নিজস্ব প্রতিবেদক, টেকজুম ডটটিভি// মোবাইল ফোন ভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যমে তাদের নির্ধারিত নিবন্ধন ফরম পূরন করে নিবন্ধন করার পরও বিনা নোটিশে হঠাৎ নিবন্ধন বাতিল করে দেয়ায় গ্রাহকদের বিপাকে পড়তে হচ্ছে।

বিকাশের হেল্প লাইনে (১৬২৪৭) ফোন করেও সমস্যার সমাধান না হওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।

সহজে টাকা আদান-প্রদানের জন্য ব্রাক ব্যাংকের মোবাইল ফোন ভিত্তিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহক সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, হয়রানিও তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বুধবার (২ সেপ্টম্বর) সন্ধ্যার দিকে টেকজুম ডটটিভি’র হটলাইনে ফোন করে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি পড়ুয়া ছাত্র মিরাজুল ইসলাম জানালেন, বিকাশের নির্ধারিত এজেন্ট থেকে গ্রাহক নিবন্ধন ফর্ম পূরণ করে আমার নাম্বারটি বিকাশ করি। সেসময়ে আমার ছবি ও জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বারসহ তার ফটোকপি সংযুক্ত করেছিলাম। এক বছর আগে আমার নাম্বারটি বিকাশ করি।

২ সেপ্টম্বর বিকালে আমার নাম্বারে একটি নাম্বার থেকে কিছু টাকা আসার কথা ছিল। যিনি টাকা পাঠিয়েছেন তিনি ফোন করে আমাকে জানালেন, টাকা পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আমি কোন ম্যাসেজ পাইনি। তাকে ফোন করে বললাম, আমার ফোনে কোন ম্যাসেজ আসেনি।

এদিকে আমার ফোন থেকে আগের সব ম্যাসেজ ডিলিট হয়ে যাওয়ায় সর্বশেষ ব্যালান্স কত ছিল তা আমার মনে নেই। তাছাড়া সর্বশেষ ব্যালান্সও আমি দেখতে পারছি না। সার্ভিস ডাউন দেখাচ্ছে বারবার। এমন অবস্থায় আমি বিকাশের হেল্প লাইনে (১৬২৪৭) ফোন করে আমার নাম্বারে সর্বশেষ কোন নাম্বার থেকে কত টাকা আসছে তা জানতে চাই।

কাস্টমার কেয়ার থেকে আমার জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার চাওয়া হয়, আমি তা দেই। তারা বলছে, আপনি নাম্বার ভূল বলছেন। আমি ঘাবড়ে যাই। এটাতো আমারই জাতীয় পরিচয় পত্রের নাম্বার। কেন ভুল হবে! এমন অবস্থায় কল কেটে দেয়।

কাস্টমার কেয়ারে আবার ফোন দিলে একই ভাবে আমার সর্বশেষ ঢাকা উত্তোলনের পরিমানটা জানতে চায়। আমার ফোনে লোড দেয়ার পরিমানটা বলি। কিন্তু তাও মিলছে না বলে জানায়। এরপর ফোন কেটে দেয়।

এরপর আবার ফোন দিলে বলে, আপনি সব সঠিক তথ্য নিয়ে আবার ফোন দেন।

ততক্ষণে আমার মাথা গরম হয়ে গেছে। আমি হতাশ! বিকাশের কাস্টমার কেয়ারে এতোবার ফোন করেও আমার সমস্যার কোন সমাধান পাইনি।

উপরের ঘটনার মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটে চলেছে আমাদের চারপাশে থাকা বিকাশ ব্যবহারকারীদের। বিনা নোটিশে টাকা লেন-দেন বন্ধ, সিস্টেম ডাউন, গ্রাহক নিবন্ধন বাতিল এবং কাস্টমার কেয়ার হয়রানির শিকার প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

জানা গেছে, বিকাশের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার মিরপুর এলাকায় বিকাশের এক এজেন্ট (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, গ্রাহকের পূরণকৃত ফরম, ছবি ও আইডি কার্ডের অনুলিপি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হীনতা এবং অদক্ষতার কারনে কম্পিউটারে সঠিক ভাবে এন্ট্রি না হওয়ায় গ্রাহকদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে বিকাশকে ঘিরে রয়েছে আরও অভিযোগ। বিকাশকে ঘিরে প্রতারণার জাল ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। গড়ে উঠছে বড় ধরনের সিন্ডিকেট চক্র। সে কারণে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না বিকাশের মাধ্যমে হওয়া নানা প্রতারণা, বন্ধ হচ্ছে না গ্রাহক হয়রানি। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দক্ষ কায়দায় কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বিকাশের মাধ্যমে। বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণাকারীদের খপ্পর থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কোন শ্রেণী-পেশার মানুষ। প্রতারণার শিকার হয়েছেন অবসরে যাওয়া উচ্চ পর্যায়ের সরকারি চাকরিজীবী, সেনা কর্মকর্তা, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও সুশীল সমাজের সদস্যরাও।

মন্তব্য করতে লগইন করুন অথবা নিবন্ধন করুন