শেষ পর্যন্ত ভারতীয় কোম্পানি অ্যাট্রিক করপোরেশন এবং মার্কিন কোম্পানি বোয়িং বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট নির্মাণে দরপত্র জমা দেয়নি। এ দুটি কোম্পানির বাইরে আগ্রহী বাকি চারটি কোম্পানি বৃহস্পতিবার তা জমা দিয়েছে।

দরপত্র জমা দেওয়া কোম্পানিগুলো হল- চীনের গ্রেটওয়াল ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন, ফ্রান্সের থ্যালিস অ্যালিমা স্পেস, যুক্তরাষ্ট্রের অরবিটাল কেটিএ এবং কানাডার এমডিএ।

বৃহস্পতিবারই দরপত্রগুলো খুলে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য তা সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে মহাকাশে স্যাটেলাইন উৎক্ষেপেনের প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত থাকলেও ওই বছর ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটেলাইট মহাকাশে ওড়ানোর উৎসব করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট বানাতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর দরপত্র প্রস্তাবের কারিগরি বিষয়গুলো সোমবার থেকে কারিগরি কমিটি মূল্যায়নের কাজ শুরু করবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন কমিটির প্রধান এবং বিটিআরসির কমিশনার এটিএম মনিরুল আলম।

এর আগে ভারত অনেক আগ্রহ দেখালেও শেষ পর্যন্ত দেশটির কোম্পানিটি দরপত্র জমা না দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিটিআরসির কর্মকর্তারাও।

এমনকি ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বিষয়টি নিয়ে বুধবার বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও তাদের আগ্রকের কথা জানান।

এর আগে গত ৬ জুন দু’দিনের ঢাকা সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে সহায়তা করতে তার দেশের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

গত বছর ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকার প্রকল্পটি সরকার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে (একনেক) পাস হয়।

কাঙ্ক্ষিত এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক হবে বলে মনে করছে কমিশন। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাত বছরের মধ্যে এটি ব্রেক ইভেনে চলে আসবে এবং এর মাধ্যমে দেশের কোটি কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

বর্তমানে শুধু স্যাটেলাইট টেলিভিশনগুলোর স্পেকট্রাম ভাড়া বাবদই বছরে দেড় কোটি ডলার বিদেশে চলে যায়।

স্যাটেলাইটটি রাশিয়ার ইন্টার স্পুটনিকের কাছ থেকে কেনা ১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমায় ওড়ানো হবে এবং পরের দুটির জন্য ইতিমধ্যে অরবিটাল স্লট পেতে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন