জাপানে তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশিদের চাকরির সুযোগ

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি//  বাংলাদেশের কাছে জাপান সূর্যোদয়ের দেশ বলেই পরিচিত। তবে বিশ্ব জাপানকে তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশ বলেই চেনে। বিশ্ব অর্থনীতিতে জাপানের অবস্থান তৃতীয়। কিন্তু গত এক দশক ধরে ক্রমাগত হারে জনসংখ্যার নিম্নগতি জাপানের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে জাপানের অর্থনীতিকে দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখার মতো জনসংখ্যা জাপানের নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাপান সরকার উদ্যোগ নিয়েছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে সম্ভাবনাময় দক্ষ জনশক্তিকে জাপানে চাকরি ও শিক্ষা অর্জনের সুযোগ দিয়ে কাজে লাগানোর। দেশগুলোর তালিকার মধ্যে রয়েছে—ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ, ভারত, মালয়েশিয়া, নেপাল, ফিলিপাইনের নাম। এইসব দেশের দক্ষ জনশক্তিকে প্রতিযোগিতামূলক বেতন দিয়ে জাপানের কোম্পানিগুলো চাকরি দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে জাপানে। পিছিয়ে নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও। জাপানের গ্লোবাল ৩০ ভিশন অনুযায়ী জাপান বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেবে। প্রশ্ন হতে পারে জাপান যাবেন কীভাবে বা কে সহায়তা করবে চাকরি বা পড়ালেখার বিষয়ে।

জাপানে পড়ালেখা ও চাকরির বিষয়ে সহায়তার করার জন্য বাংলাদেশে ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছে ড্যাফোডিল-জাপান আইটি (ডিজেআইটি)। ২০১৩ সাল থেকে বিবিপি জাপান ও ড্যাফোডিল গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে। আইটি, সিএসই, ইলেক্ট্রিক্যাল ও অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারদের প্রচুর চাহিদা থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটি জাভা, অ্যান্ড্রয়েড, পিএইচপি, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোর্সে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের ইঞ্জিনিয়াররা হয়ে উঠছেন আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতাসম্পন্ন। তাদের প্রশিক্ষণ শেষে ড্যাফোডিল জাপান আইটি (www.djit.ac) আয়োজন করছে বিভিন্ন জাপানি কোম্পানির জন্য ইন্টারভিউ সেশন। তাদের সেশন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন জাপানি কোম্পানিতে।

ড্যাফোডিল জাপান আইটির ম্যানাজিং ডিরেক্টর তরু অকাজাকি জানান, তাদের এজেন্সি থেকে আইটি কোর্স ও জাপানিজ ভাষার কোর্স করে এরই মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনেকেই পাড়ি জমিয়েছেন জাপানে। এদের মধ্যে রয়েছে আবদুল্লাহ মারুফ, রাফি, শোভন, আবু সুফিয়ান প্রমুখ। এ ছাড়া যেসব জাপানি কোম্পানি বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে, সেসব কোম্পানিতেও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সেকাই ল্যাব ও ফ্রামজিয়া নামের দুইটি জাপানি কোম্পানি সম্প্রতি বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে, যাদের কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব নিয়েছে ডিজেআইটি।

বলে রাখা ভালো, জাপানে যাওয়ার জন্য জাপানিজ ভাষা জানাটা আবশ্যক। এজন্য ড্যাফোডিল জাপান আইটির রয়েছে স্পেশাল জাপানিজ ল্যাংগুয়েজ কোর্স। জাপানে মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজেরও সুযোগ রয়েছে। জাপান দূতাবাস শিথিল করেছে প্রশাসনিক জটিলতাও।

তাই যারা পড়ালেখা বা চাকরির জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তারা জাপানকেই বেছে নিতে পারেন পছন্দের গন্তব্য হিসেবে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন