অনলাইন নীতিমালা, আহ্বানে সাড়া নেই অংশীজনদের

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলতি বছরের ২১ জুলাই নীতিমালাটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে ১২ আগস্টের মধ্যে অংশীজনদের মতামত আহ্বান করা হয়েছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কেউ এই বিষয়ে মতামত দেয়নি।

তথ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় অনলাইন নীতিমালার খসড়া তৈরি করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। উদ্দেশ্য নীতিমালার ওপর সকলের মতামত নেওয়া। মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ২৪ দিনেও কেউ মতামত দেয়নি বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মতামত জানানোর সময় বাড়ানো হয়েছে। ‘জাতীয় অনলাইন নীতিমালা ২০১৫’ শিরোনামে খসড়া নীতিমালাটি তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রয়েছে।

তথ্য সচিব মরতুজা আহমদ জানিয়েছেন, ‘অনলাইন নীতিমালা নিয়ে অংশীজনদের মতামত দেওয়ার জন্য অনেকে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন। সে জন্য মতামত দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়েছে।’
অবশ্য নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করার পর কোনো পক্ষ থেকে সুপারিশ কিংবা পরামর্শ না আসায় এই নীতিমালা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক আলমগীর হোসেন মন্ত্রণালয় গঠিত জাতীয় অনলাইন নীতিমালা কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু খসড়া নীতিমালা প্রস্তুত হওয়া কোনো বৈঠকে তিনি অংশ নেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তিনি বলেন, ‘প্রথম কমিটি গঠনের পর ওই কমিটিতে থাকা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা না করেই আরও অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিষয়টাতে আমি অবাক হয়েছিলাম। নতুন সদস্য নেওয়ার যৌক্তিকতা আমার বোধগম্য হয়নি। তাদের যোগ্যতা সম্পর্কেও জানতাম না। তাই আর কমিটির বৈঠকে যাইনি।’

বাংলাদেশে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম স্থাপনের অন্যতমদের একজন হিসেবে পরিচিত এই সাংবাদিক আরও বলেন, ‘আমি লিখিতভাবে তথ্য সচিবকে জানিয়ে দিয়েছিলাম যে, নীতিমালা ভালভাবে করতে হলে কমিটি পুনর্গঠন করা দরকার। সেটা আর হয়নি, আমিও কোনো বৈঠকে যাইনি। তাই যে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে সেটা আমি দেখিনি। সে কারণে মন্তব্যও করতে পারছি না।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এ্যাসোসিয়েশন (বোমা) ও নিউজপেপার ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (নোয়াব) নামে দু’টি সংগঠন নীতিমালার ওপর মতামত দেওয়ার জন্য সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে।

বাংলাদেশ অনলাইন মিডিয়া এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শরীফুল ইসলাম খান জানান, আমরা চাই নীতিমালায় অনলাইন গণমাধ্যমগুলোর স্বার্থ যাতে ভালভাবে সংরক্ষণ হয়। তাই মতামত দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছি।

অনলাইন নীতিমালা নিয়ে গঠিত কমিটির দ্বিতীয় পর্যায়ে যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে শরীফুল ইসলামও রয়েছেন। তিনি নিজে কমিটিতে থাকার পরও নীতিমালায় আর কি পরিবর্তন চান? এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কোনো বিষয় উল্লেখ না করে বলেন, ‘সব অনলাইনকে ডেকে সিদ্ধান্ত নেব কী মতামত দেওয়া যায়।’

বেশ কিছুদিন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে অনলাইন নীতিমালা প্রকাশ করা হলেও প্রচারণার অভাবে বিষয়টি অনেকে জানেনও না। বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি অনলাইনে (এনটিভিবিডি ডটকম) তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। হেড অব এনটিভি অনলাইন খন্দকার ফকরুল ইসলামের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘অনলাইন নীতিমালটি এখনো আমার দেখা হয়নি। তাই হুট করে কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। দেখে তারপর মন্তব্য করব।’

তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার) শাহাজাদী আনজুমান আরার কাছে মন্তব্য জানতে চাইলে বলেন, ‘আমি নতুন দায়িত্ব পেয়েছি। এখনো সবকিছু জানি না। জেনে তারপর আপনাকে বলতে পারব।’

জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বিদ্যমান অবস্থায় এইসব (অনলাইন) গণমাধ্যম একদিকে কোনো স্বীকৃতি বা সুযোগ-সুবিধা পায় না, অন্যদিকে গণমাধ্যমের জাতীয় মান রক্ষা করাও সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি, নিবন্ধন ইত্যাদি বিদ্যমান নেই।’

যে সব পত্রিকা, টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেল অনলাইনেও তাদের খবর প্রচার করে এই খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী তাদের অনলাইন সংস্করণের জন্যও আলাদাভাবে নিবন্ধিত হতে হবে।
নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, ‘দেশের বিদ্যমান কাগজ ও সম্প্রচারনির্ভর জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও তথ্য-উপাত্ত ও সম্প্রচার ইন্টারনেটে প্রকাশ করছে। ফলে ইতোমধ্যে অনলাইন গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশে অনলাইন গণমাধ্যমের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। তাই অনলাইনে প্রকাশিত গণমাধ্যমের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা আবশ্যক।’

সুত্র :দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকম

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন