা মিটমাট করতে অ্যাপল-স্যামসাং সন্ধি!

0

যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্যান্য দেশে চলমান সব মামলার মিটমাট করতে যাচ্ছে অ্যাপল-স্যামসাং। বিশ্বের নয়টি দেশে পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান অ্যাপল আর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং।

মামলায় কোনো দেশে অ্যাপল জিতেছে তো কোনো দেশে স্যামসাং। কিন্তু পরিষ্কারভাবে জয়ী হয়নি কেউই। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পরস্পরের মধ্যে চলমান এ মামলাগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাইছে দুটি প্রতিষ্ঠানই।

অবশেষে রফা হতে চলেছে। বিবিসি এক খবরে জানিয়েছে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রে মামলা চলবে। এর বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে পরস্পরের বিরুদ্ধে সব মামলার মিটমাট হবে। এজন্য একটি যৌথ চুক্তিতেও স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছে তারা। চুক্তিতে কোনো ‘লাইসেন্স ব্যবস্থায়’ যুক্ত হওয়ার বিষয়টি থাকছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রে মামলা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও জার্মানির মতো নয়টি দেশে পেটেন্ট ভঙ্গের অভিযোগে অ্যাপল ও স্যামসাং পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটের বাজারে এই দুটি প্রতিষ্ঠান পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে দুটি প্রতিষ্ঠান পরস্পরের বিরুদ্ধে মামলার সমাধান করতে পারছে না।

২০১১ সালে অ্যাপল যুক্তরাষ্ট্রে স্যামসাংয়ের বিরুদ্ধে পেটেন্ট ভঙ্গের অভিযোগে মামলা করলে দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শত্রুতা শুরু হয়। এই মামলায় স্যামসাং বিরুদ্ধে আইফোন ও আইপ্যাড থেকে নকল করে গ্যালাক্সি সিরিজের পণ্য তৈরির অভিযোগ আনে অ্যাপল। এর মধ্যে ‘স্লাইড টু আনলক’ ফিচারও ছিল। অ্যাপলের মামলার পর স্যামসাংও বিভিন্ন দেশের আদালতে পেটেন্ট ভঙ্গের অভিযোগে অ্যাপলের বিরুদ্ধে মামলা করে। এর মধ্যে রয়েছে ফটো সিনক্রোনাইজেশন, বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে মিউজিক ও ভিডিও ফাইল স্থানান্তর ফিচার। এই মামলার বিপরীতে অ্যাপলও পাল্টা মামলা করে। এখন বিভিন্ন দেশে পরস্পরের বিরুদ্ধে করা সেই মামলাগুলো তুলে নিতে সম্মত হয়েছেন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মকর্তারা।

বিভিন্ন দেশে মামলা চললেও অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের প্রধান মামলা মনে করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আদালতে করা মামলাগুলোকে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে দুটি মামলার রায় অ্যাপলের পক্ষে গেছে। এ বছরের মে মাসে একটি মামলার রায়ে অ্যাপলের দুটি পেটেন্ট ভঙ্গের দায়ে স্যামসাংকে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ডলার জরিমানা করেন আদালত। এই মামলায় ২২০ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে অ্যাপল। অবশ্য এ মামলার রায়ে আদালত বলেছেন, স্যামসাংয়ের একটি পেটেন্ট অ্যাপল লঙ্ঘন করেছে। এজন্য অ্যাপলকে এক লাখ ৫৮ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়।

অবশ্য, অ্যাপলের সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং। আর দুটি পেটেন্ট অ্যাপল লঙ্ঘন করেছে এ অভিযোগে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে স্যামসাং।

২০১২ সালে আরেকটি মামলায় অ্যাপলকে জয়ী ঘোষণা করে ১০৫ কোটি জরিমানা করেন স্যামসাংকে। অ্যাপলের মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে স্যামসাংয়ের বিপক্ষে রায় দেন জুরি এবং স্যামসাংয়ের পাল্টা দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। ওই মামলাটি এখনও চালিয়ে যাচ্ছে স্যামসাং।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন