ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর সুফলভোগী অপারেটররা, গ্রাহক নয়: মোস্তাফা জব্বার

0

নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// ব্যান্ডউইথের দাম কমলেও সুফল পাচ্ছে না ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। ব্যান্ডউইথের দাম আরেক দফা কমিয়ে প্রতি ১ এমবিপিএস (মেগাবাইট পার সেকেন্ড) ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। আগে ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ছিল এক হাজার ৬৮ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমেছে ৪৪৩ টাকা।

সম্প্রতি ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর পাশাপাশি সেবার মান নিশ্চিত করতেও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

তবে এই দাম কমানোর ফলে কোন সুবিধা পাবেন না সাধারণ গ্রাহকেরা। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এই সুবিধা কার্যকর হবে। এই দাম প্রযোজ্য হবে কেবল ১০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ স্ল্যাবের ক্ষেত্রে।

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম না কমায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ এবং আনন্দ কম্পিউটারসের প্রধান নির্বাহী মোস্তাফা জব্বার বলেন, “ব্যান্ডউইথের দাম কমানোর সুফলভোগী হচ্ছেন অপারেটররা, কিন্তু গ্রাহকরা এর কোনো সুফল পাচ্ছে না। সরকার ৭৮ হাজার টাকা ব্যান্ডউইথের দাম মাত্র ৬২৫ টাকায় নামিয়ে এনেছে, যা যুগান্তকারী ঘটনা। কিন্তু মোবাইল ইন্টারনেটে ব্যবহারকারীরা কোনোভাবেই এর সুফল পাচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভূমিকা খুবই হতাশাজনক। ভয়েস কলের ক্ষেত্রে বিটিআরসি যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে তা ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।”

মোস্তাফা জব্বার ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “সরকার ব্যান্ডউইথের দাম কমিয়েছে, সেটিও আবার ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের জন্য। দেশের বাকি অংশ কি মানচিত্রের বাইরে? প্রধানমন্ত্রী প্রত্যন্ত গ্রামে ইন্টারনেট দিতে বলেছেন এবং তাদের ক্রয়ক্ষমতায় দিতে বলেছেন, অথচ ইন্টারনেট গ্রামের জন্য নয়।

তবে বিএসসিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ার হোসেন জানান, আগে ১ এমবিপিএস ইন্টারনেটের দাম ছিল এক হাজার ৬৮ টাকা। এখন সেটি কমিয়ে ৬২৫ টাকা করা হয়েছে। তবে এই মূল্য আপাতত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে প্রযোজ্য হবে।

মনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ব্যান্ডউইথের দাম কমানো হলে দেশের মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়বে। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জুন মাস নাগাদ মোট ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার কোটি ৮৩ লাখ ৪৭ হাজারে। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা চার কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার, যা গত বছর এই সময়ে ছিল তিন কোটি ৬৪ লাখ ১২ হাজার। দেশে এক বছরে মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার। বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ৯৭ শতাংশ মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ব্যান্ডউইথ কেনার শর্তগুলো শিথিল করা এবং বান্ডেল ৫ জিবিপিএস করলে ভোক্তা পর্যন্ত এই দাম কমানোর সুফল পৌঁছতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন