মুষলধারে বৃষ্টিতে ঢাকা যেন নদী! ফেসবুকে মজার মন্তব্য

0

নিউজ ডেস্ক, টেকজুম ডটটিভি// মঙ্গলবার (১লা সেপ্টেম্বর) মুষলধারে বৃষ্টি যেন ঢাকাকে নদীতে পরিনত করেছে। প্রবল বৃষ্টিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলি-গলিতে পানি জমে যায়। বিভিন্ন সড়কে বিকল হয়ে পড়ে যানবাহন। এমনকি উন্নয়নের সরকার হিসাবে ঘোষিত বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের সড়কের বিভিন্ন অংশও পানিতে ডুবে যায়। এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করছে রাজধানীবাসি। চলুন দেখে নিই তাদের নিজস্ব অভিমত আর ক্ষোভের ধরনগুলো।

ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রনেতা এবং আনন্দ কম্পিউটারসের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, জলাবদ্ধতা! কারও কোন মাথাব্যথা নেই। জ্যাম! তাতেও কারও কোন মাথাব্যথা নেই। এই শহরটির করুণ পরিণতির কথা ভাবারও কেউ নেই। আহারে ঢাকা-তুমি বিশ্ব মানচিত্রে ঢাকাই পড়ে থাকবে।

বিডিজবস ডটকম এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর লিখেছেন, বিজ্ঞানীদের সকল ভবিষ্যতবাণী ভুল প্রমান করিয়া ২০৫০ সনের অনেক আগেই ঢাকা ডুবিয়া যাইতেছে! ঢাকাকে ডুবাতে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং’ থেকে ‘এক পশলা বৃষ্টি’-ই অনেক বেশি কর্যকর।

dhaka road-techzoom.tv

বাংলা ট্রিবিউন এর সাংবাদিক হিটলার এ. হালিম লিখেছেন, আজ মনে হলো- লঞ্চ, নৌকা নদীতে নয়, এই শহর ঢাকায় চলা উচিত! তাহলে অন্তত মানুষের ভোগান্তি কম হবে। ময়লা, পুঁতি গন্ধময় পানি গায়ে মেখে অফিসে আসতে হবে না। অাজ যেমন, মিরপুর থেকে লঞ্চে উঠতাম, হাওয়া খেতে খেতে পান্থপথে অফিসে অাসতাম। এক সকালের বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে একটানা কয়েকদিন হলে কী হবে? এখনও সময় আছে বুড়িগঙ্গা থেকে লঞ্চ আর নৌকাগুলো তুলে আনা হোক।
দুপুরে বাসা থেকে জিন্স-কেডস পরে বের হয়ে (বাসে করে, পায়ে হেটে) কোমর সমান পানি মাড়িয়ে অফিসে এলাম। (এরকম আগেও একদিন ঘটেছিল)। সাড়ে ৪০০ টাকা খরচ করে ট্রাউজার কিনে নোংরা পানি, চুলকানি আর ঠাণ্ডা থেকে অাপাতত রক্ষা পেলেও খচখচানিটা যাচ্ছে না। মাসের শুরুতে সাড়ে ৪০০ টাকা গচ্চা গেল। কোনও অভিযোগ নেই। এটা গা সওয়া হয়ে গেছে। ২০০৪ সালেও এরকম ভোগান্তিতে পড়েছিলাম কয়েকদিন, মতিঝিলে, নটরডেম কলেজের সামনে। ভাবছি, আর কোনওদিন সকালে এরকম বৃষ্টি হলে বাসা থেকে ব্যাগে করে ট্রাউজার, গামছা নিয়ে বের হব। সমস্যা দূর হবে না জানি, কিন্তু নিজের সুরক্ষার কথা তো ভাবতে হবে।

হিটলার এ. হালিম Photo

প্রথম আলো পত্রিকার ডেপুটি ফিচার এডিটর জাহেদ রেজা নুর তীব্র যানজটে আটকে থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এভাবে, কাউকে বলব না, কতক্ষণ রাস্তায় আমি। এ রকম রোমান্টিক আর থ্রিলিং আর কী হতে পারে? পথে অসাধারণ বন্যার স্বাদে, সিএনজিওয়ালাদের গালাগালের সরগরম আওয়াজে, অবিরত হর্নের শব্দে আমি রোমাঞ্চিত। গাড়িতে কতটা তেল পুড়ল কিংবা অফিসে কঘন্টা দেরি হলো, সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো, এই যে রাজধানীতে বসে কোন ব্যাপারে বিস্মিত হচ্ছি না, বরং রোমাঞ্চিত হচ্ছি, সেটা।

দৈনিক সমকাল পত্রিকার আইটি পেজ ইনচার্জ হাসান জাকির লিখেছেন, ঢাকা শহরে রাস্তাঘাটের যে সংকট, জ্যাম, যানজট এসব সমস্যার একমাত্র সমাধান আজ হাতেনাতে পেলাম। মাঝারিমানের একটু বৃষ্টিতে পুরো শহরটাই পানিতে থৈ থৈ করছে। কী চমৎকার দৃশ্য! এই বৃষ্টি আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিল_ রাস্তাঘাটের সংকট, জ্যাম, যানজট এসব কত সহজেই না দূর করা যায়
ড্রেজিং ব্যবস্থা যেমন আছে এটা নিয়ে ভয় নেই। পানি আরামসে আটকে থাকবে। এখন শুধু দুই নগরপিতার একটু নজর দেওয়া প্রয়োজন। আমাদের মতো নগরবাসির জন্য রিকশার বদলে ছোট ছোট নৌকার ব্যবস্থা করুন। আমলা এবং উচ্চ বিত্তদের জন্য স্পিডবোট!! মন্ত্রীর প্রটোকল নিশ্চিত করতে স্পিডবোটে উড়বে পতাকা!!
পুরো ঢাকা শহরটাই যখন নৌরুট, তখন মন্ত্রীর স্পিডবোট যাওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা আমাদের রাস্তায় আটকে থাকতে হবে না। জ্যাম নাই! যানজট নাই। কী শান্তি!!!
ঢাকা হবে পৃথিবীর একমাত্র সুজলা নগরি! এই নগর দেখতে পর্যটকের ঢল নামবে।
প্রিয় নগরপিতা একটু ভেবে দেখবেন কী?

প্রযুক্তি সাংবাদিক আল আমিন দেওয়ান লিখেছেন, আমি পাঁচ তলার জানালা দিয়া দেখিতেছি-দোকানীর বিস্কুটের প্যাকেট ভাসিয়া যাইতেছে। মনে হইতেছে ওই বিস্কুটের প্যকেটের জন্যই নেতারা ঢাকাকে এইভাবে ঢাকিয়া দিয়াছেন।

হিটলার এ. হালিম Photo 2

প্রথম আলো পত্রিকার ফিচার রিপোর্টার রাহিতুল ইসলাম রুয়েল লিখেছেন, বৃষ্টি আমাকে হাতে জুতা ধরিয়ে দিয়েছে। বৃষ্টি চলুক অনন্তকাল ধরে..।

Washiqur Rahman Photo

দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার অনলাইন ইনচার্জ এনামুল হক মনি লিখেছেন, বৃষ্টি! আমাকে ভেজাতে পারি নি। তবে ডুবিয়েছে। আমি ডুবেছি, ধুয়েছি গ্রীন সিটির (২ মাসের মধ্যে গ্রীন সিটি হবে শুনেছিলাম) ময়লা-পানি। এই পানিকে এগিয়ে পিছিয়েই আমার জীবন।
যাইহোক, রাস্তার বাসগুলো কোথায় গেল? কেউ আটকেছে কি?

গ্লোবাল ব্র্যান্ড লিমিটেড এর সিনিয়র প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার সোলাইমান আহমেদ জিসান লিখেছেন, আজকের বৃষ্টিতে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা দেখে বলতেই হয় ‘নদীমাতৃক শহর ঢাকা’ বা ‘ঢাকা একটি হারিয়ে যাওয়া নদীর নাম’।

Dhaka Rain-techzoom.tv

সিনিউজ এর সাংবাদিক গোলাম দোস্তগির তৌহিদ লিখেছেন, পানি নিয়ে ভাবনা আর না আর না !
সাথে যদি তিস্তার জল ও চলে আসে তাহলে আমাদের সারা দেশ তো কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত হয়ে যাবে !!
ময়লা পরিস্কার তো কেবল শেষ করলাম, এখন পানি পরিস্কার করুম ক্যামনে?

সাংবাদিক অঞ্জন চন্দ্র দেব তুসার লিখেছেন, আমার কখনো কক্সবাজার যাওয়া হয়নি, ভেবেছিলাম ২০১৬ সালের শুরুর দিকে যাবো। তার আর প্রয়োজন হলো না, ঢাকার শহরে যদি কক্সবাজারের পরিবেশ উপভোগ করা যায় তাহলে কেন কক্সবাজার?
নোংরা পানিতে গোসল করে ২ ঘন্টা চেষ্টার পর বাসায় ঢুকেছি। কক্সবাজারের পানির ঢেউ মানুষের শরীর ভিজিয়ে দেয়, আর আজ রাস্তার গাড়ি পানির ঢেড দিয়ে আমার শরীর ভিজিয়ে দিয়েছে। ঢেউয়ের এমন ভাব মনে হলো কক্সবাজারের ঢেউ। অবশেষে শরীরে জ্বর চলে এল।
এই হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের ঢাকা।

Dhaka-techzoom.tv

সাংবাদিক রোহান হাওলাদার তার স্টাটাসে লিখেছেন, বৃষ্টি নিমজ্জিত ঢাকা। দেখলে বিশ্বাস হয় না। এ ঢাকাতে থাকি। বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পুরো ঢাকা।

দিপ্ত নামের একজন লিখেছেন, আজ ঢাকাবাসীর জন্যে কালো দিবস।

এসএ টিভির ভিডিও সাংবাদিক মো: মিজান কিছু ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, দেখে মনে হতে পারে জোয়ারের পানিতে তলিয়েগেছে, দেশের কোন উপকুলীয় এলাকা বাস্তবতা হচ্ছে…This capital of Dhaka and In front of Hotel Sonargaon Dhaka.

কাব্য আহমেদ নামের একজন লিখেছেন, গ্রীন রোডে সমুদ্রের ঢল।

রোহিত হাসান কিসলু নামের একজন লিখেছেন, ঢাকায় অফিস শেষে যারা বাসায় ফিরছেন বা ফিরবেন। তাদের সবাইকে পানি পথের যুদ্ধে স্বাগতম।

আসলাম হোসাইন নামের একজন একটি ছবি দিয়ে লিখেছেন, জাতীয় সংসদ ভবন কোন নদীর তীরে অবস্থিত?

Aslam Hossain Photo

মাহবুব রতন নামের একজন লিখেছেন, উন্নয়নের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে দেশ!! টিসিবি ভবনে আটকা পড়ে আছি ২ঘন্টা ধরে। বাস, রিকশা আছে, কিন্তু নৌকা নাই ঘাটে!!!

Mahbub Ratan Photo

বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার নিউজ এডিটর লুৎফর রহমান হিমেল লিখেছেন, অন্য আর দশজনের মতো আমিও বৃষ্টিকে ভালবাসি। কিন্তু এই মূহুর্তে, এই যে আমার বাড়ির সামনে কোমরসমান পানি, বৃষ্টির পানি।
এই যে দুই ফোটা বৃষ্টির পানি পড়লে তা নিস্কাশনের উপায় থাকে না, এর কারণ কি?
এটার জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়ারও দরকার নেই। শুধু নিচের পরিসংখ্যানটা খেয়াল করুন…
প্রতিদিন এই শহরে ১০ হাজার টনেরও বেশি বর্জ্য তৈরি হয়। এগুলোর ৬ হাজার টন সিটি করপোরেশন সংগ্রহ করতে পারে। বাকি বর্জ্য আমি, আপনি এবং সবাই মিলে যেখানে সেখানে ফেলি। ফলে ৪ হাজার টন আর সংগ্রহ করা যায় না। সেগুলো বৃষ্টি এলে পড়ে স্যুয়ারেজ লাইনে আটকে যায়। পানি আর তার গন্তব্যে যেতে পারে না।
শুধু মেয়র আনিসুল হক, মেয়র সাইদ খোকন কিংবা সাদেক হোসেন খোকাকে এককভাবে দোষ বা ব্যর্থতার দায় দিয়ে লাভ নেই। দোষ আমাদেরও আছে।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: “উপরের সকল স্টাটাস ‘পাবলিক’ হিসাবে প্রকাশ করেছে ব্যবহারকারী। সেখান থেকেই স্টাটাসগুলো নিয়ে উপরের ফিচারটি তৈরি করা হয়েছে। স্টাটাসের দ্বায়ভার ব্যবহারকারীর নিজের। এক্ষেত্রে টেকজুম ডটটিভি কর্তৃপক্ষ কোন দায়ী থাকবে না। বিশেষ অনুরোধে কারো স্টাটাস তুলে নেয়ার সুযোগ রয়েছে।”

 

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন