বিশ্বের শীর্ষ ১০টি শক্তিশালী সুপার কম্পিউটার

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// প্রসেসিং ক্ষমতা বিশেষ করে হিসাব নিকাষের গতির উপর নির্ভর করে কোন নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবীর অগ্রগন্য কম্পিউটারগুলোকে সুপার কম্পিউটার বলা হয়ে থাকে। ১৯৬০ সালের দিকে কন্ট্রোল ড্যাটা কর্পোরেশন (সিডিসি) এর সেইমার ক্রে সর্বপ্রথম প্রাথমিক ভাবে সুপার কম্পিউটারের একটি ডিজাইন তৈরী করেন এবং তা পৃথিবার কাছে তুলে ধরেন। ১৯৭০ সালের দিকের সুপার কম্পিউটারগুলোতে সমান্য কয়েকটি প্রেসেসর ব্যবহার করা হয়ে থাকলেও ১৯৯০ সালের দিকের সুপার কম্পিউটারগুলোতে হাজারে হাজারে প্রসেসর ব্যবহার হতো কিন্তু বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে সুপার কম্পিউটারে প্রসেসরের এ সংখ্যা লক্ষ ছাড়িয়ে যায়।

১. TIANHE-2: পঞ্চমবারের মত চ্যাম্পিয়নের খেতাব অর্জন করে নিয়েছে চীনা এই সুপারকম্পিউটারটি। চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ ডিফেন্স অ্যান্ড টেকনোলোজি তে অবস্থিত এই পাওয়ার হাউজটি দিয়ে আসলে কি কাজ করা হয় তা এখনো অজানা। তবে সুত্র থেকে জানা যায় চীনা সরকারের মর্জি মাফিক যা ইচ্ছে তাই করা হয় বিশ্বের সবথেকে শক্তিশালী এ সুপারকম্পিউটার দিয়ে। মজার বিষয় হল এত শক্তিশালী এ সুপারকম্পিউটারের পুরো শক্তির কেবলমাত্র ক্ষুদ্রাংশই ব্যবহারে সক্ষম হয়েছে বিজ্ঞানীরা।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৩৩.৮ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘এনইউডিটি’

tianhe_2_racks

 

২. TITAN: এটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি সবথেকে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার। বর্তমানে অকরিজ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি মূলত ম্যাটেরিয়াল সাইন্স, রাসায়নিক সিমুলেশন এবং ম্যাটেওরোলজি ভিত্তিক গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ১৭.৫ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রে ইনকর্পোরেশন’

titan_acceptance_article

৩. SEQUOIA: যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকা Vulcan সহ অন্যান্য সব কম শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারগুলোর মধ্যে থেকে নিজেকে তালিকার তিন নম্বর অবস্থানে ধরে রেখেছে। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে অন্যান্য জিপিইউ ভিত্তিক সুপারকম্পিউটারের ন্যায় এটি আলাদা কোন জিপিইউ অ্যাক্সেলারেটর ব্যবহার করে না।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ১৭.১ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইবিএম’

sequoia6_680_0

৪. K COMPUTER: তালিকায় সবথেকে লম্বা সময় ধরে থাকা সুপারকম্পিউটারগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে K Computer। জাপানের অ্যাডভান্স ইন্সটিটিউট ফর ন্যাশনাল সায়েন্সে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি আবহাওয়া পরিবর্তন, ফার্মালোজিকাল রিসার্স এবং মহাজাগতিক বিশ্লেষণমূলক কাজ ছাড়াও আরও অনেক গবেষণা মূলক কাজে ব্যবহৃত হয় এ সুপারকম্পিউটারটি।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ১০.৫ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘ফুজিৎসু

OLYMPUS DIGITAL CAMERA
OLYMPUS DIGITAL CAMERA

৫. MIRA: দি আর্গন ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার একই সাথে তালিকার সবথেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সুপারকম্পিউটারের মধ্যে একটি।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৮.৫ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইবিএম’

MIRA1

৬. PIZ DAINT: সুইজারল্যান্ডের সুইস ন্যাশনাল সুপারকম্পিউটার সেন্টারে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি ইউরোপের সবথেকে ক্ষিপ্রগতির সুপারকম্পিউটার। এইচপিসি রিসার্চ, ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল রিসোর্স প্রোজেক্ট এবং এমনকি ম্যাটেওরোলজি প্লাটফর্মের জন্যেও এ সুপারকম্পিউটারটি ব্যবহার করা হয়।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৬.২ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রে ইনকর্পোরেশন’

jibon

৭. SHAHEEN II: সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজিতে অবস্থিত নতুন এ সুপারকম্পিউটারটি মিডল ইস্টের সর্ব প্রথম সুপারকম্পিউটার হিসেবে শীর্ষ ১০ এ স্থান করে নিয়েছে। বিভিন্ন ধরণের বিজ্ঞান এবং শিক্ষামূলক গবেষণার কাজে ব্যবহার করার জন্যেই এই সুপারকম্পিউটারটিকে তৈরি করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৫.৫ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘ডেল’

jo

৮. STAMPEDE: টেক্সাস ইউনিভার্সিটিতে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবথেকে শক্তিশালী কম্পিউটার। ভূমিকম্প, বায়োফুয়েল, আবহাওয়া পরিবর্তনসহ অন্যান্য অনেক কাজে ব্যবহৃত হয় এ পাওয়ার হাউজটি।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৫.১ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘ডেল’

kkkk

৯. JUQUEEN: এ সুপারকম্পিউটারটি তালিকায় থাকা দুটো ইউরোপিয়ান সুপারকম্পিউটারের মধ্যে একটি। জার্মানির বিখ্যাত জুলিস রিসার্স সেন্টারে অবস্থিত এ সুপারকম্পিউটারটি শুধুমাত্র জীববিদ্যা এবং আবহাওয়া গবেষণার কাজে ব্যবহার করা হয়।
সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৫.০ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইবিএম’

ggg

১০. VULCAN: গত বছর ৯ নম্বরে থাকা মার্কিন সরকারের এ রহস্যময়ী কম্পিউটারটির অবস্থান এ বছর তালিকার ১০ নম্বরে নেমে এসেছে। ‘লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরটারিতে’ অবস্থিত এ কম্পিউটারটি জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তবে এটা শুধু রিসার্চ অথবা বিজনেসের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে।
কম্পিউটারটির সর্বোচ্চ গতি প্রায় ৪.২ পেটাফ্লপ
প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান ‘আইবিএম’

27899_vulcan_Big

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন