রাজস্ব আয় বেড়েছে রবির

0

চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ করেছে মোবাইলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা লিমিটেড। একই সময়ে অপারেটরটির ১৭ লাখ নতুন গ্রাহক সংযুক্তের মাধ্যমে গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ৯ শতাংশ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছে এক হাজার ২১০ কোটি। আর উচ্চ বিনিয়োগের কারণে কর পরবর্তি মুনাফা কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ।

বুধবার চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত এবং একই সঙ্গে দ্বিতীয় প্রান্তিকের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রবি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুপুন বীরাসিংহে, ব্যবসায়িক ফলাফল উপস্থাপন করেন সিওও মাহতাবউদ্দিন আহমদ।

এসময় রবি’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও সুপুন বীরাসিংহে বলেন, “বছরের শুরু থেকে সব দিকেই রবির স্থিতিশীল অগ্রগতি হচ্ছে। দেশজুড়ে ৩.৫জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে আমরা উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করেছি এবং নেটওয়ার্ক বিস্তৃতির জন্য বিনিয়োগের সাথে ইন্টারনেটের ব্যবহার ও রাজস্ব বৃদ্ধির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তবে ভয়েস থেকে রাজস্ব বৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং সিম প্রতিস্থাপনে নতুন করে করারোপের ফলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পুরো শিল্পের অগ্রগতিই মারাত্মকভাবে ব্যবহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ ধীর হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে এই খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ নষ্ট হবে।”

রবির চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, “রবি দেশজুড়ে ইন্টারনেটের একক দাম নির্ধারণ করেছে যা ইন্টানেট ব্যবহারকে সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে। সুপার দামাল সামাল প্যাকেজে এক রেটে কথা বলার সুযোগ রয়েছে এবং রবি স্টোর লোকেটরের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা গ্রহণের বিষয়টি সহজ করে তুলছে।”

এইচডি ভয়েস সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিওও বলেন, “বাংলাদেশে প্রথম অপারেটর এবং গ্রাহকদের জন্য এইচডি ভয়েস সেবা প্রদানকারী বিশ্বের মাত্র কয়েকটি অপারেটরের মধ্যে রবি একটি। এইচডি ভয়েস সেবা উপভোগের জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহারোপযোগী হ্যান্ডসেটের প্রয়োজন হয়। এটি আকর্ষণীয় এক প্রযুক্তি এবং এজন্য গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে রবি নেটওয়ার্কের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে রবি’র গ্রাহক সংখ্যা দুই কোটি ৪০ লাখে দাঁড়িয়েছে। এটি দেশের মোট মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর ২০ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্রাহক বাড়ার পাশাপাশি গত বছর একই প্রান্তিকের তুলনায় এবার রাজস্ব বৃদ্ধির হার ৬ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। এই আয়ের বেশির ভাগ এসেছে ইন্টারনেট থেকে। এই হার ছিল ১১৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

অপরদিকে রবি ৩.৫জি নেটওয়ার্ক প্রসারিত করতে এবং ভয়েস ও ইন্টারনেট উভয় ক্ষেত্রে গ্রাহক সন্তুষ্টি নিশ্চিত করতে চলতি বছরের প্রথমার্ধের মোট বিনিয়োগ ৯৯০ কোটির মধ্যে দ্বিতীয় প্রান্তিকেই মূলধনী ব্যয়ে বিনিয়োগ হয়েছে ৪৯০ কোটি টাকা।

সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১৪ সালের প্রথমার্ধে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এক হাজার ২১০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে রবি। এই অর্থ কোম্পানির মোট রাজস্বের ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। ১৯৯৭ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে রবি এ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। অন্যদিকে ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ডিভিডেন্ডের মাধ্যমে অংশীদারদের দিয়েছে মাত্র ১৪০ কোটি। ২০০৬ সালের পর থেকে আর কোন ডিভিডেন্ট দেয়া হয়নি।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন