ক্যালিফোর্নিয়ায় নাসার সাংবাদিক বৈঠক নিয়ে কৌতুহলের অন্ত ছিল না আকাশ-জিজ্ঞাসুদের মনে। পৃথিবীর মতো নতুন গ্রহের সন্ধান মিলেছে, আগেই জানিয়ে রেখেছিল নাসা। ফলে এবার ঝড়ের মতো ছড়িয়েছে খবর। খোঁজ মিলেছে পৃথিবীর দোসরের। এর থেকে কাছে কোনও গ্রহে পৃথিবীর সঙ্গে এত মিল আগে পাওয়া ‌যায়নি বলে জানিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

নাম কেপলার ৪৫২-বি। পৃথিবী থেকে দূরত্ব ১,৪০০ আলোকবর্ষ। ব্যস পৃথিবীর থেকে ৬০ শতাংশ বেশি। সূ‌র্যেরই মতো একটি নক্ষত্রকে প্রদক্ষিণ করছে সে। কক্ষের দৈর্ঘ্য পৃথিবীর থেকে ৫ শতাংশ বেশি। ৩৮৫ দিনেক একবার নক্ষত্রটিকে প্রদক্ষিণ করে কেপলার ৪৫২-বি। আর সব থেকে বড় কথা রয়েছে সেই নক্ষত্রের ‘হ্যাবিটেবল জোন’-এর মধ্যে।

কী এই হ্যাবিটেবল জোন। প্রতিটি নক্ষত্র থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে কোনও বস্তু থাকলে নক্ষত্র থেকে আসা আলোকরস্মির জেরে তার পৃষ্ঠতলে এমন তাপমাত্রা তৈরি হয় ‌যাতে সেখানে জল কঠিন-তরল ও গ্যাসীয় তিন অবস্থাতেই থাকতে পারে। সেই অঞ্চলকে বলা হয় ওই নক্ষত্রের হ্যাবিটেবল জোন। হ্যাবিটেবল জোন নক্ষত্রের চারিদিকে বলয়াকার হয়। সূ‌র্যের হ্যাবিটেবল জোনে থাকার জন্যই পৃথিবীতে প্রাণের সৃজন হতে পেরেছে। সূ‌র্যের হ্যাবিটেবল জোনের একেবারে প্রান্তে রয়েছে লালগ্রহ মঙ্গল। তাই তাতে প্রাণ খুঁজতে মরিয়া নভেবিদরা।

নাসা জানিয়েছে, গত কয়েক মাস কেপলার টেলিস্কোপ দিয়ে মহাকাশে তল্লাশি চালিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মিলেছে ৫০০-র বেশি গ্রহের সন্ধান। তার মধ্যে অন্তত এক ডজন গ্রহ সেই নক্ষত্রের হ্যাবিটেবল জোনে অবস্থিত ও আকার পৃথিবীর দু’গুণের বেশি নয়। এই রকম কোনও গ্রহে প্রাণের উন্মেষের ব্যাপারে বেশ আশাবাদী নাসা।

তবে তাতেও থেকে ‌যাচ্ছে একাধিক প্রশ্ন। কেপলার ৪৫২-বি-র ভর এখনও হিসাব করে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। ফলে তার অভিকর্ষজ বলও পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে অভিকর্ষজ বল বেশি হলে জলের স্ফূটনাঙ্কও পরিবর্তিত হবে। খুব বেশি হলে জল তো বটেই, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, মিথেনের মতো গ্যাসগুলিও তরল আকারে থাকতে পারে সেখানে। গ্রহটির আহ্নিক গতি সম্পর্কেও কোনও তথ্য দিতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। তাছাড়া বায়ুমণ্ডলে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ ০.৫ শতাংশ বাড়লে ‌যেখানে পৃথিবীর জীবকূলে সঙ্কট দেখা দেয়, সেখানে ১,৪০০ আলোকবর্ষ দূর থেকে কোনও গ্রহে প্রাণের উপস্থিতি নিশ্চিত করা সত্যিই কঠিন।

সূত্র: ইন্টারনেট

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন