এই প্রথম মানুষের শরীরে বসল থ্রিডি প্রিন্ট কৃত্রিম মেরুদণ্ড

0

হাড়ের ক্যানসারে ভুগছিল ১২ বছর বয়সী কিন নামের একটি চীনা শিশু। চীনের চিকিত্সকেরা তাঁর চিকিত্সার জন্য বেছে নিয়েছেন অতি আধুনিক একটি চিকিত্সা পদ্ধতি। থ্রিডি প্রিন্টারে প্রিন্ট করা কৃত্রিম কশেরুকা প্রতিস্থাপন করেছেন তাঁরা।

এক খবরে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম এই কশেরুকা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। শিশুটি এখন সেরে উঠছে। ঘটনাটি কয়েক মাস আগের।

কিনের এই সমস্যাকে ‘এউইংস সারকোমা’ বলেন চিকিত্সকেরা যা হাড়ের একটি বিরল ক্যানসার। এই ক্যানসার সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা দেয়।

গবেষকেরা বলেন, ‘এউইংস সারকোমা’ আক্রান্ত কিনের মেরুদণ্ডের হাড়ের কিছু অংশ প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হয়। সাধারণত এ ধরনের অস্ত্রোপচার ও আক্রান্ত হাড় প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে চিকিত্সকেরা টাইটেনিয়ামের টিউব ব্যবহার করে থাকেন। কিন্তু কিনের ক্ষেত্রে চিকিত্সকেরা নতুন কিছু করার কথা ভাবেন। কিনের শরীরে তাঁরা থ্রিডি প্রিন্ট করা কৃত্রিম কশেরুকা প্রতিস্থাপন করেন, যা প্রথমবারের মতো ব্যবহার করলেন চিকিত্সকেরা।

পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থপেডিকস বিভাগের পরিচালক লিউ হোংজুন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি ও আমার স্ক্যান ইঞ্জিনিয়ারিং সফটওয়্যারের বিশেষজ্ঞ দল মিলে কিনের মেরুদণ্ডে প্রতিস্থাপনের উপযোগী একটি রেপ্লিকা তৈরি করেছিলাম। এটা যখন মানুষের শরীরে স্থাপন করা হয় তখন এটি মানুষের শরীরের কাঠামোর সঙ্গে সঠিকভাবে মিলে যায়। আর এতে সুবিধা হচ্ছে, চিকিত্সকদের সার্জিক্যাল সিমেন্ট বা হাড় জোড়া লাগানোর কোনো স্ক্রু লাগাতে হয় না। এর ফলে রোগী দ্রুত সেরে ওঠে এবং সেরে যাওয়ার পরে তাঁর নড়াচড়া করার ক্ষমতাও তুলনামূলকভাবে বাড়ে।’

লিউ বলেন, এই কৃত্রিম কশেরুকা তৈরিতে টাইটেনিয়াম পাউডার ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থোপেডিক প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে টাইটেনিয়ামকেই আদর্শ ধাতু মনে করেন গবেষকেরা কারণ এটি জৈব সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর পাশে হাড় তৈরি হয় এবং এই কৃত্রিম কশেরুকার সঙ্গে তা বন্ধন তৈরি করতে সক্ষম।

গবেষকেরা দাবি করেছেন, থ্রিডি প্রিন্টারে প্রিন্ট করা কৃত্রিম কশেরুকার ব্যবহার মেরুদণ্ডের প্রতিস্থাপন চিকিত্সার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন