রবির গ্রাহক ২ কোটি ৭৪ লাখ, বেড়েছে রাজস্ব

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// মোবাইল ফোন অপারেটর রবি’র রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকও বেড়েছে চলতি বছরে প্রথম ছয় মাসে। মানসম্মত নেটওয়ার্ক ও গ্রাহকবান্ধব সেবার জন্য গ্রাহকের কাছে পছন্দের অপারেটর ছিল রবি।

রাজধানীর গুলশানে রবি কর্পোরেট অফিসে ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড ২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন) ব্যবসায়িক ফলাফল তুলে ধরে।

সংবাদ সম্মেলনে রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার (সিসিপিও) মতিউল ইসলাম নওশাদ এবং চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইয়াপ উই ইপ বক্তব্য রাখেন।

রবি বলছে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা ২১ লাখ বেড়ে ২ কোটি ৭৪ লাখে পৌঁছেছে। যা দেশের মোট মোবাইল ফোন গ্রাহক সংখ্যার ২১ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাস শেষে কোম্পানির রাজস্ব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সারা দেশে সর্বোচ্চ মানের ইন্টারনেট সেবা প্রদানের ফলে ইন্টারনেট থেকে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ১২৮ শতাংশেরও বেশি। ৩.৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বড় অংকের বিনিয়োগ এবং ৩.৫জি সেবা ব্যবহারে উৎসাহিত করতে গ্রাহকদের জন্যে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্যাকেজ অফারের কারণে ইন্টারনেট থেকে রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।

ক্রমাগত বিনিয়োগের ফলে নেটওয়ার্ক খাতে উচ্চ ব্যয় এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) মার্জিন দাঁড়িয়েছে ৩৭ শতাংশে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য কম। ২.৫জি/৩.৫জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উচ্চ অবচয় ব্যয়ের কারণে বছরের প্রথম ছয় মাসে কর পরবর্তী মুনাফা বা পিএটি (প্রফিট আফটার ট্যাক্স) দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক ও ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিক

রবি ব্র্যান্ডের প্রতি গ্রাহকের আস্থা, সেবার মান ও মানসম্মত নেটওয়ার্কের কারণে গ্রাহক সংখ্যা ৪ দশমিক ১ শতাংশ বা ১১ লাখ বৃদ্ধি পেয়ে ২ কোটি ৭৪ লাখে পৌঁছেছে।

গ্রাহকবান্ধব বৈচিত্রময় পণ্য ও সেবা প্রদান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ফলে গত প্রান্তিকের তুলনায় এ প্রান্তিকে রাজস্ব বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩০০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডাটা ব্যবহারের হার ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের কারণে ডাটা মূল্য দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইন্টারনেট থেকে অর্জিত রাজস্বের পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

সাশ্রয়ী ব্যয় ব্যবস্থাপনার ফলে ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪৭০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে কর পরবর্তী মুনাফা (পিএটি) ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ কোটিতে পৌঁছেছে।
তুলনামূলক বিশ্লেষণ: ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক ও ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক

পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর কোম্পানির রাজস্ব ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং গ্রাহক সংখ্যা ৩৩ লাখ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে রবি’র মোট গ্রাহক সংখ্যা ২ কোটি ৭৪ লাখ। রবি’র এ উল্লেখযোগ্য গ্রাহক বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে গ্রাহকবান্ধব পণ্য ও সেবা প্রদান এবং মানসম্মত নেটওয়ার্কের নিশ্চয়তা।

২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৩০০ কোটিতে পৌঁছেছে যা ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ১ হাজার ২৩০ কোটি।

২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ইবিআইটিডিএ মার্জিন ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইবিআইটিডিএ ছিল ৪৯০ কোটি টাকা যা ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমে ৪৭০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। মূলত ২.৫জি এবং ৩.৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ইবিআইটিডিএ কমেছে।

অতিরিক্ত অবচয় এবং নতুন মূলধনী বিনিয়োগ ও থ্রিজি তরঙ্গের অব্যাহত মূল্য পরিশোধের ফলে ২০১৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় পিএটি ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি’র পিএটি’র পরিমাণ ৯০ কোটি টাকা।
মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ব্যয়:
৩.৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং ২.৫জি নেটওয়ার্কে ভয়েজ ও ইন্টারনেট সেবা আরো উন্নত করতে বিপুল বিনিয়োগ করে চলেছে রবি। ২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে মূলধনী ব্যয়ে ৭১০ কোটি টাকা বিনিয়োগসহ এ পর্যন্ত মোট মূলধনী ব্যয়ের পরিমান ১৫ হাজার ৫৮০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। দেশজুড়ে ৮ হাজার ১১৯টি সাইটের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করছে রবি, যার মধ্যে ৩.৫জি সাইটের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫০টি’র বেশি।

রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “ইন্টারনেট ডট ওআরজি’র মাধ্যমে রবি গ্রাহকদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। এ সেবা গণমানুষের মাঝে সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি আমাদের ছিল, তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বৈশাখী ঝড়’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষ মূল্য ছাড়ে রবি গ্রাহকরা জনপ্রিয় ব্র্র্যান্ডের ৩জি সুবিধা সম্পন্ন স্মার্টফোন ক্রয়ের সুযোগ পেয়েছিল। এছাড়াও ‘৩৯/৭৯ টাকা রিচার্জে সেরা কল রেট’ অফারের মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী কল রেট উপেভোগের সুযোগ করে দিয়েছে রবি।”

সিওও বলেন, “রবি ১ জিবি এবং ২ জিবি ইন্টারনেট প্যাকেজের জন্য রিচার্জের ওপর দ্বিগুণ ডাটা বোনাস সুবিধা প্রদান করছে। এসএমএস কুইজ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে রবি গ্রাহকদের জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সেরা পেসার রুবেল হোসেনের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ করে দিয়েছে।”

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পৃষ্ঠপোষক হওয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমরা মনে করি আমাদের ক্রিকেটাররা তাদের প্রতিভা, নিষ্ঠা এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে জ্বলে ওঠার আপন শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছেন।”

এর আগে রবি’র চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার (সিইও) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুপুন বীরাসিংহে বলেন, “২০১৫ সালের প্রথম ছয় মাসে ভয়েস সেবা ছাড়া বাকি সব ক্ষেত্রেই আমরা সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি । গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত টেলিযোগাযোগ সেবা ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে ২.৫জি এবং ৩.৫জি নেটওয়ার্কের বিস্তারে আমাদের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি বলেন, “বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন স্পন্সর হওয়ার পাশাপাশি দেশের ক্রিকেটের গৌরবময় পথচলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এর সাথে অংশীদার হতে পেরে গর্বিত।”
স্টেকহোল্ডারদের পরিশোধিত অর্থের বিবরণ
২০১৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রবি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ৪৮০ কোটি টাকার বেশি জমা দিয়েছে যা মোট রাজস্বের ৩৭ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরুর পর থেকে রবি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি, অন্যদিকে একই সময়ে স্টেকহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড প্রদান করেছে মাত্র ২৬০ কোটি টাকা।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন